Uttarakhand cloudburst, Rudraprayag Chamoli flood | ফের উত্তরাখণ্ডে বিপর্যয়! রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলিতে মেঘভাঙা বৃষ্টি, বহু ঘরবাড়ি ভেঙে ধ্বংসস্তূপে আটকে অনেকে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দেহরাদুন : উত্তরাখণ্ডে ফের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে। শুক্রবার ভোরে মাত্র ক’য়েক ঘণ্টার তীব্র বর্ষণে রুদ্রপ্রয়াগ (Rudraprayag) ও চামোলি (Chamoli) জেলায় সৃষ্টি হয় প্রবল জলবদ্ধতা ও ধস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ অতি প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে বহু ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন একাধিক মানুষ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অলকানন্দা (Alaknanda) এবং মন্দাকিনী (Mandakini) নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে চলেছে, আর সেই জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে কেদারনাথ (Kedarnath) উপত্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। নদীর জল এবং ছোট ছোট নালাগুলি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী (Pushkar Singh Dhami) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অত্যধিক বৃষ্টির কারণে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন। আমরা ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছি। প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ও প্রতিটি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিককে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রুদ্রপ্রয়াগের বাসুকেদার (Basukedar) ও চামোলির দেবল (Dewal) এলাকায়। স্থানীয়দের কথায়, মাত্র ক’য়েক মিনিটের বৃষ্টিতেই পাহাড়ি এলাকায় ছোট ছোট নদী-খাল ভেসে উঠেছে। দেবল এলাকায় ভয়াবহ জলে ভেসে গিয়েছেন এক দম্পতি। বহু চেষ্টা করেও তাঁদের খোঁজ মিলছে না। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও অন্যত্র আটকে পড়া মানুষদের বিষয়ে এখনও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছবি: প্রতীকী

রুদ্রপ্রয়াগের হনুমান মন্দির (Hanuman Mandir) ডুবে যাওয়ায় ধর্মীয় আবেগে আঘাত লেগেছে এলাকার বাসিন্দাদের মনে। অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে, তাঁদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের কথায়, ‘এভাবে একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। ঘরবাড়ি, জমি, ফসল সব হারিয়ে আমরা পথে বসার উপক্রম।’ ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, হঠাৎ মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা এখন উত্তরাখণ্ডে ক্রমশ বেড়েই চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবেই এই ধরনের প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়ছে বলে মত আবহবিদদের। অন্যদিকে, উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে যাচ্ছে ত্রাণসামগ্রী। তবে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামায় দ্রুত পৌঁছতে পারছে না উদ্ধারকর্মীরা।

রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষভাবে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে প্রতিটি জেলাশাসককে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে নদীর জল বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।কেদারনাথ উপত্যকার সেতু ভেসে যাওয়ায় তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার নামানো হবে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর।

এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদের মধ্যে। উত্তরাখণ্ডের বহু এলাকায় এখন পাহাড় ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভরকেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সেনার সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আপাতত উদ্ধারকাজে জোর দিচ্ছে প্রশাসন। তবে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উত্তরাখণ্ড আবারও এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়াল।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : “Aami Uttam” PDF’s Shorts 3.0: A Cinematic Tribute to Uttam Kumar

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন