Sasraya News Sunday’s Literature Special | 7th September 2025, Issue 79, Sunday || সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | সংখ্যা ৭৯, রবিবার

SHARE:

সম্পাদকীয় 

যতদূর জানা আছে জীবে ততটা অবাক

সময়ের ঘর বেঁধে বোধ নির্বাক 🍁

🍂মহামিলনেরথা

 

মহামহোপাধ্যায় ডঃ গোপীনাথ কবিরাজ শ্রী শ্রী ঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথদেব

কিঙ্কর বিঠ্ঠল রামানুজ জী

“কাশীধামে দুইজন দর্শনীয় আছেন, একজন তো স্বয়ং বিশ্বনাথ, দ্বিতীয়জন মহামহোপাধ্যায় ডঃ গোপীনাথ কবিরাজ মশাই” —–কথাটি বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্ব্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান, মহামহোপাধ্যায় গোপীনাথ কবিরাজের প্রতি তাঁর অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে।
সত্যি কথা বলতে শুধু ভারতবর্ষেরই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মনীষীরা এসে কাশীধামে উপস্থিত হতেন এই দার্শনিক প্রবরের চরণপ্রান্তে জ্ঞানলাভের সুমহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। এই জ্ঞানসাধকের জ্ঞান শুধু পুস্তকগত ছিল না, যোগিরাজ বিশুদ্ধানন্দ পরমহংসের সুযোগ্য অধ্যাত্ম সন্তান শ্রীমৎ গোপীনাথ জী সাধনবলে যোগমার্গেও উচ্চকোটিতে আরোহন করেছিলেন। যোগ সাধন বিষয়ে তীব্র অনুসন্ধিৎসা থাকায় তিনি ভারতের বহু সাধুসন্তদের কাছেই ছুটে যেতেন, অপর পক্ষে সাধুসন্তদের অনেকেই উপযুক্ত আধার বুঝে সাধন জগতের অনেক গোপন রহস্য তাঁর কাছে খুলে বলতেন। গুণগ্রাহী সীতারাম কাশীধামে গেলেই গোপীনাথজীর সন্ধান নিতেন, অনেকবার তাঁর কাছে নিজে গিয়ে দেখা করে অন্তর্জগতের কথা জানিয়ে আসতেন। বলা বাহুল্য, কবিরাজ মশাই ও অসংখ্যবার সীতারামের পুণ্য সান্নিধ্যলাভের জন্য নানাস্থানে উপস্থিত হয়েছেন, নানা দিব্য প্রসঙ্গে ধন্য হয়ে তাঁর প্রাণের শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গিয়েছেন।
কাশীধামের একটি মিলন কথা, সীতারাম তখন মৌনব্রতী। ১৩৬৯ সাল, ১৭ ই মাঘ। কাশীধামে পদার্পন করেই সীতারাম লিখে জানালেন— গাড়ী নিয়ে চল প্রথমে “বিশুদ্ধ কাননে”। বিশুদ্ধ কাননে প্রবেশ করে গোপাল সহ শিবদর্শন করে সূর্য্যবিজ্ঞানমন্দির পর্য্যবেক্ষণান্তে নবমুণ্ডীর আসনে কিছুক্ষনের জন্য বসে রইলেন। সমগ্র শ্রীতনু ব্যাপী কম্পন শুরু হল। গোপীনাথ কবিরাজ মশাইয়ের সাথে দেখা হতেই লিখে লিখে কথা চলতে লাগল।
সীতারাম— শরীর কেমন? মা কোথায়?
গোপীনাথ কবিরাজ— শরীর ভাল। ঐ যে উনি (অর্থাৎ তাঁর ধর্মপত্নী) আপনাকে প্রণাম করতে আসছেন।
সীতারাম— গত উনিশ মাস মৌনে পুরীধামে মালা তিলক, পূজা প্রণাম ভস্ম পাদুকা সব ছুটে গেল। “যদা যদা ” চলে গিয়ে সব ওঙ্কারে লয় হতে লাগলো।
গোপীনাথ কবিরাজ— সবই তো তিনি। সবই তো একের খেলা। ভাল হয়েছে ও সব গেছে। কে কাকে প্রণাম করবে? এখন একত্বে অবস্থান করছেন।
সীতারাম—-১৩২৪ সাল থেকে আরম্ভ হয়েছে “যদা যদা”। হাতের লেখা বন্ধ হল পুরীর নিঃসঙ্গ মৌনে, ৭ই আষাঢ় থেকে মহাসপ্তমী ১৯ শে আশ্বিন পর্য্যন্ত লিখতে পারতাম না। তারপর “বেদ প্রচার” নামলেন। “বেদ ভগবান” শুরু হয় বোধহয় আটটি প্রবন্ধ নিয়ে। গুরূমা মৌন ভাঙ্গিয়ে বাংলায় আনেন। প্রায় ৪৫/৪৬ দিন তাঁর ইচ্ছামত স্থানে মঙ্গলময় লীলা করলেন এ দেহটাকে আশ্রয় করে।
কখন কখন “যদা যদা” ওঠে। অবিরত “সোহং” নাদ চলছে। শাস্ত্রদৃষ্টে দেখলাম ভ্রমর গুহার নাদ “সো হং”।
গোপীনাথ কবিরাজ— এ সব কাজ শেষের লক্ষণ। বড়ই সুন্দর অবস্থা।
সীতারাম— কাল অপরাহ্নে এক ভাব এসে উপস্থিত হয়। যে ভাবের কথা কখনও কাউকে জানাই নি। “যদা যদা” ছিল মাঝে মাঝে। কাল গাড়ীতে আসবার সময় কেবল “যদা যদা” উঠতে থাকে। নাদে — “সোহং “। নীরব ভাষায় ” যদা যদা “। শ্বাস প্রশ্বাস ওঁকারময়—- এক অবস্থায় চলছে। মাঝে মাঝে আকাশ। এ কি রোগ?
গোপীনাথ কবিরাজ— এ রোগ কি সবার হয়? এই রোগই তো জীবনের কাম্য। পায় কয়জন?
সীতারাম— এ দেহটা তো যন্ত্র। এ নিয়ে আবার কি অভিনয় আরম্ভ করবেন কি জানি? এখন মৃদু “সোহং”, দক্ষিণে মেঘ, “সোহং সোহং ” — আকাশ। এ দেহটাকে নিশ্চল করে রাখার জন্য আনেন নি। জগৎকল্যানের জন্য কর্মযজ্ঞে শীঘ্রই সচল অবস্থা হয়ত আসবে— তারই বুঝি ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
মুশকিল হয়ে গেছে। চিরদিন দেবমন্দির ও সাধু সন্ন্যাসীগণের চরণে দণ্ডবৎ প্রণাম করা অভ্যাস, এখন মাথা নিচু হয় না। কে পেছনে টেনে ধরে। মা ঠাকরুণকেও (গুরুমাতা) প্রণাম করতে পারি না। শ্রীগুরুপাদুকা পুরীতে ছিল, আনালাম পরশু, কাছে যেতে পারছি না।
গোপীনাথ কবিরাজ— শাস্ত্র ছাড়া আপনার অন্য রোগ হবে কেন? চিরকাল শাস্ত্রের মর্য্যাদা দিয়ে এসেছেন। শাস্ত্র সর্বদা আপনার মর্য্যাদা রক্ষা করবে।
১৮ই মাঘ, ১৩৬৯ সাল, শ্রী শ্রী ঠাকুরের কাশী রামাশ্রমে (পাঁড়ে হাভেলী) কবিরাজ মশাই পরদিন এলেন সীতারাম দর্শনে। অধ্যাত্ম প্রসঙ্গ চলতে লাগল।
কবিরাজ মশাই— আপনার “বেদ ভগবান” কিভাবে লেখা হল?
সীতারাম— কলম এর হাতে ছিল মাত্র। এ লেখা অপরের। অবতরণ। কলম ছুঁতে না পারা, গঙ্গাস্নানে বা বিশ্বনাথ দর্শনে গেলে জমে যাওয়া— এ কিন্তু নবব্যাধি। এ রোগ ছিল না।
কবিরাজ মশাই—এখন তো লক্ষাধিক জীব আশ্রয় নিয়েছে?
সীতারাম— ১৩৩০ সালে প্রথম ৪ জন মন্ত্র চায়। বলি, গুরুদেবের আদেশ বিনা দিতে পারি না। গুরুদেব কে জানাই, তিনি বলেন, “মন্ত্র দাও”। তাঁকে নিবেদন করি, “আমারই দুঃখ ঘোচে নি, আমি কি দীক্ষা দোব !” তিনি বলেন, “আমি আদেশ করছি, দীক্ষা দাও। দেওয়া দরকার।” ১৩৩০ সালে প্রথম দীক্ষা দিলাম। ভাবলাম তিনি আদেশ করছেন, বেশ দীক্ষা দিব। তবে নিয়ম থাকল যে ব্রাহ্মণকে নিত্য ত্রি সন্ধ্যা ও এক লক্ষ গায়ত্রী জপের পর দীক্ষা দিব।
মায়েদের (ব্রাহ্মণী ) লক্ষ হরেকৃষ্ণ নাম জপ করে আসতে হবে। তাতেও শিষ্য হয়। তারপর ১৩৪৪ সালে পুরী ধামে মৌন নিলাম। ১৩৪৪ সাল ১০ ই বৈশাখ জগন্নাথদেব জ্যোতির্মন্ডলের মধ্যে সাক্ষাৎ দর্শন দিয়ে বললেন— “যা যা নাম দিগে যা!” বলার পরই হাত খুলে গেল | (অর্থাৎ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দীক্ষাদান শুরু হল।)
সীতারাম— এবার বাংলা ছেড়ে আসবার আগের দিন সংস্কৃত কলেজে গৌরী বাবা (ডঃ গৌরীনাথ শাস্ত্রী) নিয়ে যান। পন্ডিত মন্ডলী যথেষ্ট আনন্দিত হন। খুব স্তব স্তুতি করেন। শাস্ত্রী বাবাকে বলি— “আপনাকে আপনি বলবো, না, তুমি বলবো?” তিনি বলেন, “আপনার যা ইচ্ছা।” প্রার্থনা করেন শাস্ত্রী বাবা— সংস্কৃত কলেজের পন্ডিতগুলোকে বাঁচিয়ে রাখুন, দীর্ঘজীবী করুন। বলি— “তুমি এত শ্রদ্ধা কোথায় পেলে?”. কলেজের প্রতি ঘরে ঘরে ঘুরিয়ে দেখান।
কবিরাজ মশাই— আপনার শরীর নিয়ে শ্রীভগবান বহু কাজ করছেন।
সীতারাম— হাজার হাজার লোক যখন দিনের পর দিন পাগলের মত পিছু পিছু ছুটছে তখন কাজ যে ঠাকুর আরম্ভ করেছেন বেশ বোঝা যাচ্ছে।
কবিরাজ মশাই— পন্ডিতরাও তো আপনাকে প্রায় সকলেই ভালবাসেন, শ্রদ্ধা করেন।
সীতারাম— হ্যাঁ, যোগেন পন্ডিতমশাই (মহামহোপাধ্যায় যোগেন্দ্রনাথ তর্ক সাংখ্য বেদান্ত তীর্থ) ওঁকারকে খুব ভালোবাসতেন। তাঁকে বলি, “জগৎ পাপময় হয়ে গেছে, কিন্তু কই তা তো দেখতে পাই না। সব পাগলের মত এর কাছে ছুটে আসছে, এ শুকনো দেহটার দিকে।” পন্ডিতমশাই বলেন, “সূর্য্য বলে— আমি কখনও অন্ধকার দেখতে পাই না। আপনার সেই রকম কথা হল।”
কবিরাজ মশাই— ঠিকই তো বলেছেন। ভগবনময় হয়ে রয়েছেন। আপনার চোখে সব ভগবৎ বিগ্রহ, আপনার চোখ পাপ দেখতে সমর্থ হয় না। তবে দেখলেই পাপীদের মহামঙ্গল হয়। আপনার কৃপাকটাক্ষে তারা উদ্ধারের পথ পায়। আপনি পাপ থেকে দূরে কিন্তু পাপীদের অতি ঘনিষ্ট আত্মীয়।
সীতারাম— এবারের লেখা “পুরুষোত্তম লীলা” হাতে পড়েছে?
কবিরাজ মশাই— না, দেখি নি।
সীতারাম— তাহলে তো আর্য্যশাস্ত্র, মকারবাবা, ব্রজনাথ গাথা কিছুই পান নি। সেবকদের নির্দেশ দিলেন বইগুলি আনবার জন্য।
কবিরাজ মশাই— জগতের বহু কল্যাণসাধন করবে আপনার গ্রন্থরাজি।
সীতারাম— এখন প্রচার স্পৃহা, বর্ম (শ্রীগুরু পাদুকা) সব কেড়ে নিয়ে জগন্নাথদেব নিজের মত ঠুঁটো করে রেখেছেন। আবার কি করবেন কিছু বুঝি না। এ এক রহস্য, কোন কাজে স্বাধীনতা নাই। ভিতর থেকে নাদে কেবল উঠছে—-“সোহং সোহং”।সীতারাম এবার ধ্যানমগ্ন হবেন। কবিরাজ মশাই বিদায় প্রার্থনা করলেন। সীতারাম তাঁর ধ্যানকক্ষ লোকশূন্য করতে নির্দেশ দিলেন, “যদি কোন অবস্থান্তর আসে তোরা ভীত বা চঞ্চল হোস না, জাগাবার চেষ্টা করিস না। আপনিই জাগরণ আসবে।”
বাহির দুয়ার রুদ্ধ সীতারাম ভিতর দুয়ার মুক্ত হয়ে বসলেন— কতক্ষন কে জানে!🍁

সূত্র : নব নব রূপে এসো | কিঙ্কর বিঠ্ঠল রামানুজ জী

 

 

🍂বিতা 

 

রামকিশোর চট্টোপাধ্যায়-এর একটি কবিতা

আগুন ঘুম

আগুনের শয্যায় শুয়ে ছিলাম
হঠাৎ দেখি জলের শিরা,
বুকের ভেতরে নীরব বিদ্রোহ
ফুটে উঠছে প্রার্থনার মতো।

তুমি কি জানো,
চুম্বনের পরত পরত
কতটা বেদনা জমে থাকে?
অথচ সেই বেদনা থেকেই জন্ম নেয়
এই নতুন বর্ষাকাল…
যেখানে আগুনও ঘুমোয়
ভিজে ঈশ্বরের কোলেতে।

 

তুষ্টি ভট্টাচার্য-এর কবিতাগুচ্ছ

তারপর

১৫.
ঘুম, ঘুম, নিঃঝুম এই মায়াবী রাত
মোহজাল বিস্তৃত তার। চাঁদ সদাগর বাণিজ্যে গেছেন
জাহাজের বিছানায় জোছনায় আকুল তিনি
ঢেউয়ের ওপর হীরের কুচির মতো জেগে আছে চাঁদ
মন খারাপ তাঁর। তাঁর চোখে ঘুম নেই
নিদ্রার দেবী বড়ই চঞ্চল, তিনি গেছেন ভিখিরির ঘরে।
চালার ছিদ্র দিয়ে মোহজাল বিস্তার করেছেন চন্দ্রমা।

সুখ ম্রিয়মাণ বুঝি আজ? আধভাজা পিঁয়াজের মতো জেগে আছে
শুধু ছন্নছাড়া মতিভ্রম কিছু আর ক্লেশের কদর্য কাঁকর।
তারা চিরজাগ্রত। আজ বৌদ্ধ পূর্ণিমা বোধহয়।
আজ বুঝি বুদ্ধের পরিনির্বাণ হল? জন্ম হল নববুদ্ধের?
সুখের দিন সমাগত বুঝি? দুখের দিন হ্রাস পেতে পেতে
কবে যে অদৃশ্য হবে, এই প্রশ্নের মুখে পড়েছি আমি।
তারপর কী যে হল…
পলায়নরত আমার পৃষ্ঠদেশে কারা যেন সজোরে নিক্ষেপ করল
অতিকায় বজ্রনির্ঘোষ! আমি মরে গেছি তবে! বেঁচে আছি এই ভ্রমে
এখনও পালিয়ে চলেছি কোন দিকে?

তারপরের গল্প আমার জানা নেই।
পৃষ্ঠা জুড়ে নিরুদ্দেশ বিজ্ঞাপনে সারি সারি মুখ
হারিয়ে গেছে যারা চাঁদের দেশে, তারাই অচেনা বুদ্ধ!

১৬.
দারুহরিদ্রার দেশে যাব
যাব মধুময় বুকে, যাব দূরদেশে যেখানে
আজও শুধু হৃদয়ের কারবার ঘটে বিনা আয়েসে।
না চাইতেই প্রেমের দেবতা এসে বর দেবে—চিরসুখি হও!
এমন সে দেশের কথা শুনেছ তোমরা?
যেখানে শাখে শাখে কুহু ডাকে, মধুলোভি ভ্রমরের বেসাতি
দেখে লাজে রাঙা হয় ওই কনেবউটি!

সেই দেশে যাব আমি, নির্বিকার থেকে যাওয়া আর তো চলে না!
নদী বয়, সুমিষ্ট বাতাসে ভেসে আসে শঙ্খধ্বনি
আজানের সুরও কানে আসে যথারীতি
পাতাগুলি কেঁপে ওঠে, কোন ভ্রমে, জানো?
শনশন হাওয়া আর ঝড়ের তফাৎ গুলিয়ে ফেলেছে
উৎপাটনের ভয়ে শঙ্কিত বৃক্ষের বয়স্ক পত্র তারা।
মৃদু, অতিমৃদু আর ভীষণ হুঙ্কারের বিভেদ ভুলে গেছে!

তারপর কী হল শোন তবে!
প্রেমমত্ত সেই দেশে সুবাসের মাঝখানে একখানি একলা কলি
ফুটে উঠল। একা একা থেকে যাবে, এই জেদে রয়ে গেল
তারপর, একা একা মরে গেল একদিন।
একাকিত্ব ভীষণ এক অতিকায় ভার, বহন করা তত সহজও নয়।

১৭.
খাদক ও খাদ্যের ভেদাভেদ ভুলেছে পানীয়
সে অটল তার তারল্যে, মজুদ রসদ যদি ফুরিয়েও যায়
ক্ষুধার প্রাবল্যে হেঁকে উঠবে তাবৎ জীবকুল।
তখনই তার জীবনীশক্তি ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়বে
অমৃতসমান। সুধা, ওহে সুধামূর্তি! তুমিও কঠিন হও তবে
নিরেট সাকার এক শালপ্রাংশু রূপে স্থবির হও।
ধীরে ধীরে ঝরিয়ে দিও পত্রাবলি, বাতাস লাগুক প্রাণে!

তারপর একে একে আসে মধ্যবর্তী সময়, বসুন্ধরা ও ঝড়ের উপাখ্যান।
সময় বড় নিন্দুক, রটনায় বিশ্বাসী। সারল্যের প্রতিমূর্তি সে।
বসুন্ধরা যথারীতি স্থির ও প্রাজ্ঞ। ওদের মিলমিশ নেই।
ঝড় এসে দুজনকয়ে মিলিয়ে দেয়, এই উপাখ্যানে কোনও
রোমাঞ্চ খুঁজো না! ভয়াল, রোমাঞ্চকর, ভৌতিক উপন্যাস
পড়তে যদি চাও, এসো আমার কাছে। আমি তুলে দেব আজকের
জবরদস্ত জনপ্রিয় সেই কিতাবের কয়েকটি পৃষ্ঠা।
যার প্রতি অক্ষরে লেখা মিথ্যের কেরামতি আর অবাস্তব
কোনও কাল্পনিক কাহিনি। পড়বে তুমি?

১৮.
তারপর?
তারপর সেই কিতাবের গল্প বলি তবে।
পাতায় পাতায় তার লেখা আছে মৃত্যুভয়
আর আছে হাস্যকর এক যাদুটোনার রূপরেখা
রূপকথা নয় সে, রূপের বিভায় মোহিত হয় না কেউ তার
শুধু ভয় পায়! কথা সে তো কথা নয় নিছক,
ধারে ও ভারে তার কাটতি উভয়দিকে।
রক্তপাত, হিংসা ও অবৈধ যৌনতায় ভরা সেই কিতাবে
তবুও রয়েছে অপার সুখ! যে সুখের নাম মিথ্যা!

কল্পনাকে অলীক নামে ডেকো তুমি, মিথ্যের নাম ওই একটাই।
তার একটাই জামা, একটাই ভেক। সহজে তার মুখ মনে পড়ে না
এমনই সেই ছায়া মুখ, এমনই সেই সুখী চেহারা।
মায়ানগরীতে যাই চল! ওখানে এখনও রয়ে গেছে বিন্ধ্যাচল
যার গায়ে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সূর্য কিরণ আর চাঁদের দেশ।
তারপর নাহয় যাওয়া যাবে অরুণার কাছে।
করুণ নয় সে, চলাচল অবাধ তার, মহিমাও অপার।

১৯.
অরুণাচল সীমান্তে পৌঁছতে চাও?
পাহারা জেগে আছে। দুইপারে দুই দেশ আর অসীম তর্জা!
প্রকৃতির তত মাথাব্যথা নেই তাতে, অকৃপণ সে
দেদার বিলিয়ে দেয় সবুজের সমারোহ আর করুণার আখর
দেখার চোখ মেলে যারা দ্যাখে, তারাই ভ্রামক,
বজ্রকঠিন মুষ্টিতে ধরে রাখে জীবন তোমার।

নাম বদলে দিয়ে মুছে দিতে চায় ওরা ভৌগোলিক রেখা
দখলদার ওরা, এই পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় লিখে দিতে চায়
নিজেদের অধিকার। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ওরা টিঁকে আছে
জন্মান্তর নিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে গেছে
ওদের একটাই নাম—দখলদার! ওদের একটাই মুখ—ক্রুর!

তারপর পাহাড়ি নদী বয়ে গেছে কুলুকুলু, ফুলের সুবাস ছেয়েছে
উপত্যকায়, তুষার ধবল পর্বতশৃঙ্গ সূর্যচন্দ্রের অশেষ করুণায়
আজও রঙিন হয়, আকাশে ঢেউ ওঠে মেঘের সাগরে।

 

আমিনা তাবাসসুম-এর একটি কবিতা 

আগুন থেকে জলারণ্য

বিরহ একটা শুঁয়োপোকা
কামড়ায়, তোলপাড় করে
যেভাবে তুমি করো
নীরদ জল হয়ে

এক একটা চুম্বন
সারারাত আমাকে ঘুমোতে দেয় না

কানের কাছে ফিসফিসিয়ে উঠে আসে
বৈষ্ণবী দেহতত্ত্ব
পুড়তে পুড়তে কনকলতা
আফিম আর
মহুয়ার গন্ধ

ব্রহ্মতালু পর্যন্ত শুকিয়ে উঠেছে
বর্ষার মরশুম
অথচ

অথচ আগুন থেকে ঠোঁটের ঈশ্বর
আগুন থেকে জলারণ্য
ছুঁতে ছুঁতে বিভোর হয়েছি

এবার যা কিছু হোক
ধ্বংস অথবা গোলাপজল
তুমি মুদ্রায় মুদ্রায় বিদ্যুৎ দাও

ঝড় হোক, তাণ্ডব নৃত্যে
বরফ, শালুক, কচুরিপানা

ঈশ্বরের বিদ্রোহ দেখুক
ভিজে একসা
সঙ্গমী আবদার…

 

 

মৃণালকান্তি দাশ-এর একটি কবিতা 

বিদ্রোহী পদ্ম 

বিরহের কামড়ে
আমার রক্তে জন্ম নেয় আগ্নেয়গিরি,
তুমি আসো কেবল এক ফোঁটা জলে
শীতলতার ছদ্মবেশে।

আমাদের তত্ত্ব
দেবীর ভক্তির মতো পবিত্র নয়,
বরং রুদ্রের তাণ্ডবের মতো
প্রতিটি অঙ্গীকার
বিদ্রোহে ফেটে যায়।

তবু পদ্ম ফোটে অগ্নিস্রোতে, ঝড়ে, ধ্বংসে।
অস্তিত্ব কি তবে শুধুই ভাঙনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়?

 

 

দেবদুলাল ভট্টাচার্যএর একটি কবিতা 

ঈশ্বর

আগুন আমাকে শিখিয়েছে ভয়,
জল শিখিয়েছে ভিজে যাওয়ার ক্ষমতা।
তুমি এলে—
দুয়ের মাঝখানে দাঁড়ানো এক দেবতা,
ঠোঁট থেকে ছড়ালে বিদ্যুতের স্রোত।

আমি ভাবি,
ধ্বংস মানে কি শেষ?
না কি গোলাপজল দিয়ে
পুনর্জন্মের আচার শুরু হয়?

আমাদের মিলন যেন
অরণ্যের গভীরে বজ্রপাত—
এক মুহূর্তে ভেঙে যায় অন্ধকার,
অথচ রেখে যায়
এক উজ্জ্বল নদীর জন্ম।

 

 

রেহানা বীথি-এর একটি কবিতা 

মেলানকোলি

এখন আর সেদিন নেই। চাইলেই নদীটাকে ধরে রাখতে পারি না পিতলের খোরায়।
দেখো,  তুমি আমার যৌবনকে বিচ্ছেদ শেখাতে শেখাতেই কেমন বিকেল হয়ে গেল!
তবুও কি তুমি বলবে,  সবটুকু আমারই দোষ?
আসলে খেয়াল করে দেখো,  দোষ কিন্তু আমাদের কারুরই নয়। বলতে পারো – তবে সময়ের।
তা-ও নয়। সময় তো নিজের মতোই চলে। তবে এটা ঠিক,  সময়ের কড়ে আঙুল ধরে হাঁটতে হাঁটতেই তো আমরা হারাই। মানুষ হারাই,  সম্পর্ক হারাই,  প্রেমের তীব্রতা হারাই। হারিয়ে ফেলি অতীতের সমস্ত চুম্বন। আমাদের ঠোঁটজুড়ে শুধু অভুক্ত অস্ত্রের আঘাতের দাগ। মনজুড়ে তীব্র প্রতিহিংসা।

 

 

মিতা নূর-এর একটি কবিতা 

তোমাকে পাওয়ার সুখ

হাজার চেষ্টায়ও ভুলতে পারিনি আমি,
এখনো খুব করে খুঁজি স্মৃতির পাতায়,
আমার প্রিয় মুখ।
এখনো আমার হৃদয় ভিজিয়ে দিয়ে যায়,
আমাদের সেই প্রথম দিনের মতোই,
তোমাকে পাওয়ার সুখ।

আমার জীবনের অনেকটা জুড়ে,
ভালোবাসার ছলে, তুমি ছিলে।
কিন্তু কখনোই তুমি, ভালোবাসোনি আমায়,
তবে, অসম্ভব এক মায়ায় বেঁধেছিলে।

এ মায়ার বাঁধন ছিঁড়তে আমি পারবো না কখনোই,
বোধহয় অধিকারটা আমি একটু বেশিই’
চেয়ে ছিলাম।
তাই হয়তো তুমি জিতে গেলে সবটা পেয়ে,
আর আমি, সব পেয়েও, সব হারিয়ে,
আজ আমিই হেরে গেলাম!

 

 

ছবি ধর-এর একটি কবিতা 

তুমি আমি 

খরতাপে অতিষ্ট তুমি আমি
গ্রীষ্মের শুষ্ক জমি।
নগ্ন শিশুরা স্নানের ঘাটে
উত্তপ্ত বালুকা ভূমি।

নদীকে দিও না বাঁধা
ছুঁয়ে যাক অন্তরীপ।
লেলিহান শিখা তপ্ত তটে
জ্বলছে দূরে সন্দ্বীপ।।

নদীর খোঁজে দুর্দম গতি
আপনি জাগে দ্বীপ।
আঁধারে পেও না ভয়
জ্বলবে সময়ে প্রদীপ।

 

 

গীতা চক্রবর্তী-এর একটি কবিতা 

সরীসৃপ

লকলকে চেরা জিভে অতৃপ্ত খিদে

লাগামহীন পাওয়া অন্যকে হত্যা করে

নিরবচ্ছিন্নতার আফসোস থেকেই যায় ঘোর অর্ন্তঘাতে

ভালোবাসা ফাঁদ পেতে শিকার করে

 

 

প্রিয়তোষ ঘোষ-এর একটি কবিতা 

হোলি খেলা

রং এল ঢং এল রং এল ঐ
সব মিলে কত রং ভালো মানুষ কই!

রং এল রং এল রং এল ঐ
কালো মন, সাদা মন, সৎ মানুষ কই!

রং এল ঢং এল মদিরা এল ঐ
ন‍্যাংটো মানুষ গুলোর পেটে ভাত কই!

রাফাল এল ড্রোন এল, বন্দুক এল ঐ
নীলগ্ৰহে যুদ্ধ এল, শান্তির বানী কই!

রং এল ঢং এল রং এল ঐ
শান্তির দূত তুমি শান্তি দিলে কই!

রাফাল এল অগ্নি এল মিসাইল এল ঐ
মানুষ মেরে হোলি খেলো, মানুষ জাগবেই

 

 

মমতা রায়চৌধুরী-এর একটি কবিতা 

না বলা কথা 

একটু দাঁড়াও তোমাকে অনেক কথা বলার আছে
না বলা কথাগুলো আজ খরস্রোতা নদীর মতো
প্রবল ধারালো হয়েছে
তোমাকে শুনতেই হবে, না কোন কথা আমি শুনবো না
একটু দাঁড়াও। চলে তো যাবেই
সময় তো কারোর জন্য থেমে থাকে না
সময় শুধু জবাব দেয় ঠিক মতন।
আমাকে ঝুঁকে কি দেখতে তুমি
আমার শরীরের সর্বাঙ্গ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে
নাকি শুধুই আপন মনে নির্মাণ করতে শিল্পীর মত
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে
কোন একদিন ভিড়ের বিকেলে
কি স্নিগ্ধতায় তাকিয়ে ছিলে
তখন বোধ হয় সেই স্নিগ্ধ মুহূর্ত টুকুই খুব ভালো লাগছিল
ভ্যাস -ভ্যাসে গরমে আর কিছুই ভালো লাগছিল না
তারপর তুমি নেমে গেলে। আমি তোমাকে খুঁজলাম
কেমন ভিড়ের মাঝে মিলিয়ে গেলে।
তারপর থেকে খুঁজে চলেছি
নদী ,পাহাড়, সমতল সমস্ত জায়গায় তোমাকে খুঁজছি
শুধু মনের ভেতরে জমানো কথাগুলো কুরে কুরে খাচ্ছে
তোমাকে না বললে যেন আমার এই নারীত্বের পূর্ণতা নেই।
আমার ইচ্ছে করছিল তোমার সমস্ত দুপুরের
সময়টুকু বেছে নিয়ে নীরবে তোমার কাছে
অনাঘ্রাতা মুহূর্তগুলি সাগরের ঢেউ এর মত ফুলে ফেঁপে উঠুক
ইচ্ছে করছিল হাওড়া ময়দান থেকে আরো আরো অনেকটা দূর তোমার সাথে যেতে
হোত আমার ট্রেন মিস তাতে কি বা এসে যেত
শান্ত বিকেলের দুরন্ত হাতছানি নিয়ে যেত কোন অচেনা দেশে।
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে
তোমায় কোথায় গেলে পাব।
ভেবেছিলাম নীল খামে চিঠি লিখব
সেই ঠিকানাই আজ খুঁজে পেলাম না।
তোমাকে অনেক অনেক কথা বলার ছিল
আসবে কি সেই সবুজ অরণ্যের হাতছানি দিয়ে
কোন একদিন পড়ন্ত বিকেল
তোমাকে নিজের করে নেব সোহাগ ভরা আদর দিয়ে।

 

 

 

🍂ধারাবাহিক পন্যাস
শুরু হয়েছে আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। কবি তৈমুর খানের জীবন। বাল্য-কৈশোরের দিনগুলি কেমন ভাবে কেটেছিল। মননে চেতনায় কিভাবে বয়ে গেছিল উপলব্ধির স্রোত। কেমন করে প্রকৃতি ও জীবনকে দেখতে শিখেছিলেন। কেমন করে জীবনে এলো ব্যর্থতা। সেসব নিয়েই নানা পর্ব।

 

কটি বিষণ্ণরাতেতারা

তৈমুর খান

 

একচল্লিশ.

যতদিন শরীরের জোশ থাকে, ততদিনই পূর্ণিমা 

মুর্শিদাবাদের সীমান্ত এলাকায় ছিল আমার স্কুলটি। পদ্মার এপারে ভারত, ওপারে বাংলাদেশ। বেশ ক’য়েকটি বিএসএফের ক্যাম্প। এছাড়াও পুরো গঙ্গার ধারে ধারে আমাদেরই কোনো ছাত্রের আম বা লিচুর বাগান। আম বা লিচু কেনার ইচ্ছে হলে শুধু বললেই হল কাটুন ভর্তি করেই চলে আসবে। স্যারের কাছে দামও নেবে কম। বাসে চাপিয়ে দেবে। তারপর রামপুরহাটে নেমে রিকশো বা কোনো গাড়িতে চাপিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে পারলেই হলো। বেশ কয়েকবার এভাবেই আম ও লিচু আনতে পেরেছি। সন্ধেবেলায় বেড়াতে বেরিয়ে গঙ্গার ধারে ধারে সদরঘাটে গেলেই পাওয়া যাবে টাটকা ইলিশ মাছ। সেসব মাছও বেশ কয়েকবার কিনে এনেছি। বাড়ির লোকেরা ছাড়াও আত্মীয়স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীরাও তার স্বাদ পেয়েছেন। এভাবেই গতানুগতিক জীবন কেটে চলেছে। ইতিমধ্যে দু’টি সন্তানও ঘর আলো করে এসেছে। প্রথমটি কন্যা, দ্বিতীয়টি পুত্র। তাদেরকে নিয়েই অনেকটা সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। কোলে নিয়ে বেরোতে হয় গঙ্গার ওপরের ব্রিজে হাওয়া খেতে।
—ওই দেখো নৌকা চলেছে, কত লোক চেপেছে নৌকায়।
—আমাকে একদিন চাপাবে না বাবা? আমার চাপতে খুব ইচ্ছা হয়!
—চাপাবো একদিন। তোমার মাকেও নিয়ে আসবো।
—গঙ্গার ওপারে কী আছে বাবা?
—ওই যে কত ঘোড়াগাড়ি আছে, দেখতে পাচ্ছ? একটা কলেজ আছে। কত বড় বড় বাড়ি আছে!
—ঘোড়া গাড়িতেও আমরা চাপবো। ওরা কিছু বলবে না?
—কেন বলবে? ওরা তো চাপানোর জন্যই অপেক্ষা করছে!
—তাহলে কাল যাব। মাকেও নিয়ে আসবো সঙ্গে। ওপাশে কিসের ধোঁয়া উঠছে বাবা?
—ওই যে দাহ করছে মানুষ।
—দাহ কী বাবা, আমি তো জানি না!
—ওদের লোক মারা গেলে ওরা আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়— একেই বলে দাহ।
—কেন পোড়ায় বাবা, ওদের মায়া লাগে না?
—ওদের ওই রকমই ধর্ম। মানুষ মরে গেলে পুড়িয়ে দিতে হবে।
—একদম ওরা লোক ভালো না। আহারে এভাবে কেউ পোড়ায়!

সীমান্ত এলাকা তাই এমনই বহু নিষিদ্ধ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পুরুষেরা বেশিরভাগই চলে যায় ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে কাজের সন্ধানে। নারীদের হাতে থাকে বিড়ি বাঁধার মতো শিল্প। কিন্তু তাতেও জীবন-জীবিকার সুরাহা হয় না। তখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে হয়। অশিক্ষা কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার নানান গলিঘুঁজিতে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। সেবার সুন্দরী একটি মহিলার লাশ পাওয়া গিয়েছিল গঙ্গার ধারেই।

বছর চারেক বয়স মেয়ের, তবু এত কথা বলে সব কথার উত্তর দিতে পারি না। ওকে কোলে করে নিয়ে আসতে আসতে আব্দুল্লাহ মোল্লার টিফিন মিউজিয়ামে একটু বসি। সেখানেই চা খাই। আব্দুল্লাহ মোল্লা দু’টি বিস্কুট কিংবা চকোলেট এনে দেয় ওর হাতে। মনের আনন্দে ও-খেতে থাকে। তারপর ধ্বনিত হয় মাগরিবের আজান। বাড়ি ফিরে এসে টিভির সামনে বসি। খবরটা দেখে নিই একবার। ছেলেটা ততক্ষণে কোলে এসে বসে।

বিদ্যালয়ে থাকাকালীন কন্ট্রাক্টচুয়াল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক রায়ানকে নিয়ে চলতে থাকে নানা রঙ্গ-রসিকতা। ভারি রোমান্টিক পুরুষ রায়ান। গত মাসে এক বিধবা মেয়ের সঙ্গে তাকে একটা ঘরের মধ্যে ধরে ফেলে গ্রামের মানুষ। গ্রাম্য সালিশি সভায় পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয় তাকে। তার ক’য়েক সপ্তাহ পরেই আরেকটা মহিলার সঙ্গেও এভাবেই তাকে দেখা যায়। এবারেও বত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়। এবার আবার কখন সে ধরা পড়বে এই নিয়েই একটা রসিকতা চলতে থাকে আমাদের। অনেকটা বয়স হলেও সে বিয়ে করেনি। মা-বাবা সবাই গত হয়েছেন। বড় ভাই ও ভাবি তারা অন্য জায়গায় থাকে। তাই সে নিজের অভিভাবক নিজেই। ভিন্ন ভিন্ন মেয়েকে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন টোপ দিয়ে থাকে। আর তারাও তার টোপে এগিয়ে আসে তার কাছে।
—কী রায়ান ভাই, বিয়ে-শাদী হবে না এমনি করেই চালাবে?
—বিয়ে করে তো মাথায় একটা বোঝা চেপে যাবে, বরং এই ভালো আছি।
—এই যে মাসে মাসে টাকা লাগছে? কত টাকা দিয়ে ফেলেছো ইতিমধ্যে!
—তা টাকা লাগুক, নতুন নতুন মেয়েকে পাওয়ার আনন্দই আলাদা। এবার গ্রামের লোকের সামনে আর করবো না, ভিন্ন জায়গায় দেখেছি।
—তা কোথায় দেখেছো জানতে পারি?
শহরেই আছে সেই ব্যবস্থা। শুধু ফ্যালো কড়ি মাখো তেল। লোকে কিছুই করবে না।
—তা এসব করে কি জীবন পার করবে? ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববে না?
—এখনতো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি, তারপর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববো। কত কত বিজ্ঞানী-লেখকরাও তো এই পথেরই পথিক!
রায়ানের কোনও অনুশোচনা নেই, হা-হুতাশ নেই, দিব্যি আমোদেই আছে। ক্লাসে ক্লাসে রাষ্ট্রবিজ্ঞানও পড়াচ্ছে। ঘনঘন জামাকাপড়ও বদলাচ্ছে নিত্যদিন।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রটিকেই তার মা ঢিল ছুঁড়তে ছুঁড়তে দৌড়াচ্ছে আর মুখে বলছে, “টাকা নিতে বারণ করলাম, তবু তুই টাকা নিলি? ওদের ওখানে একবার গেলে আর সহজে ওরা ছাড়ে না! তোকে আজ কেমন শাস্তি দিচ্ছি দ্যাখ!”
ব্যাপারটা কী?
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বিশু আসল কথাটি ব্যাখ্যা করে বলল। ছেলেটি তার মায়ের টাকা নিয়েছে ওইসব বিএসএফের কাছ থেকে। ছেলেটির বাবা নেই। মা-টিও অল্প বয়সে বিধবা। স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে আছে। মিড-ডে মিল রান্নার যেটুকু পয়সা পায় তাতে সংসার যায় না। তাই ক্যাম্পে গিয়ে নিজেকেও বিক্রি করতে হয়। ছেলেটি তার মাকে পাঠাবে এই বলে টাকা এনেছে প্রহরীদের কাছ থেকে। যখন তখন ওর মাকে সেখানে যেতে ইচ্ছে করে না। আগে ব্যাপারটি জানাজানি হয়নি। এখন সবাই জেনে গেছে, তাই লজ্জারও বিষয় এটি। ব্যাপারটি আমাকেও সেদিন খুব ভাবিয়েছিল। একদিন সুযোগ বুঝে ডেকে বললাম, “সুমি, তুমি কি বিএসএফের ক্যাম্পে যাও?”
সুমি কাঁচুমাচু করে বলল, “আপনারে গোপন করি কেমনে! যাইতাম তো! আমার ছেলেই আমাকে যাইতে বাধ্য করতো। কিন্তু এখন আর যাইতে মন চায় না। যত কষ্টই হোক এখন আমি আর কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিতে চাই না!”
“বোঝা তো মাথায় চেপেই গেছে, এখন আর নামাইতে পারবা না। তবে আমরা জানতাম না, তাও জাইনা গেলাম।”
“অল্প বয়সেই বিধবা হইছি, শরীলের জ্বালাও তো আছে! সমাজ কি তা বুঝে না! শুধু নারীরই দোষ ধরে!”
“কথা ঠিক। কিন্তু সেরকম পুরুষ কই যারা বিয়ে করতে পারবে তোমাদের মতো বিধবাদেরও!”
“পারে না বলেই তো সমাজ নষ্ট হয়, নারীর মনের কথা কেউ বুঝে না! নারী কি শুধু মাটি না হাওয়া বাতাস? তারও তো পেরাণ আছে কি নাই?”
খুব বেশিক্ষণ কথা বলতে পারিনি সুমির সঙ্গে। ওর প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারিনি। উঠতি যুবতীর মতোই তার লাবণ্য যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসছিল। কোকড়ানো চুলগুলি কপালে সাপের ফণার মতো ঝুলে পড়েছিল। শ্যামবর্ণা মধ্যম মানের মেয়েটি বেশিরভাগ পুরুষকেই প্রলুব্ধ করতে পারবে। তার চোখাচোখি হয়ে আমার ভেতরটাও শিউরে উঠছিল বারবার। এমন পান পাতার মতো মুখ পাতলা দুটি ঠোঁট ও একালো ভ্রমর চোখের মায়া এতটাই গভীর যে সহজে কেউ চোখ ফেরাতে পারবে না। শরীরের কোথাও মেদ নেই। একটি সন্তানের মা হলেও তার উদ্দাম বক্ষ যুগলের উন্নত মস্তক সর্বদা জয় ঘোষণা করে চলেছে। তার শরীরের যে দাম আছে যারা একবার অবগাহন করেছে তারা তো জানেই যারা না করেছে তারাও আকর্ষিত হয়। তার স্বামীটি তারই নাকি প্রেমে পড়ে বিয়ে করেছিল। কিন্তু একদিন রাস্তায় লরি চাপা পড়ে মারা যায়। সেই থেকেই এই যুবতী বিধবা। তার জীবন যৌবন ধনমান কাকেই বা সমর্পণ করবে! বাধ্য হয়েই সে পথভ্রষ্ট হয়েছে।

আমাদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শুধু সুমির কথা বলেই ক্ষান্ত হয়নি, এই অঞ্চলের কত নারী যে এই পেশায় যুক্ত আছে তার কোনও হিসেব নেই। অনেকেরই জীবন জীবিকা এই দেহ ব্যবসার উপরেই নির্ভর করে। তাই এটাকে তারা গর্হিত কাজ বলে মনে করে না। যারা দেশের প্রহরায় নিযুক্ত রয়েছে, তাদের কারও পরিবার এখানে নেই। তাই তাদের অভাব পূরণের জন্যই এইসব নারীদের যেমন প্রয়োজন হয়, তেমনি এইসব নারীদের অভাব দূর করার জন্য এইসব পুরুষদেরও প্রয়োজন হয়। এর ফলে তাদের দু’রকম অভাব দূর হয়, অর্থ ও শরীরের চাহিদা। কিন্তু এই চাহিদাও বেশিদিন চলে না। যতদিন শরীরের জোশ থাকে, ততদিনই পূর্ণিমা বিরাজ করে। তারপর নেমে আসে অন্ধকার।

মুর্শিদাবাদের এই সীমান্ত এলাকা তাই এমনই বহু নিষিদ্ধ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পুরুষেরা বেশিরভাগই চলে যায় ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে কাজের সন্ধানে। নারীদের হাতে থাকে বিড়ি বাঁধার মতো শিল্প। কিন্তু তাতেও জীবন-জীবিকার সুরাহা হয় না। তখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে হয়। অশিক্ষা কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার নানান গলিঘুঁজিতে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। সেবার সুন্দরী একটি মহিলার লাশ পাওয়া গিয়েছিল গঙ্গার ধারেই। কারা কী কারণে তাকে মেরে ফেলেছিল তার কোনও হদিস পুলিশ বের করতে পারেনি। আবার মাঝে মাঝেই লরি বোঝাই গরু এসে পদ্মার তীরে জমা হতো। এত গরু কোথায় যায়? এই প্রশ্ন নিয়েই আমরা ফিরে আসতাম।🍁 (চলবে) 

 

 

🍂ধারাবাহিক রহস্য পন্যাস
সাহিত্যিক তাপস রায়। সাম্প্রতিককালের একজন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও কবি। লেখকের প্রকাশিত ভিন্নধর্মী পুস্তকগুলি পাঠকদের মনে জাগরণ তৈরি করে। রহস্য কাহিনিতে লেখক প্রাণের ছোঁয়া পান। তেমনি একটি রহস্য উপন্যাস সাশ্রয় নিউজ-এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর পাঠকদের জন্য।

 

কিশাণগঞ্জের ফেলুদা

তাপস রায়

১৫.

না ছেড়ে দেয়নি। বনবিহারীবাবু কিছুটা দম নিয়েছেন মাত্র। প্রতিদিনই দুপুরে একবার করে ফোন করেন কালিম্পং-এ। সবদিনই স্ত্রী’র সঙ্গে মামুলি কথা-বার্তা বলেন দেখে দিলীপ ফোন কেটে দেয়। আজ ভুলে গিয়েছিল। মোবাইল ফোনে একটা কল এসেছিল বলে ল্যান্ডলাইনের রিসিভার টা নিচে নামিয়ে রেখে কথা বলছিল। মিনিট দুয়েকের পর দিলীপ দেখল বনবিহারীবাবু স্ত্রী’র সঙ্গে কথা শেষ করে অন্য আর একজনের সঙ্গে কথা বলছে। এর সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয় বলে এই নম্বরটা খেয়াল করা হয়নি। বনবিহারী আবার বললেন, ‘দাজু, ম্যায়লে বুঝম। ম সহয়োগ গর্নুহুঞ্চু। আপনার সাথে খারাপ হয়েছে জানি। আপনার যা যা কাজ সব আমি করে দেব। তবে হ্যাঁ আপনাকে জানিয়ে রাখি, আপনাকে যেমন মালবাব্য ঠকিয়েছে,আমিও তাকে ছাড়ব না। তাকে ব্যবসা থেকে হটিয়ে দেব। ওর কোমর ভেঙে দিতে যা যা করার সব আমি করব।’
বনবিহারি আবার বললেন, ‘মালবাবুকে জানতে না দিয়ে চানুমতির চিঠি আপনাকে দিই, আপনার পাঠানো টাকা তাকে পৌঁছে দি। আপনি বলেছিলেন, চানুমতির কোনো জিনিস আপনাকে দিতে। তো কুকুরটাকেই তো এনেছিলাম দেব বলে,কিন্তু মাফ গনুস্‌। আপনি আমাকে অপরাধী ঠাওরাবেন না। কুকুরটা আপনাকে দিইনি। আপনি জানেন তো আমার স্ত্রী বেড়াল কুকুর খুব ভালবাসে। সে কুকুরটাকে দেখে খুব পছন্দ করে ফেলেছে। আর আপনাকে দিতে দেয়নি। আমি অন্যভাবে কম্পেনসেট করে দেব।”

মালবাবু অফিসে জানাজানি হয়ে যাবার ভয়ে একদু’জন ছাড়া পুরো ব্যবসাটা গোপনে রেখেছেন। কিন্তু সমস্যা তাঁর কুকুরের সঙ্গে হিসেবের খাতাও। উত্তরবঙ্গের বিস্তির্ণ চা-বাগান জুড়ে তার ধারের ব্যাবসা। প্রতি রোব্ববার তার খুচরো আমদানি। খালি হাতে ফিরতে হয় না গঙ্গারামের কল্যাণে। একবার ধার নিলে, সে ধার আর শোধ হয় না। ফলে বছরের পর বছর নতুন খাতা যোগ হতে থাকে। কিন্তু এখন কী করবেন মালবাবু! হিসেবের খাতাও যে লোপাট। গঙ্গারামের অভাবে নিজে সশরীরে আবির্ভাব দিলে কিছু কিছু তো হতই। কিন্তু সে উপায়তো নেই।

