Shikhar Dhawan Delhi court verdict | দিল্লি আদালতের বড় নির্দেশ, শিখর ধাওয়ানের প্রাক্তন স্ত্রীকে সাড়ে ৫ কোটি ফেরত দিতে হবে, সুদসহ পরিশোধের রায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan) -এর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দিল্লির পারিবারিক আদালত তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী আয়েশা মুখার্জিকে (Ayesha Mukherjee) অস্ট্রেলিয়ায় সম্পত্তি মীমাংসা সূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৫.৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, মামলা দায়েরের তারিখ থেকে বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। এই রায় ঘিরে ক্রীড়া ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার গর্গ (Devendra Kumar Garg) তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, অস্ট্রেলিয়ার আদালতে যে মীমাংসা চুক্তি হয়েছিল, তা ‘চাপের পরিস্থিতিতে স্বাক্ষরিত’ বলে প্রতীয়মান। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের বক্তব্য, বৈবাহিক বিবাদ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Zaheer Iqbal viral car dance video | ‘Missing You More Today’ : ভাইরাল ভিডিওর মাঝেই জাহির -এর আবেগঘন মেসেজ সোনাক্ষীকে

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সাল থেকে। অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত শিখর ধাওয়ানের মোট সম্পদের ১৫ শতাংশ আয়েশা মুখার্জিকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। জানা যায়, প্রায় ৭.৪৬ কোটি টাকার সম্পদ তিনি নিজের কাছে রাখেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৫.৯৫ কোটি টাকা এবং একটি সম্পত্তির হস্তান্তরও পান। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একাধিক আদেশে সম্পত্তি বণ্টনের নির্দেশ জারি হয়। শিখর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লির আদালতের দ্বারস্থ হন। শিখরের দাবি ছিল, ‘ভারতীয় বিবাহ আইন অনুসারে এই ধরনের সম্পত্তি বণ্টন বৈধ নয়।’ তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘আমার সুনাম ও ক্রিকেট কেরিয়ার নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’ এমনকী নিজের অর্থে কেনা সম্পত্তিও যৌথ নামে অথবা সম্পূর্ণভাবে আয়েশার নামে নথিভুক্ত করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আদালতে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একটি সম্পত্তিতে আয়েশাকে ৯৯ শতাংশ মালিক হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যদিও সেই সম্পত্তি কেনার অর্থ শিখরের। বিচারপতি গর্গ প্রমাণ খতিয়ে দেখে মন্তব্য করেন, ‘চুক্তিটি স্বাধীন ইচ্ছায় সম্পাদিত হয়েছে বলে মনে হয় না।’ সেই কারণেই অস্ট্রেলিয়ার আদালতের নির্দেশ ভারতীয় আইনের আওতায় কার্যকর নয় বলে রায় দেন তিনি। উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতেই দিল্লি আদালত অস্ট্রেলিয়ার নির্দেশ কার্যকর করা থেকে আয়েশাকে বিরত থাকতে বলেছিল। এবার চূড়ান্ত রায়ে সেই অবস্থান আরও দৃঢ় করা হল। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শিখর ধাওয়ান অস্ট্রেলিয়ার ওই নির্দেশ মানতে বাধ্য নন। ২০২৩ সালে দিল্লির এক আদালত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করে। ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছিল শিখরের মানসিক অবস্থায়ও। তাঁদের পুত্র জোরাভরের (Zoravar) সঙ্গে দীর্ঘদিন দূরে থাকার প্রসঙ্গ আদালতে উঠে আসে। যদিও স্থায়ী হেফাজত পাননি, তবুও ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় সাক্ষাৎ এবং ভিডিও কলে যোগাযোগের অধিকার দেওয়া হয়েছিল শিখরকে। পরে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ছেলের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ এই মামলায় আদালত আরও উল্লেখ করেছে, আয়েশা মুখার্জি অভিযোগগুলির যথাযথ বিরোধিতা করেননি অথবা পর্যাপ্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

ক্রিকেটার হিসেবে শিখর ধাওয়ানের পরিচিতি আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপ্রতিষ্ঠিত। ভারতীয় দলের হয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ওপেনিং করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের আইনি লড়াই তাঁর ক্যারিয়ারের বাইরেও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই রায়ে একদিকে যেমন সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে আন্তর্জাতিক এখতিয়ারের প্রশ্ন সামনে এসেছে, অন্যদিকে ভারতীয় আইনের প্রাধান্যও পুনরায় স্পষ্ট হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৫.৭ কোটি টাকার সঙ্গে ৯ শতাংশ বার্ষিক সুদ যোগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অর্থ ফেরত দিতে হবে আয়েশাকে। আইনি পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিবাহ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষত যখন দুই দেশের আইনি কাঠামোর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন কোন আদালতের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে, তা নিয়ে এই মামলা নতুন দিশা দেখাল। শিখর ধাওয়ান আপাতত এই রায়ে স্বস্তি পেলেও, বিষয়টি এখানেই শেষ নয় বলে মনে করা হচ্ছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে দিল্লি আদালতের এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

ছবি : সংগৃহীত। 
আরও পড়ুন : Shikhar Dhawan : অবসর ঘোষণা করলেন শিখর ধাওয়ান

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন