বিনীত শর্মা ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে লোকসভায় পাস হল জাতীয় স্পোর্টস গভর্নেন্স বিল (National Sports Governance Bill), যা ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য (Mansukh Mandaviya) এই বিলকে স্বাধীনতার পর ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংস্কার বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, “এই বিলের ফলে প্রত্যেকে দায়িত্বশীল হবে, প্রতিটি ক্রীড়া সংস্থা সরকারের এক ছাতার তলায় আসবে ও ভারতীয় ক্রীড়ার ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।”
একই সঙ্গে লোকসভায় পাশ হয়েছে জাতীয় মাদক-বিরোধী বিল (National Anti-Doping Bill), যা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ভারতীয় খেলোয়াড়দের জন্য স্বাস্থ্যকর ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। মান্ডব্য জানিয়েছেন, এতদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে এই বিলের বিরোধিতা হচ্ছিল, তবে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অবস্থান ও ক্রীড়াবান্ধব নীতির কারণে এই উদ্যোগ সফল হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রের স্বচ্ছতা ও বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরির জন্য এই বিলকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের লক্ষ্য ২০৩৬ সালে অলিম্পিক গেমস আয়োজন করা, আর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর আয়োজন করতে হলে প্রয়োজন সঠিক কাঠামো, প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা। এই বিল সেই লক্ষ্য অর্জনে অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে।
ক্রীড়ামন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে ১৯৭৫ ও ১৯৮৫ সালেও একই ধরনের প্রয়াস হয়েছিল। ২০১১ সালে ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস কোড’ আনা হয়, যা আংশিকভাবে সংস্কারের পথ খুলে দেয়। কিন্তু ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সম্ভব হয়নি। এবার লোকসভায় এই বিল পাশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভাঙল। এই বিল অনুযায়ী, দেশের সব জাতীয় স্তরের ক্রীড়া সংস্থাগুলি এক ছাতার তলায় আসবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল পাবে। সেই অর্থ কীভাবে পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার হচ্ছে, তা কঠোরভাবে নজরদারি করবে সরকার। এর ফলে অর্থ অপব্যবহার রোধ হবে এবং খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে।

যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) অন্যান্য সংস্থার তুলনায় কিছুটা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। আরটিআই (Right to Information) আইন শুধুমাত্র সরকারি তহবিলপ্রাপ্ত ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে, ফলে বোর্ডের কিছু কার্যক্রম স্বাধীন থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের সব ক্রীড়া সংস্থাকে ন্যূনতম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মানদণ্ড পূরণ করতেই হবে।ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া প্রশাসনের অনেকে মনে করছেন, এই বিল ভারতীয় ক্রীড়ার মানচিত্র বদলে দিতে সক্ষম হবে। এখন আর শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবল, হকি, অ্যাথলেটিক্স, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন বা টেনিস সবক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব পাবে ও উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে।
বিলটি পাশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির কাছে ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। বিদেশি বিনিয়োগ, স্পনসরশিপ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় পদক্ষেপ। অলিম্পিক আয়োজনের পরিকল্পনায়ও আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ে এই বিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিল কার্যকর হওয়ার পর খেলোয়াড় নির্বাচনে পক্ষপাত, অর্থ বরাদ্দে অনিয়ম, এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে অবহেলার মতো সমস্যাগুলি অনেকাংশে কমে যাবে। এর ফলে শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নয়, দেশীয় লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপেও মানোন্নয়ন ঘটবে। উল্লেখ্য যে, ভারতীয় ক্রীড়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি রোধের জন্য এই বিলকে একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে এই সংস্কার কতটা কার্যকর হয় এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sourav Ganguly on Rohit and Kohli | এক দিনের ক্রিকেট থেকে কি সত্যিই সরে যাবেন রোহিত-কোহলি? কী জানালেন সৌরভ?