অন্য প্রান্ত এই বার বেশি কথা বলল, কণ্ঠে রাগ, ‘হো। ম্যায়লে বুঝোঁ। ওহাঁ হরেকচিজকো ভুক্তানি গর্নুহুঞ্ছা। ওই চক্রবর্তীকে ছাড়ব না আমি।’ তারপর স্বর চাপল। বলল, ‘তবে একটা অনুরোধ করি, চানুমতিকে একটিবার কালিম্পং-এ যদি নিয়ে আসতে পারেন! একটিবার চোখের দেখা দেখব। খুশি লাগো ”
‘মাফ গনুস্‌! মনে হচ্ছে, কাজটা খুবই কঠিন। মালবাবুর বউকে কিশানগঞ্জের রেল-কোয়ার্টারের বাইরে কেউ কখনও দেখেনি। সে নিজেও চায় না। বাইরে বের হতে। কিন্তু কী বলব, চানুমতিকে যতটুকু দেখেছি, মনে হয় কিশানগঞ্জের সেরা সুন্দরী সে।’ বনবিহারীর স্বর অনেক নরম এখন।
বোঁদের চায়ের গ্লাসের চা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছে। দিলীপ তো তাকে কয়লার খনিতে এনে হিরের সন্ধান দিয়েছে। হিরে আবিস্কার করেছে। এই চকিত আলোতে সে লাফিয়ে উঠবে না আনন্দ লুকিয়ে ফেলবে বুঝে উঠতে পারছে না। তবে মাথা খাটিয়ে সে ঠিক করল, না দিলীপকে বিশেষ জানতে দেওয়া যাবে না। তাহলে পরে বেগ পেতে হতে পারে। সে আবার দু-গ্লাস চায়ের অর্ডার দিয়ে দিলীপের মুখে তাকাল। সেখানে কিছু পাওয়ার আকাঙ্খা ঝরছে। সে পকেট থেকে একটা পাঁচশ টাকার নোট বের করে বলল, ‘দিলীপ, বড় দিনে কেক নিয়ে যাস বাড়িতে। আমি হয়ত ক’য়েকদিন কিশানগঞ্জে থাকব না। তাই আগেই দিয়ে দিলাম।’
দিলীপ বোঁদেদা’র অত কথার সবটা কানে নেয়নি। তার টাকা আসছে, তা আসলেই হল।
বোঁদে সন্ধেবেলার ব্যস্ত ধরমশালার রাস্তায় চোখ মেলে ভাবছে এত বোঝা সেকি নিজে নিজে বইতে পারবে! গুরুকে না জানিয়ে উপায় নেই যে। মুখে সে শুধু দিলীপকে শোনাল, ‘হ্যাঁ, মালবাবুর বউটা খুবই সুন্দরী। চোখ ফেরান যায় না। জানিস দিলীপ, সেদিন মালবাবুর বাড়িতে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। ঘরের ভেতর একা একা। আমাদের সরস্বতী প্রতিমার মতো দেখতে। বেশ লম্বা। গায়ের রং সোনা সোনা। সে কাঁদছিল, আর ছেলের কথা বলছিল। বলছিল, ছেলের মুখ চেয়েই বেঁচে থাকা তার। অত সুন্দরী কোনও মহিলাকে অমন করে কাঁদতে আমি কখনও দেখিনি। মন খারাপ হয়ে গেল রে দিলীপ!’
দিলীপ বলল, ‘কাঁদছিলেন কেন! কিছু কি টের পেয়েছ?’ টেলিফোনের স্পিকার লাউড করা আছে, আর তা একটা টাচ ফোনে রেকর্ড করাও হচ্ছে। দিলীপ কিছু একটা রহস্যের গন্ধ পেয়েছে। না হলে বোঁদে’দা তাকে হঠাৎ কেন এত কাজ দিচ্ছে! টাকা দিচ্ছে!
কিছু না বললে যদি আবার দিলীপ বেঁকে বসে! আরও অনেক কিছু জানতে হতে পারে এই টেলিফোনে আড়ি পেতে। এটা একেবারেই নিয়ম বিরুদ্ধ তা বোঁদে জানে। ফলে দিলীপকে চটাতে চায় না। সে ফিসফিস করে, ‘জানিস, ভাবিজী আমার কাছে খুব করুণ করে মোবাইলটা চাইল সেদিন। একটুকু কথা বলবে। তারপর মোবাইল নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে গেল। সেখানে থেকে হাউমাউ কান্নার ভেতর শুনলাম, বলছেন, ডাক্তার তুমি আমারে বাঁচাও। আর পারছি না। আমার সারা শরীরে ব্যথা, যন্ত্রণা। ফোনের অন্য প্রান্ত কি বলছিল জানি না। ভাবিজীর কান্নার আওয়াজ এত নাছোড় ছিল, কিছুই শোনা যাচ্ছিল না কথা। রান্নাঘর থেকে এসে কাপড়ে চোখ মুছে মাথা নিচু করে যখন মোবাইল ফেরত দিচ্ছিলেন, তখন চোখে পড়ল, তার বাহু জুড়ে লম্বা কাঁটা দাগ। যেন এইমাত্র কিছুতে লেগে ছড়ে গেছে। শরীর সিরসির করে উঠল আমার। প্রাইমারি স্কুলে একবার মাস্টার মশাইয়ের বেতের বাড়ি হাতের তালুতে না পড়ে উপরে বাহুতে পড়েছিল। সেরকম ক্ষত।’
হ্যাঁ, ছেলে বোর্ডিং-এ যাবার আগেও স্ত্রী’কে পেটাতেন। তবে পাশের ঘরে যাতে ছেলে শুনতে না পারে, সেরকম সতর্ক থাকতে হত। ছেলে না থাকায় এখন তা আরও বেড়েছে। রাত আটটার পরে নিজেকে নিবৃত্ত করতে পারেন না মালবাবু। আটটা বাজার পরেই চানুমতি কাঁপতে কাঁপতে নিজেই চলে এসে মালবাবুর সামনে দাঁড়ায়। সে
জানে ডাকাডাকি করে ঘরে আনতে হলে আরও বিপদ। মাথায় রক্ত চড়ে গেলে চামরা ছাড়িয়ে নেবে। তার চেয়ে গুনে গুনে বেতের লাঠির দশ ঘা পাছার উপর মুখ বুজে সহ্য করে নেওয়া ভাল। চানুমতি জানে কাপড়ের নিচে পাছার সাদা পাতলা চামড়া জুড়ে ওঠার সময় পায় না, পরের রাতে আবার প্রবল লাঠির আঘাতে ছড়ে যায়। ফলে কোথাও বসতে পারে না সে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বা উবু হয়ে কাজ করে। আর রাতে কাঁদতে কাঁদতে উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালবেলায় ঘুম ভেঙে মালবাবুর মনস্তাপ হয়। না স্ত্রীকে মেরে ঠিক করেননি। বাজার থেকে স্ত্রীর ভাল লাগার একটা মাছ বা সবজি এনে ভোলাতে চান। কিন্তু রাতে আবার।
লুকিয়ে লুকিয়ে একবার ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন মালবাবু। জেনেছিলেন এ-একটা রোগ। সন্দেহবাতিক থেকে হয়। শুরু হয়েছিল সেই কবে। ছেলে পেটে আসার আগেই। মালবাবু অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন রেল কোয়ার্টারের বাইরে চাঁপা গাছতলায় দাঁড়িয়ে টিকিট বাবুর ছেলের সঙ্গে গল্প করছে চানুমতি। মালবাবু ঘরে ফিরেছে, হুঁশ নেই। সেদিন রাতে প্রথম পেটানো। মালবাবুর কি ভয় হয়েছিল, অসাধারণ সুন্দরী স্ত্রী অন্য কারও হাত ধরে ভেগে যেতে পারে! সেই ছেলেটি, মালবাবু শুনেছে ডাক্তারি পাশ করে শিলিগুড়িতে নার্সিংহোম-এ প্রাকটিস করে। বছরে একবার দু’বার কিশানগঞ্জে আসে হয়ত। তার কেবলি মনে হয় ওই ডাক্তারের সঙ্গে চানুমতির যোগাযোগ আছে। যদি কোনওদিন শারীরিক সম্পর্কও করেন চানুমতীর সাথে, মালবাবু চানুমতীকে যন্ত্রণা দিতে ভোলেন না। স্তন মুচড়ে, পিঠ নখ দিয়ে ফালাফালা করে দেন। আর নিজের অমন বিশাল বপু দিয়ে চানুমতিকে তিনি দুরমুশ করতে থাকেন। ওই বীভৎসতায় চানুমতী যত কেঁপে ওঠে যত চোখে মুখে অন্ধকার ঘনায়, তত বেশি আনন্দ মালবাবুর। ব্যাঙের মতো চিৎ হয়ে পড়ে থাকা ছাড়া চানুমতির আর কোনও ভূমিকা নেই। দমবন্ধ হয়ে আসা এই অবস্থানের থেকে মুক্তি পেতে মালবাবুর নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হয়।
এতসব অত্যাচারও চানুমতির সৌন্দর্য বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি। বরং মালবাবুর মনে হয় কোনও ধ্যানস্থ দেবীর মতো চানুমতী বয়সের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে নিয়েছে। তার বয়স ৪৪/৪৫ হবে। কিন্তু কিছুতেই পঁয়ত্রিশ ঊর্ধ মনে হয় না। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শরীরের কোথাও বাড়তি মেদ জমতে দেয়নি। মালবাবু রোজ রাতেই স্ত্রী’য়ের শরীরের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে ফেলতে চান। যাতে কুরূপা হয়ে ওঠে। দুই গালে খামচেও দেন। রক্ত ঝরে। কিন্তু সেই দাগ এক-দু দিনে মিলিয়ে যায়। কোমর ছাপিয়ে চলে গেছে চুল। চুল টেনে গোছা গোছা তুলে দেন। যন্ত্রণায় কঁকিয়ে ওঠে চানুমতি। কিন্তু আবার চুল জন্ম নেয় মাথায়। রাত বাড়ে যত, মালবাবুর দুশ্চিন্তাও বাড়ে। এই বুঝি চানুমতি হাতছাড়া হল। চানুমতিকে ছাড়া তিনি বাঁচবেন কীকরে! চানুমতিকে যে তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। চানুমতিকে যে তিনি ভালবাসেন!
মালবাবুর নিজের চলার ছন্দ যেন গুটিয়ে আসছে। চানুমতি কিছু করতে পারে, ভাবতেই পারেন না। যতই মারুন ধরুন, চানুমতি যে তার বিরুদ্ধে যাবে তা দূরবর্তী ভাবনাতেও নেই। কিন্তু খুব কাতর করেছে তাকে গঙ্গারাম। কবে থেকে দেখেন না। তার আর এক বেটার মতো গঙ্গারাম। এই গঙ্গারাম ছিল বলেই তিনি নির্ভয়ে থাকতেন। অধিকাংশ খাতক তাদের ঋণদাতা হিসেবে চেনে ওই কুকুরকে। টাকা নেবার সময় নেশার ঘোরে যেমন দেখে না কোথায় টিপ ছাপ দিচ্ছে, তেমনি কে টাকা দিচ্ছে তাও নয়।
মালবাবু অফিসে জানাজানি হয়ে যাবার ভয়ে একদু’জন ছাড়া পুরো ব্যবসাটা গোপনে রেখেছেন। কিন্তু সমস্যা তাঁর কুকুরের সঙ্গে হিসেবের খাতাও। উত্তরবঙ্গের বিস্তির্ণ চা-বাগান জুড়ে তার ধারের ব্যাবসা। প্রতি রোব্ববার তার খুচরো আমদানি। খালি হাতে ফিরতে হয় না গঙ্গারামের কল্যাণে। একবার ধার নিলে, সে ধার আর শোধ হয় না। ফলে বছরের পর বছর নতুন খাতা যোগ হতে থাকে। কিন্তু এখন কী করবেন মালবাবু! হিসেবের খাতাও যে লোপাট। গঙ্গারামের অভাবে নিজে সশরীরে আবির্ভাব দিলে কিছু কিছু তো হতই। কিন্তু সে উপায়তো নেই। ভাবেন, কে করল এই শত্রুতা! হিসেবের খাতা, গঙ্গারাম— দু’টোই লোপাট!
পঙ্কজ থাপা কুকুরটাকে আইডেন্টিফাই করতে পারছে, কিন্তু উদ্ধার করতে পারছে না। রোজই একবার সকালে নিজের গ্যারেজ খোলবার আগে ওই রিসর্টটার সামনের চা’য়ের দোকানে বসে অনেকক্ষন ধরে চা খায়। দোকানের মালিকের সঙ্গে গল্পগুজব করে। চায়ের দোকানের মালিকের কাছেই জানতে পারে এই টিলার ধাপে ধাপে চা বাগানও আছে। খুব ভাল জাতের চা হয়। মানে হোলুম্বা হেভেনে যা আছে, ঠিক তাই তাই এই রিসর্টেও। তবে বেশি যা আছে তা হল কমলালেবুর বাগান। আর ছটা বড় বড় ট্যাঙ্কে মাছ চাষ হয়। এই দুটো হোলুম্বাতে নেই। এই মাছ সিকিমের বাজারে চালান যায়। কুইন্টল কুইন্টল মাছ। এই কৃত্রিম মাছ চাষ করা ভারতে আর কোথাও হয় না। চিনের মৎসবিদরা নাকি বানিয়ে দিয়ে গেছে। একজন চিনা মৎসবিদ থাকেও এখানে। অনেক মাইনে দেয়া হয়। রোজ হুণ্ডা চালিয়ে আসা পঙ্কজ থাপা গাড়ির ইঞ্জিনিয়ার জেনে চায়ের দোকানদার কাছে ঘেঁষবার জন্য কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, ‘এই চিনা লোকটা নাকি অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে অরুণাচলের বর্ডার দিয়ে ঢোকে। এই রিসর্টের সুরক্ষার ব্যবস্থা নাকি ওর হাতে বানানো।’
পঙ্কজ থাপা এই অস্ত্রশস্ত্রের ব্যপারটায় সন্দিহান হয়ে কথার সত্যতা যাচাই করার জন্য বলে, ‘তা আপনি এত কথা জানলেন কী করে?’
‘জানব না ! ওদের ওখান থেকেই কম দামে চা আনে রিসর্টের এক কর্মচারী। সে চা বিক্রি করতে এসে রোজ নতুন নতুন গল্প বলে। কোন রাতে কালিম্পং-এর কোন উঁচু অফিসার কোন বান্ধবী নিয়ে রিসর্টে আসে, সব খবর পাই।
এই কথায় পঙ্কজ থাপা চোখে-মুখে অবিশ্বাস ফোটালে দোকানি আবার বলে, ‘এই রিসর্টের মালকিনের খুব ক্ষমতা। শিলিগুড়ি, বা দার্জিলিং থেকে আমলা মন্ত্রীরা এখানে লুকিয়ে আসে বটে কিন্তু টাকা দেয় না। তাদের এক রাত থাকাতেই অনেক খরচ। মালকিন সেসব ঘুরপথে উসুল করে নেয়।’
শুধু তো বন্ধু বোঁদের কথাতে নয়, ঘর হারানো কুকুরের জন্য পঙ্কজের মন কাঁদে। পঙ্কজ জানে কুকুরের মালিক তার মা-বাবার মতো হয়। প্রভূর কাছ থেকে চলে গেলে সে হয়ত অন্য কোথাও গিয়ে খাওয়াটাওয়া পেয়ে বাঁচে, কিন্তু জীবনী-শক্তি কমে যায়। তার মন পড়ে থাকে পুরনো মালিকের কাছে। গঙ্গারামকে বোঁদেদের হাতে তুলে না দিতে পারলে তার ঘুম হচ্ছে না। কী যেন এক অসহায়তা তাকে গ্রাস করে আছে। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে, অথচ কিছু করতে পারছে না। কালিম্পং থানার ওসিকে বলবে ভেবেছিল। থানার গাড়ি, ওসির নিজের গাড়ি সব সারায় পঙ্কজ। এখানে গাড়ির মেকানিক তার মতো আর কেউ নেই। কিন্তু এখন শুনল, রিসর্টের মালকিন খুব প্রভাবশালী। সে কি আর থানাদারদের হাত করতে বাকি রেখেছে! 🍁(চলবে)

