সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : যুক্তরাষ্ট্রে (USA) যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ভিসা নীতির জেরে ভারতীয়দের অসুবিধার বিষয়টি এবার সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো (Marco Rubio) -এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বৈধ ভ্রমণকারীদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এই ইস্যু ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রবিবার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ। কিন্তু বর্তমানে বৈধ ভাবে আমেরিকায় যেতে চাওয়া অনেকেই ভিসা পেতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।’ তিনি জানান, এই বিষয়টি তিনি রুবিয়োর সামনে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছেন।
জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং গবেষণার ক্ষেত্রে যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়া জরুরি। তাঁর কথায়, ‘আমরা অবৈধ যাতায়াত রোধে একসঙ্গে কাজ করছি। তবে সেই কারণে বৈধ যাত্রীরা যাতে সমস্যায় না পড়েন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ অন্য দিকে, এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো পরিষ্কার জানান, নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট দেশ নয়। তাঁর কথায়, ‘এই পরিবর্তন ভারতের বিরুদ্ধে নয়। গোটা বিশ্বের জন্যই একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বর্তমানে একটি পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছি, তাই কিছুটা অসুবিধা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’
রুবিয়ো জানান, যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে চাইছে। তাঁর বক্তব্য, ‘গত কয়েক বছরে প্রায় দুই কোটি মানুষ অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেছে, যা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই নতুন নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভিসা ক্যাটেগরি যেমন এইচ-১বি (H-1B), এফ-১ (F-1), এবং জে-১ (J-1) সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রুবিয়ো বলেন, ‘এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।’ তিনি দাবি করেন, ‘যাঁরা বৈধ ভাবে কাজ, পড়াশোনা বা উদ্ভাবনের জন্য আমেরিকায় যেতে চান, তাঁদের জন্য ভবিষ্যতে আরও সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি হবে।’
ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে বিশেষ করে পড়ুয়া, আইটি পেশাদার এবং গবেষকদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসার উপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন নিয়মের প্রভাব সরাসরি তাঁদের উপর পড়ছে। সম্প্রতি ভিসা সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ অপেক্ষা, নথিপত্র যাচাইয়ের জটিলতা এবং অনুমোদনে বিলম্ব নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘মানুষের যাতায়াতই আমাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সেই জায়গায় যদি জটিলতা তৈরি হয়, তা হলে দুই দেশের সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে।’ তাঁর এই মন্তব্য কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। অন্য দিকে, রুবিয়োর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিবাসন কাঠামো নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময়েই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদী এই পরিবর্তন ইতিবাচক ফল দেবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এই ভিসা ইস্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা দ্রুত কাটানো প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার উপর নজর থাকবে ভারতীয়দের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi cabinet meeting 2026 | মন্ত্রিসভায় মোদীর তিন দিশা: জ্বালানি সঙ্কটের সতর্কবার্তা, দ্রুত প্রশাসন ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য সামনে


