তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হায়দরাবাদ : দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেন তামিল সুপারস্টার থলপতি বিজয় (Thalapathy Vijay)। দীর্ঘ ৩৩ বছরের অভিনয়জীবনের ইতি টানার ঘোষণা করে তিনি জানিয়ে দিলেন, এবার তাঁর সমস্ত মনোযোগ থাকবে রাজনীতি ও জনসেবার কাজে। মালয়েশিয়ায় পরিচালক এইচ. বিনোদ (H. Vinoth) -এর ছবি ‘জন নায়গন’ (Jan Nayagan)-এর অডিও লঞ্চ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করেন বিজয়। তাঁর এই সিদ্ধান্তে যেমন দক্ষিণী সিনেমায় নেমে এসেছে শূন্যতার আবহ, তেমনই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন : Koel Mallick Gives Of A Baby Girl : কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন কোয়েল মল্লিক
মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বিজয় বলেন, রূপোলি পর্দা তাঁকে যে পরিচিতি, ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছে, তার জন্য তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। তবে এখন সময় এসেছে অন্য এক দায়িত্ব নেওয়ার। তাঁর ভাষায়, ‘সিনেমা আমাকে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, আর রাজনীতি আমাকে মানুষের অধিকারের জন্য লড়ার সুযোগ দেবে।’ এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, অভিনয় থেকে সরে গিয়ে জনতার সেবাকেই তিনি জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, থলপতি বিজয়ের অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল অনেক ছোট বয়সেই। মাত্র ১০ বছর বয়সে, ১৯৮৪ সালে ‘ভেত্রি’ (Vetri) ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, এই শিশুশিল্পী একদিন তামিল সিনেমার সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হয়ে উঠবেন। ১৯৯২ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে ‘নালাইয়া থীরপু’ (Naalaiya Theerpu) ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বিজয়। সেই ছবির সাফল্যই তাঁর দীর্ঘ নায়কজীবনের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এরপর গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একের পর এক সুপারহিট ও ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন বিজয়। অ্যাকশন, রোমান্স, সামাজিক বার্তা, সব ধরনের চরিত্রেই সাবলীল ছিলেন তিনি। ‘ঘিল্লি’, ‘পোক্কিরি’, ‘থুপ্পাকি’, ‘মার্সাল’, ‘বিগিল’, ‘মাস্টার’ এই ছবিগুলি শুধু বক্স অফিস কাঁপায়নি, বিজয়কে পৌঁছে দিয়েছে জনতার হৃদয়ের গভীরে। তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ, সংলাপ বলার স্টাইল এবং সামাজিক বার্তামূলক বক্তব্য তাঁকে সাধারণ নায়ক থেকে ‘থলপতি’ উপাধিতে উন্নীত করেছে।
বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী এই তারকার শেষ ছবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ‘জন নায়গন’। এই ছবির অডিও লঞ্চ মঞ্চ থেকেই তিনি জানিয়ে দেন, এটাই তাঁর শেষ অভিনীত সিনেমা। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই ছবির মধ্য দিয়েই আমি আমার অভিনয় জীবনের শেষ ভালোবাসাটুকু আপনাদের দিয়ে যেতে চাই।’ তাঁর এই কথায় আবেগে ভেসে যান উপস্থিত ভক্তরা। অভিনয় ছাড়ার মূল কারণ হিসেবে বিজয় সরাসরি রাজনীতির কথাই তুলে ধরেছেন। গত বছর তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগম’ (Tamilaga Vettri Kazhagam – TVK) গঠন করেন। সেই সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, তিনি কি ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে দূরে সরে যাবেন? অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর দিলেন বিজয় নিজেই। তিনি জানান, ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল লড়বে এবং সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে নিয়োজিত করবেন।
বিজয়ের রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ছবিতে সামাজিক অবিচার, দুর্নীতি, সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের কথা উঠে এসেছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই ছবিগুলিই ধীরে ধীরে বিজয়ের রাজনৈতিক ভাবনাকে স্পষ্ট করেছে। তাঁর বিপুল অনুরাগী বাহিনীও তাঁকে রাজনীতিতে দেখার অপেক্ষায় ছিল। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি অবসর নেওয়ার ঘোষণায় ভক্তদের একাংশের চোখে জল, আবার অন্য অংশের মনে গর্ব, তাঁদের প্রিয় নায়ক এবার সরাসরি জনতার জন্য লড়বেন। অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে বিজয় বলেন, সিনেমার দুনিয়ায় তিনি যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা ঋণ হিসেবে মনে করেন। সেই ঋণ শোধ করতেই তিনি জনগণের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক ন্যায়ের জন্য কাজ করতে চান। তাঁর এই বক্তব্য তামিল রাজনীতিতে নতুন এক আবেগের সঞ্চার করেছে। তবে, থলপতি বিজয়ের অভিনয় থেকে অবসর তামিল সমাজ ও রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়। রূপোলি পর্দার রাজা এবার জনতার দরবারে কতটা সফল হন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দক্ষিণ ভারত।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Zaheer Iqbal prank, hoodie prank viral |হুডির ভিতরে চমক! আবারও জাহির ইকবালের দুষ্টুমি, ভাইরাল মজার প্র্যাঙ্কে হেসে লুটোপুটি সোনাক্ষী সিনহা