 

 

🍂দ্য 

স্বর্ণকুমারী দেবী 

রীতা বিশ্বাস পান্ডে 

স্বর্ণকুমারী দেবী, তিনি শুধু একজন ঔপন্যাসিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক, সঙ্গীতশিল্পী এবং একজন দৃঢ়চেতা নারী, যিনি তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। তাঁর সাহিত্য ছিল বহুমুখী। তিনি যেমন উপন্যাস লিখেছেন, তেমনই লিখেছেন কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক এবং ছোটগল্প। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬) এবং দ্বিতীয় উপন্যাস ‘মিবার-রাজ’ (১৮৭৭) ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত। এই উপন্যাসগুলোতে তিনি নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে তাদের মানবিক ও শক্তিশালী দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘ছিন্নমুকুল’ এবং ‘বিদ্রোহ’।

তিনি ছিলেন ঠাকুর পরিবারের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো তিনিও সমাজ ও সাহিত্যে এক নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নারীরা শুধু গৃহিণী নয়, তারাও সমাজ ও সংস্কৃতির অগ্রগতিতে সমানভাবে অংশ নিতে সক্ষম।

স্বর্ণকুমারী দেবীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, তাঁর সমাজ সংস্কারমূলক কাজ। তিনি নারীদের উন্নয়নের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। ১৮৮৬ সালে তিনি যে ‘সখী সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, তার উদ্দেশ্য ছিল অসহায়, বিধবা এবং অভাবী মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং তাদের শিক্ষিত করে তোলা। এই সমিতি থেকে প্রকাশিত হতো ‘সখী’ নামের একটি পত্রিকা, যা নারীদের লেখালেখির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করত। এটি ছিল সেই সময়ের প্রেক্ষিতে এক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ।

তিনি শুধু সাহিত্য রচনা ও সমাজ সংস্কারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি পত্রিকা সম্পাদনারও কাজ করেছেন। ১৮৮৪ সালে তিনি তাঁর ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘ভারতী’-এর সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা সম্পাদক। এই পত্রিকা সম্পাদনার মধ্য দিয়ে তিনি অনেক নতুন লেখকের জন্ম দিয়েছেন এবং বাংলা সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তিনি ছিলেন ঠাকুর পরিবারের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো তিনিও সমাজ ও সাহিত্যে এক নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নারীরা শুধু গৃহিণী নয়, তারাও সমাজ ও সংস্কৃতির অগ্রগতিতে সমানভাবে অংশ নিতে সক্ষম।তাঁর জন্মদিনে আমরা এই অসাধারণ নারীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি, যিনি তাঁর কাজ ও আদর্শ দিয়ে আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।🍂

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার, কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার, অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক 

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী কোনও সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ঋণ: মহামিলনের কথা আন্তর্জাল থেকে সঙ্কলিত। 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন