Thiruvananthapuram BJP win, Kerala municipal election 2025 | কেরল পুরভোট ২০২৫: তিরুবন্তপুরমে বিজেপির জয়, সামগ্রিকভাবে এগিয়ে কংগ্রেস

SHARE:

BJP appoints Baijayant Jay Panda as election in-charge for Assam Assembly elections, aiming for a historic third consecutive victory. অসম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির বড় সিদ্ধান্ত। বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডাকে নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক করে তৃতীয় জয়ের লক্ষ্যে এনডিএ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তিরুবন্তপুরম : কেরলের রাজনৈতিক মানচিত্রে শনিবার যে ছবি ভেসে উঠল, তা রাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য মোড়। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর কেরলের রাজধানী তিরুবন্তপুরম (Thiruvananthapuram) পুরনিগমে ক্ষমতা হারাল সিপিএম (CPIM)। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসে কার্যত পুরনিগম দখলের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। ১০১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৫০টিতে। সিপিএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট এলডিএফ (LDF) পেয়েছে ২৯টি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) ১৯টি এবং নির্দলরা ২টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলায় এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা, কেরলের রাজধানীর প্রশাসনিক ক্ষমতা যাচ্ছে বিজেপির হাতে। এই ফলাফল কেবল একটি পুরভোটের পরিসংখ্যান নয়, তা কেরলের রাজনৈতিক ধারায় এক গভীর বার্তা বহন করছে। তিরুঅনন্তপুরম এতদিন বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে বিজেপির এই সাফল্য স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে এই কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর (Shashi Tharoor) -এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও বিজেপির (BJP) ‘সখ্য’ নিয়ে যে জল্পনা গত এক বছর ধরে চলছিল, তাতে এই ফলাফল নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তিরুবন্তপুরম পুরনিগমে বিজেপির সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) নিজে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর বার্তায় স্পষ্ট, কেরলের মতো রাজ্যে বিজেপির এই অগ্রগতি দলটির কাছে কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নির্বাচনী প্রচার থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রাখা শশী তারুর (Shashi Tharoor) নিজেও ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন : Kolkata High Court Club election results, BJP supported lawyers win | কলকাতা হাই কোর্ট ক্লাব নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত আইনজীবীদের ঐতিহাসিক জয়, ‘পরিবর্তনের হাওয়া বইছে আইনি অঙ্গনেও’ বললেন শমীক ভট্টাচার্য

তিরুবন্তপুরমের পাশাপাশি বিজেপি ধরে রাখতে পেরেছে পালাক্কড় (Palakkad) পুরসভাও, যা তারা ২০২০ সালের নির্বাচনে জিতেছিল। ফলে বামশাসিত রাজ্যে বিজেপির সংগঠনের ভিত যে ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে, সেই বার্তাও মিলেছে। তবে ছবির আর একটি দিকও আছে। রাজধানী হারালেও কেরলের পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে সামগ্রিক ভাবে বড় জয় পেয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)। গত ৯ এবং ১১ ডিসেম্বর দু’দফায় কেরলের পুরসভা ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগণনা। এই নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে মোট ১১৯৯টি স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার জন্য ভোট হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি নগরনিগম (Municipal Corporation), ৮৬টি পুরসভা (Municipality), ১৪টি জেলা পরিষদ (District Panchayat), ১৫২টি ব্লক পঞ্চায়েত (Block Panchayat) এবং ৯৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত (Gram Panchayat)। মোট আসনের সংখ্যা ২২,৫০১। এত বড় নির্বাচনী ব্যবস্থার ফলাফল কেরলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গণনার প্রবণতা অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সামগ্রিক ভাবে এগিয়ে রয়েছে। ছ’টি নগরনিগমের মধ্যে চারটিতেই তারা জয়ী হতে চলেছে। ১৪টি জেলা পরিষদের মধ্যে আটটিতে ইউডিএফ এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে। কোচি (Kochi), ত্রিশূর (Thrissur) এবং কোল্লম (Kollam)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমগুলিতে কংগ্রেস জোট জয়ের পথে। বামফ্রন্ট এলডিএফ জয় পেয়েছে কোঝিকোড় (Kozhikode) পুরনিগমে। গ্রামাঞ্চলে লড়াই অনেক বেশি হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। সেখানে বহু জায়গায় বাম ও কংগ্রেস জোটের মধ্যে কড়া টক্কর দেখা গিয়েছে।আসন সংখ্যার হিসাবে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস জোট ৭,৯০৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। বামজোট পেয়েছে ৬,৫১৩টি এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জিতেছে ১,৪৩০টি আসন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, রাজ্যজুড়ে সাংগঠনিক বিস্তারে এখনও এগিয়ে ইউডিএফ, তবে শহুরে রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানকে আর উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। এই ফলাফল আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সঙ্গেই ২০২৬ সালে কেরলে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। ২০২১ সালে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরেছিলেন সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan)। দীর্ঘদিন পর একটানা দ্বিতীয় মেয়াদে বাম সরকার গঠন করেছিল কেরল। কিন্তু এ বারের পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে তাঁর নিজের জেলা কান্নুর (Kannur) -এর নগরনিগমেও কংগ্রেসের জয় বামেদের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। ইউডিএফ নেতৃত্বের দাবি, এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে রাজ্যের মানুষের মনোভাব বদলাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, ছ’মাস বা এক বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা ভোটেও এই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাবে এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল জয় পাবে। অন্য দিকে বাম শিবিরের দাবি, স্থানীয় নির্বাচনের ফলের সঙ্গে বিধানসভা ভোটের সরাসরি তুলনা টানা ঠিক নয়। তাঁরা মনে করছেন, গ্রামাঞ্চলে এখনও বামেদের শক্ত সামাজিক ভিত্তি অটুট রয়েছে।

উল্লেখ্য, কেরলের এই পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোট রাজ্যের রাজনীতিকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তিরুঅনন্তপুরমে বিজেপির উত্থান যেমন জাতীয় স্তরে আলোড়ন ফেলেছে, তেমনই সামগ্রিক ভাবে কংগ্রেস জোটের সাফল্য বাম সরকারের জন্য সতর্কবার্তা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফলাফল যে কেরলের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Modi unclaimed assets | ৭৮ হাজার কোটি টাকা দাবিদারহীন! জনতার হাতেই টাকা ফেরানোকে বড় উদ্যোগে পরিণত করল কেন্দ্র, সরাসরি বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন