বসুধা চৌধুরী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আজকাল অনেকেই নিজেদের ওয়াড্রোবের প্রধান অংশ হিসেবে টাইট পোশাক (Tight Clothing) রাখেন। স্কিনি জিন্স, লেগিংস, বডি-হাগিং ড্রেস এই ধরনের পোশাকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মবিশ্বাস পান অনেক মানুষ। তবে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ফ্যাশনের এই আড়ালে অজান্তেই শরীরের উপর নীরব নির্যাতন ঘটছে। টাইট পোশাকের দীর্ঘকালীন ব্যবহার শরীরের বিভিন্ন অংশে চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে কোমর, ঊরু এবং তলপেটে চাপ পড়লে রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় স্কিনি জিন্স বা টাইট ট্রাউজার পরলে পায়ে ঝিনঝিনে ভাব, অসাড়তা, স্নায়ুর সমস্যাও হতে পারে। নিউরোলজিস্টরা (Neurologists) জানাচ্ছেন, নার্ভ চাপের কারণে পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া, ঝিম ঝিমে ভাব এবং দীর্ঘ সময়ে চরম ক্ষেত্রে স্নায়ু ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা (Dermatologists) বলছেন, টাইট পোশাক ত্বকের প্রধান শত্রু। টাইট কাপড়ের সঙ্গে ঘষা লাগার কারণে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, র্যাশ, ব্রণ ও চুলকানি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বের হওয়া বন্ধ হলে ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ে। একাধিক গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে, টাইট সিন্থেটিক পোশাক দীর্ঘ সময় পরলে স্কিন ইনফেকশনের সম্ভাবনা প্রকট হয়।

মহিলাদের ক্ষেত্রে (Women) টাইট পোশাকের প্রভাব আরও বেশি। গাইনোকোলজিস্টরা (Gynecologists) জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত টাইট জিন্স বা অন্তর্বাস পরলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) এবং ইস্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ টাইট পোশাকে হাওয়া চলাচল করতে পারে না। বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা নিয়মিত টাইট পোশাক পরেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই এই ধরনের সমস্যার শিকার। শুধু বাইরের অংশ নয়, টাইট জামা পেটের ভিতরেও চাপ সৃষ্টি করে। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা (Gastroenterologists) জানাচ্ছেন, খুব আঁটসাঁট জামা বা জিন্স পেট এবং কোমরে চাপ তৈরি করে, যা অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস, বুক জ্বালা ও বদহজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার পর টাইট পোশাক পরলে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়।
পুরুষরাও (Men) টাইট পোশাকের প্রভাবের দিক থেকে বাদ নয়। বিশেষ করে টাইট আন্ডারওয়্যার বা জিন্স দীর্ঘ সময় পরলে তাপমাত্রা বেড়ে স্পার্ম কাউন্ট কমতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা, তবে এই বিষয়টি এখনো গবেষণার আওতায় রয়েছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সারাদিন খুব টাইট পোশাক পরা উচিত নয়। মাঝে মাঝে ঢিলেঢালা পোশাক পরা, সুতির বা হালকা কাপড় ব্যবহার করা, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার সময় টাইট পোশাক এড়ানো, এসব সতর্কতা নিলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া, যদি স্কিনে সমস্যা দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের ধরন পরিবর্তন করা উচিত।
ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আগে একবার ভাবা উচিত, আপনি কী নিজের শরীরকে অজান্তেই বিপদে ফেলছেন? স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ফ্যাশন এবং স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারলেই সত্যিই টাইট পোশাক উপকারী হতে পারে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে যদি পরিমিতি ও সঠিক ব্যবহার না হয়। টাইট পোশাকের প্রতি আকর্ষণ অস্বীকার করার নয়, তবে শারীরিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পরিমাণ, হালকা কাপড়, এবং মাঝে মাঝে ঢিলেঢালা পোশাক, এসব মিলিয়ে আপনি নিজের ফ্যাশন এবং স্বাস্থ্য দুটোই রক্ষা করতে পারেন।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : how to brighten a blah day, gratitude journal benefits | মনখারাপের দিনে মনকে ফেরান আলোর ওপর, মনোবিজ্ঞান বলছে এই ছয় অভ্যাসেই বদলে যেতে পারে আপনার দিন




