সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পূর্ব বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় এসএসসি প্রকাশিত দাগি তালিকা ঘিরে ফের তীব্র চাঞ্চল্য। পূর্ব বর্ধমানের হাটগোবিন্দপুরে অবস্থিত ডঃ ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অমল কুমার ঘোষ (Amal Kumar Ghosh)-এর স্ত্রী সুমনা মল্লিক (Sumana Mallick)-এর নাম উঠে এসেছে ওই বিতর্কিত তালিকায়। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই একদিকে যেমন অস্বস্তিতে পড়েছেন অধ্যক্ষ স্বয়ং, অন্যদিকে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) ও সাধারণ পড়ুয়ারা।
সূত্রের খবর, সুমনা মল্লিক আগে জামালপুরের বেড়ুগ্রাম হাইস্কুলে এডুকেশন বিষয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৬ হাজার প্যানেল বাতিল হওয়ার পর চাকরি হারাতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এবার সরাসরি নাম উঠে এসেছে দাগি তালিকায়। স্বাভাবিকভাবেই গোটা ঘটনার জেরে হাটগোবিন্দপুর কলেজের পরিবেশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর সামনে আসতেই অধ্যক্ষ অমল কুমার ঘোষ চরম অস্বস্তি অনুভব করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে আসতে নারাজ হলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনের প্রতি তাঁর ভরসা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি। আমার বিশ্বাস আইন নিজের মতো কাজ করবে। আমি আইনের দ্বারস্থ হব।” তবে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নিজের কলেজের নাম উঠে আসায় তিনি নিঃসন্দেহে চাপে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শাসকদলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। বর্ধমান ২ ব্লকের টিএমসিপি কনভেনার অর্ণব দত্ত (Arnav Dutta) বলেন, “অধ্যক্ষের স্ত্রীর নাম দাগি শিক্ষকের তালিকায় থাকা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর ফলে কলেজের সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে এরকম নাম জড়িয়ে যাওয়া আমাদের কাছে মেনে নেওয়া কঠিন।” শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। কলেজ ছাত্রী বর্ষা দত্ত (Barsha Dutta) বলেন, “আমরা যে কলেজে পড়াশোনা করি, সেই কলেজের প্রধানের পরিবারের সঙ্গে যদি এরকম দুর্নীতির অভিযোগ জড়ায়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ এবং কলেজের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এই ঘটনায় শিক্ষামহলেও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কলেজ প্রিন্সিপালের পরিবারের নাম উঠে আসা গোটা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক অবস্থানকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ছাত্র মহলের দাবি, দ্রুত এর সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং সত্য উদঘাটন না হলে এই ধরনের অভিযোগ কলেজের সামগ্রিক ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। হাটগোবিন্দপুর কলেজে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে, এই ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় দাঁড়াবে। অনেকেই বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আস্থা তৈরি করতে গেলে এমন অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় কেবলমাত্র ব্যক্তিগত সম্মান নয়, গোটা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিকবার রাজ্যের শীর্ষ আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আদালতের নির্দেশে প্রকাশিত হয়েছে এই দাগি তালিকা, যেখানে একাধিক নাম প্রকাশ্যে আসছে। এই পরিস্থিতিতে প্রিন্সিপালের স্ত্রীর নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও নড়বড়ে করছে বলে মনে করছে অনেকেই। যদিও অমল কুমার ঘোষ এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বিষয়টিকে আইনের হাতে তুলে দিতে চান। তবে রাজনৈতিক মহল থেকে ছাত্রছাত্রী, সবাই বলছে, এই ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের ওপর ভরসা রাখা মুশকিল হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য, শিক্ষা ও নৈতিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে ওঠে, সেখানে এ ধরনের বিতর্কিত নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে গভীর চিন্তার বিষয়। এখন দেখার বিষয়, আইন কী রায় দেয় এবং তদন্তের মাধ্যমে কীভাবে সত্য সামনে আসে। কিন্তু আপাতত পূর্ব বর্ধমানের হাটগোবিন্দপুর কলেজে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই, প্রিন্সিপালের স্ত্রীর নাম কেন এল দাগি তালিকায় এবং এর ফলে কলেজের ভবিষ্যৎ মর্যাদা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubhanshu Shukla first Indian astronaut ISS | প্রথম ভারতীয় নভোচারীর বীরের মতো প্রত্যাবর্তন, লখনউয়ে শুভাংশু শুক্লাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস




