সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত ‘গুন্ডাদমন’ বিল ঘিরে গত কয়েক দিনে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এল। ‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) ফিরিয়ে দিয়েছেন, এমন খবরকে খারিজ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (Press Information Bureau বা PIB)। পিআইবির তথ্য অনুযায়ী, বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলেও এখনও তার চূড়ান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দফতরগুলিতে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে বিলটি রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে, এমন দাবির পক্ষে এখনও কোনও সরকারি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই তথ্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পিআইবির তথ্য প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে যাচাই না-করা খবরের উপর নির্ভর না করার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিলটি রাষ্ট্রপতি ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে যে দাবি ছড়ানো হয়েছে, তা সঠিক নয়। বিলের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে সরকারি তথ্যই গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি জানিয়েছেন।
‘গুন্ডাদমন’ বিলটি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে প্রস্তাবিত ‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’ নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। বিলটির উদ্দেশ্য হিসেবে রাজ্যে অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়টি সামনে রাখা হয়েছে। তবে বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় এর চূড়ান্ত আইনি অবস্থান তৈরি হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে সম্মতি দেননি এবং তা পুনর্বিবেচনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই খবরকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য শুরু হয়। পরে পিআইবি ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমে জানায়, বিলটি এখনও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দফতরগুলির পরীক্ষাধীন। রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে বিল ফেরত এসেছে, এমন কোনও প্রমাণ তারা পায়নি।
সরকারি প্রক্রিয়াটি বোঝার ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য বিধানসভায় কোনও বিল পাস হওয়ার পর নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে সেটি রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠানো হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিলটির ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় স্তরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দফতর বিলটির বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করে। সেই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। বর্তমানে ‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’ -এর ক্ষেত্রে ঠিক সেই পর্যায়ই চলছে বলে পিআইবির তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, বিলটি কোনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি, আবার রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে প্রত্যাখ্যান বা ফেরতও দেওয়া হয়নি। এটি এখনও বিবেচনাধীন। ফলে ‘বিল ফেরত’ এবং ‘বিলের পরীক্ষা চলছে’ এই দুই অবস্থাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণও রয়েছে। জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত আইনে কী ধরনের ব্যবস্থা থাকবে, প্রশাসনের হাতে কী ক্ষমতা থাকবে এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি সুরক্ষা ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে, এসব প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির কাছে বিলটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকর আইনি কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রশ্নও উঠছে না।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিআইবির তথ্য তুলে ধরে দাবি করেছেন, বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে যাচাই না-করা তথ্যের উপর বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল, রাষ্ট্রপতি বিলটি ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে যে খবর প্রচারিত হয়েছে, সরকারি তথ্য তার সঙ্গে মিলছে না। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিলটির প্রশাসনিক অবস্থান। পিআইবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিলটি কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দফতরের পরীক্ষাধীন। অর্থাৎ বিলটির বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতির সম্মতি, পুনর্বিবেচনা বা অন্য কোনও সাংবিধানিক পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ‘গুন্ডাদমন’ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি নিয়েও সতর্কতা তৈরি হয়েছে। কোনও বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলেই সেটি অনুমোদিত হয়েছে, এমন নয়। আবার কোনও বিল দীর্ঘ সময় বিবেচনায় থাকলেও সেটিকে প্রত্যাখ্যাত বলা যায় না। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের আগে বিলটির সাংবিধানিক যাত্রা সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিলটির নাম নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তব্যে এটি ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিতি পেলেও সরকারি নথিতে এর নাম ‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’। ফলে বিলটির প্রকৃত অবস্থান জানতে সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের উপর নির্ভর করাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পিআইবির ফ্যাক্ট চেকের পরে তাই আপাতত যে ছবিটি পাওয়া যাচ্ছে, তা হল যে, বিলটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে পাস হয়ে রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় স্তরে তার পর্যালোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতি বিলটি ফিরিয়ে দিয়েছেন, এমন দাবির কোনও সরকারি ভিত্তি এখনও পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দফতরের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরে বিলটি নিয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই এখন দেখার। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া গেলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পথে এগোতে পারে। আবার কোনও সংশোধন বা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে বিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই।
রাজ্যের জননিরাপত্তা, অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিধি নিয়ে ‘গুন্ডাদমন’ বিল ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিলটির সাংবিধানিক অবস্থান সম্পর্কে বর্তমানে যে তথ্য সরকারি ভাবে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে একটি বিষয় নিশ্চিত রাষ্ট্রপতি বিলটি ফিরিয়ে দিয়েছেন, এমন তথ্য এখনও সরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিলটি রাষ্ট্রপতির বিবেচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির পরীক্ষাও চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : 1400 Fire Department Vacancies in West Bengal | CM Suvendu Adhikari : দমকল দফতরে কর্মী ঘাটতি মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত, ১৪০০ পদে নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর




