সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আগামী রবিবার (১১ আগস্ট) থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা বিদ্যাসাগর সেতুতে (Vidyasagar Setu) বড় ধরনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে চলেছে। কলকাতা ও হাওড়া পুলিশের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই সেতু দিয়ে কোনও ভারী বা মাঝারি পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। মূলত কোনা এক্সপ্রেসওয়ে (Kona Expressway) সংলগ্ন সাঁতরাগাছি এলাকায় চলমান ছয় লেন সম্প্রসারণ কাজের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের মতে, রাস্তায় যানজট এড়াতে ও দুর্গাপুজোর আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
যান নিয়ন্ত্রণের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতা থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের (NH-12) দিকে যাওয়া পণ্যবাহী ট্রাক, লরি ইত্যাদিকে বিদ্যাসাগর সেতুর বদলে বিকল্প রুটে যেতে হবে। এই যানবাহনগুলোকে টালা সেতু (Tala Bridge), বিটি রোড (BT Road) ও নিবেদিতা সেতু (Nivedita Setu) হয়ে চলাচল করতে হবে। ফলে মূল সেতুতে ভারী যান চাপ কমে ছোট গাড়ি ও ব্যক্তিগত পরিবহনের জন্য রাস্তা আরও ফাঁকা থাকবে বলে আশা করছে প্রশাসন। তবে, গ্যাস সিলিন্ডারবাহী (LPG Cylinder Carrier) ট্রাক, জ্বালানি বহনকারী ট্যাঙ্কার, ওষুধ, দুধ, অক্সিজেন, মাছ, সবজি এবং ফল বহনকারী পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার জন্য জরুরি পণ্য পরিবহন চলমান থাকবে। আগে দুপুরবেলা কিছু মাঝারি ও হালকা পণ্যবাহী গাড়িকে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কলকাতায় ঢোকার অনুমতি থাকলেও, এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর তা আপাতত বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার লালবাজারে (Lalbazar) এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা (Manoj Verma) ও হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী (Praveen Tripathi) এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেন। তাঁরা জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাওড়ার সিপি প্রবীণ ত্রিপাঠীর কথায়, “বর্তমানে সাঁতরাগাছিতে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ছয় লেনের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এর ফলে সাঁতরাগাছি উড়ালপুলের উভয় দিকেই প্রচুর যানজট তৈরি হচ্ছে, আর রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারী যান চলাচল আরও সমস্যা বাড়াচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “সামনেই দুর্গাপুজো। এই সময়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে যেন কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই দুই শহরের পুলিশ যৌথভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ছোট গাড়ি যাতে যানজটে না আটকে যায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা ভারী পণ্যবাহী যান অন্য পথে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

পুলিশ সূত্রে খবর, মূলত কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর ভারী যান চাপ কমানোর জন্যই এই কড়াকড়ি। ছোট গাড়িগুলি কোনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে কতদিন পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কাজের অগ্রগতি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এদিকে, পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ সাময়িক হলেও দুর্গাপুজোর আগে যানজট কমাতে কার্যকর হবে। কারণ, দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করেন, এবং শহরের সড়কগুলো এমনিতেই ভিড়ে ঠাসা হয়ে যায়। ভারী পণ্যবাহী যানগুলোকে বিকল্প পথে পাঠানো হলে মূল সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের চাপ অনেকটাই কমবে।
যাত্রী ও ড্রাইভারদের জন্য পুলিশের তরফে অনুরোধ, রবিবার থেকে যাত্রা পরিকল্পনা করার সময় এই নতুন রুট পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখার। ইতিমধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, টোলপ্লাজা ও সেতুর প্রবেশমুখে সাইনবোর্ড এবং নির্দেশিকা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত টিম মোতায়েন থাকবে যাতে নতুন নিয়ম কার্যকরীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। উল্লেখ্য, এই নতুন যান নিয়ন্ত্রণ নীতি কার্যকর হলে শুধু দুর্গাপুজোর সময় নয়, দৈনন্দিন যাতায়াতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন শহরের মানুষ। তবে, রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তবুও, আপাতত দুর্গাপুজোর আগে শহরের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে একমত অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Xi Jinping, SCO Summit 2025 | ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন দিগন্ত? SCO সম্মেলন ঘিরে তিয়ানজিনে মোদী সফরে আশাবাদ বেজিংয়ের




