SpaceX Dragon, Bone Cell Study | মহাকাশে হাড়ের কোষ গবেষণায় নতুন দিগন্ত, ড্রাগনের কক্ষপথ সমন্বয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

SHARE:

পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (International Space Station-ISS) এ চলছে হাড়ের কোষ সংক্রান্ত যুগান্তকারী গবেষণা। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ যাত্রায় মহাকাশচারীদের হাড় ক্ষয় ও কঙ্কাল গঠনের সমস্যাকে মোকাবিলা করতে এই গবেষণা বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী নাসার (NASA) বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি স্পেসএক্স ড্রাগন (SpaceX Dragon) কার্গো স্পেসক্রাফটের মাধ্যমে আসা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক নমুনা ও উন্নত প্রযুক্তি মহাকাশচারীদের হাতে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে ড্রাগন মহাকাশ স্টেশনের উচ্চতা সমন্বয়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

Follow : https://m.facebook.com/groups/917958662125173/?ref=share&mibextid=NSMWBT

নাসার ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার জনি কিম (Jonny Kim) কিবো ল্যাবরেটরি মডিউলের ভেতরে হাড়ের স্টেম সেল নমুনা নিয়ে কাজ করছেন। মানব দেহের হাড় মহাকাশে কীভাবে অণুস্তরে পরিবর্তিত হয় ও এর ফলে হাড় ক্ষয়ের প্রক্রিয়া কীভাবে ঘটে, তা বোঝার জন্যই এই বিশেষ গবেষণা। সম্প্রতি পৌঁছানো এসব নমুনাকে একটি বিশেষ চিকিৎসা উপাদানের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ শেষে এগুলোকে বিশেষ বিজ্ঞান ফ্রিজারে রাখা হবে ও পরবর্তী সময়ে ড্রাগন স্পেসক্রাফটের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে বিশ্লেষণের জন্য। উল্লেখ্য যে, গবেষণার প্রস্তুতিতে জাপানিজ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা (JAXA–Japan Aerospace Exploration Agency) -এর ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কিমিয়া ইউই (Kimiya Yui) লাইফ সায়েন্স গ্লোভবক্স সক্রিয় করেন। এরপর ইউই একটি কৃত্রিম মহাকর্ষ উৎপাদনকারী ইনকিউবেটর প্রস্তুত করেন, সেখানে সাকে (Sake) নামের ঐতিহ্যবাহী জাপানি পানীয়ের খামির দিয়ে গাঁজন প্রক্রিয়া পরীক্ষা চালানো হয়। দিনশেষে ইউই ডেসটিনি ল্যাব মডিউলে অ্যাক্সিওম ডেটা সেন্টার ইউনিট-১ (Axiom Data Center Unit-1) ইনস্টল করেন। এটি মহাকাশে উন্নতমানের ডেটা প্রসেসিং, স্টোরেজ এবং ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি পরীক্ষায় ব্যবহৃত হবে।

এই মাইলফলক মহাকাশযানের সক্ষমতাকে একটি নতুন মাত্রা দিল। ড্রাগনের ট্রাঙ্ক সেকশনে থাকা ড্রাকো (Draco) ইঞ্জিন ব্যবহার করে কক্ষপথকে প্রায় এক মাইল বাড়ানো হয়। পাঁচ মিনিট তিন সেকেন্ড ধরে চালানো এই ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা এখন প্রায় 260.9 বাই 256.3 মাইল কক্ষপথে ঘুরছে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার জেনা কার্ডম্যান (Zena Cardman) ও মাইক ফিঙ্কে (Mike Fincke) ড্রাগনের ভেতর থেকে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, সরবরাহ ও যন্ত্রপাতি আনপ্যাক করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এরই মধ্যে ড্রাগনের ট্রাঙ্ক সেকশনে লাগানো রিবুস্ট কিট তার নিজস্ব প্রপেলান্ট সিস্টেম ব্যবহার করে কয়েক মিনিট ধরে ড্রাকো ইঞ্জিন চালায়। এর মাধ্যমে মহাকাশ স্টেশনের উচ্চতা বজায় রাখা সম্ভব কি না তা পরীক্ষিত হয়।কার্ডম্যান ও ফিঙ্কে একসঙ্গে পার্মানেন্ট মাল্টিপারপাস মডিউলের ভেতর প্যাকেজ সরানো ও সংগঠনের কাজও সম্পন্ন করেন। কার্ডম্যান পরে কাপোলা রোবোটিকস ওয়ার্কস্টেশনের হার্ডওয়্যার পরিবর্তন ও মেরামত করেন। অন্যদিকে ফিঙ্কে ভবিষ্যতের একটি পদার্থবিদ্যা গবেষণার প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম একত্র করেন। ওই গবেষণার লক্ষ্য মহাকাশে নতুন প্রজন্মের ওষুধ ও উপাদান তৈরির উপায় আবিষ্কার করা।

Follow : https://www.instagram.com/sasrayanews?igsh=dnF6OHI3MWloM3c1

অন্যদিকে, রসকসমস (Roscosmos) এর কমান্ডার সের্গেই রিজিকভ (Sergey Ryzhikov) ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার আলেক্সেই জুব্রিতস্কি (Alexey Zubritsky) সয়ুজ এমএস-২৭ (Soyuz MS-27) স্পেসক্রাফটে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানো তিন মহাকাশচারীর একজন জনি কিমের সঙ্গে জরুরি নির্গমন মহড়া চালান। তারা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সয়ুজে উঠে মহাকাশ স্টেশন ছাড়ার প্রক্রিয়া অনুশীলন করেন। এই মহড়া শেষে রিজিকভ ও জুব্রিতস্কি আরেক সহকর্মী ওলেগ প্লাতোনভ (Oleg Platonov) -এর সঙ্গে বৈজ্ঞানিক কাজ, ব্যায়াম ও স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের ছবি তোলেন। প্লাতোনভ মূলত নাউকা (Nauka) সায়েন্স মডিউলে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা পরিষ্কারের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি এই ধরনের মহড়া মহাকাশচারীদের জরুরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করছে।

Follow : https://x.com/sasrayanews/status/1960565850857201752?t=RYVl-_9ushFgSkhLuk-gIw&s=19

নাসার এক মুখপাত্রের কথায়, “দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ যাত্রায় নভশ্চরদের হাড়ের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই এই গবেষণা ভবিষ্যতের মঙ্গল মিশন কিংবা আরও দূরের যাত্রায় মহাকাশচারীদের সুস্থ রাখুক।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি মহাকাশ গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু হাড়ের কোষ গবেষণাই নয়, খাদ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ কিংবা ডেটা প্রসেসিং সব ক্ষেত্রেই একযোগে পরীক্ষা চলছে, যা মহাকাশে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির পথ আরও সুগম করে তুলছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Astronauts, Shubhanshu Shukla | SpaceX : ৪১ বছর পর ফের মহাকাশে ভারত, শুভাংশুদের নিয়ে উড়ল ‘ড্রাগন’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন