SIR in Bengal, BLO showcause notice, West Bengal Election Commission | এসআইআরের আগে তুফান! বাংলায় ৬০০ বিএলও-কে শোকজ, কমিশনের তৎপরতায় চাঞ্চল্য

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীসহ প্রতিনিধি দলের সফর। প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও SIR রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হল।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বাংলার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। রাজ্যজুড়ে শিগগিরই শুরু হতে চলেছে এসআইআর (SIR) বা Special Intensive Revision, অর্থাৎ বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা। কিন্তু সেই কাজ শুরুর আগেই বিপাকে পড়েছে রাজ্যের প্রায় ৬০০ বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। কেন তারা কমিশনের নির্দেশ মেনে দায়িত্ব নিতে চাইছেন না, তা জানার জন্য তাদের প্রত্যেককে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। ধাপে ধাপে এই নোটিস পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন জেলায় নিযুক্ত বিএলওদের কাছে।

ফলো করুন : https://x.com/sasrayanews?s=09

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করাই বিএলওদের মূল কাজ। এই প্রক্রিয়ায় কোনও গাফিলতি বা অনীহা কমিশনের চোখে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিএলও কমিশনের কাজ করতে আপত্তি জানাচ্ছেন। কেউ বলছেন স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা কম, তাই তারা দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে পারবেন না; কেউ আবার নিরাপত্তার অজুহাত তুলছেন। এই প্রেক্ষাপটে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ (Bhaskar Ghosh) জানান, “আমরা এসআইআরের বিরোধী নই। আমরা চাই স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি হোক। তবে শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজে লাগানোর কারণে শিক্ষাক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বহু স্কুলে একজন বা দু’জন শিক্ষক রয়েছেন, তাদের আবার মাঠে নামিয়ে দিলে ক্লাস বন্ধ হয়ে যাবে। এটা অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব শিক্ষক একমাত্র বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন, যেমন বিজ্ঞান বা গণিত, তারা যদি স্কুল ছাড়া বিএলওর কাজ করেন, তাহলে ছাত্রছাত্রীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছি যাতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” অন্যদিকে, বিজেপি (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই রাজ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তৃণমূল (TMC) আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে যাতে তারা কমিশনের কাজে অংশ না নিতে সাহস পান না। শিক্ষকদের ভয় দেখানো হচ্ছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে তৃণমূল প্রশাসনিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ আঠেরো-তম কিস্তি)

তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty) পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বেছে বেছে শোকজ করা হচ্ছে। এটা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী। নির্বাচন কমিশন এইভাবে রাজ্য সরকারের কর্মীদের বিরুদ্ধে শোকজ পাঠানোর আইনি এক্তিয়ার রাখে না। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ সূত্রে খবর, এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রাজ্যের চার হাজারেরও বেশি বিএলওদের কার্যক্রম এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বহু জায়গায় নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। কোথাও সহকারী শিক্ষিকাদের বদলে পার্শ্ব শিক্ষিকাদের (para-teachers) মাঠে নামানো হচ্ছে, আবার কোথাও একই ব্যক্তিকে একাধিক বুথের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এইসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে বিশদ রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী দফতর (CEO Office)। এক নির্বাচন কমিশন আধিকারিকের কথায়, “যারা দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করছেন, তাদের শোকজ করা ছাড়া উপায় ছিল না। ভোটার তালিকা সংশোধন দেশের গণতন্ত্রের একটি মৌলিক অংশ। এটা বন্ধ রাখা যায় না।” রাজ্য প্রশাসনের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, অনেক বিএলওর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক অসুবিধার কারণেই তারা আপত্তি জানাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের তরফে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসআইআরকে ঘিরে এই টানাপোড়েনের পেছনে প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক প্রভাব, দুই-ই কাজ করছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কমিশন কোনওভাবেই গাফিলতি বা বিলম্ব চায় না। উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভূয়ো নাম, মৃত ভোটার, ও ভুল ঠিকানার মতো বিষয়গুলোই এখন কমিশনের মূল নজরদারির জায়গা। ফলে এসআইআর এই বছর অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে শিক্ষক সমাজের একাংশের বক্তব্য, “আমরা প্রশাসনিক কাজের বিরোধী নই। কিন্তু আমাদের প্রাথমিক কাজ পড়ানো। যদি ক্লাস বন্ধ রেখে মাঠে নামতে হয়, তাহলে শিক্ষার ক্ষতি হবে। প্রশাসনের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা করা।”

এদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোকজ প্রক্রিয়া এখনই শেষ নয়। ধাপে ধাপে আরও কিছু জেলার বিএলওদের কাছেও নোটিস পাঠানো হবে। তাদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
যে কোনও সময়েই শুরু হতে পারে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা। কিন্তু তার আগে এই বিতর্কে প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন, সর্বত্রই এখন উত্তাপ ছড়িয়েছে। শিক্ষকদের কর্মনিষ্ঠা, কমিশনের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, তিন দিকেই টানাপোড়েন বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে এসআইআরের গতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনের মূল আলোচ্য বিষয়।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : SIR in Bengal, Suvendu Adhikari statement | ‘বাংলায় SIR না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে’ : নাগরাকাটায় শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তপ্ত রাজনীতি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment