সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : বেজিংয়ে শেষ হওয়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন (SCO)-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক সম্মেলন ঘিরে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। যৌথ বিবৃতি দেওয়ার মতো ঐকমত্যে পৌঁছনো গেল না। কারণ, নতুন দিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে ভারত চেয়েছিল সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উঠে আসুক, কিন্তু একটি বিশেষ দেশ তাতে আপত্তি জানায়। ফলত, সম্মেলন থেকে বেরিয়ে এল না কোনও যৌথ বিবৃতি। সাফ জানিয়ে দিল ভারত, সন্ত্রাস নিয়ে আপস নয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানান, “এসসিও-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে কোনও যৌথ বিবৃতি চূড়ান্ত হয়নি। কারণ কিছু বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। ভারত চেয়েছিল সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগের কথা ওই নথিতে থাকুক। কিন্তু একটি দেশ সেই বিষয়টি মানতে নারাজ ছিল। সেখানেই রইল অমিল।”
উল্লেখ্য যে, এসসিও-র সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। এবং সেই দেশের তরফেই সন্ত্রাসের প্রসঙ্গে আপত্তির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মহলের বক্তব্যে। এই বৈঠকে পাকিস্তানের তরফে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ মুহাম্মদ (Khawaja Asif Muhammad)। যদিও আলোচনার সময় সরাসরি কোনও দেশের নাম না-করলেও, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Singh) তাঁর বক্তব্যে কড়া ভাষায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে প্রশ্রয়দাতা দেশগুলিকে নিশানা করেন।রাজনাথ বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও দ্বিমুখী অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। যারা সন্ত্রাসকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের অবশেষে পরিণাম ভোগ করতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের আড়ালে পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারির বার্তা স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, “এই লড়াইয়ে আমাদের সকল সদস্য দেশকে একজোট হতে হবে। যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নামে মুখে এক কথা বলে আর কার্যক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলে, তাদের বিষয়ে এসসিও-র দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”
নতুন দিল্লি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে ভারত আপস করবে না। সম্মেলনে পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে কাঠগড়ায় না তুললেও, ভারতের কূটনৈতিক ভাষায় বার্তা পৌঁছে গিয়েছে ঠিকই। কূটনৈতিক মহলের মতে, এসসিও-র যৌথ বিবৃতি চূড়ান্ত না হওয়ার নেপথ্যে ভারতের নীতিগত অবস্থানকেই দায়ী করছে কেউ কেউ, কিন্তু প্রকৃত সত্য হল, সন্ত্রাস নিয়ে একাধিক দেশের মুখে এক ও কাজে অন্য মনোভাবের কারণেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ তুলে যৌথ বিবৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ভারত একদিকে যেমন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল, তেমনই অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকেও স্পষ্ট করে দিল, ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈঠকে যদি প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেওয়া হয়, তবে ভারত সেই প্রক্রিয়ার অংশীদার হবে না।
সূত্রের খবর, সম্মেলনের খসড়া বিবৃতিতে সন্ত্রাস সম্পর্কে কিছুটা আবদ্ধ শব্দচয়নের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তাতে ‘পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি কার্যকলাপ’ নিয়ে কোনও উল্লেখ ছিল না। ভারত সেই অস্পষ্ট ভাষা মানতে রাজি হয়নি। ফলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ স্বাক্ষর না করায় ওই বিবৃতি বাতিল হয়ে যায়। চিনের (China) মতো দেশ যখন এই সম্মেলনের আয়োজক, তখন পাকিস্তানের প্রতি তার সহানুভূতির ইঙ্গিতও উপেক্ষা করার নয়। ফলে ভারতের অবস্থান গ্রহণ আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
প্রসঙ্গত, এসসিও (SCO) মূলত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভিত্তিক সংস্থা হলেও, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই তার একটি অন্যতম স্তম্ভ। অথচ, সেই লড়াইয়ের মৌলিক প্রশ্নেই যদি সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এসসিও কতটা কার্যকরী হয়ে উঠবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন পর্যবেক্ষকেরা। নতুন দিল্লি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসের প্রশ্নে দ্বিমুখিতা বরদাস্ত করা হবে না। ভারতের অবস্থান, এখন শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নয়। গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। আর তাই কোনও আপস নয়, বরং সোজাসাপটা অবস্থানই ভারতের রণনীতি।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shashi Tharoor on PM Modi | ‘ভারতের প্রধান সম্পদ’, মোদীর প্রশংসায় সরব কংগ্রেসের শশী থারুর




