Sasraya News Sunday’s Literature Special | 5th April 2026, Sunday, Issue 107, Vol 5 ★ সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ১২ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার। বর্ষ ৫, সংখ্যা ১০৭

SHARE:

সম্পাদকীয়-এর পরিবর্তে…

চৈত্রের অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে আমাদের সামনে ভেসে ওঠে দ্বৈত বাস্তবতা। একদিকে পুরনো বছর বিদায়ের বিষণ্ণতা, অন্যদিকে আগামীর প্রত্যাশা। চৈত্র বাংলা বছরের অন্তিম মাস। এই মাসের ভেতর জমে থাকে কত অভিজ্ঞতার সারাংশ। আর পয়লা বৈশাখ সেই বইয়ের নতুন পাতা। যে পাতায় লেখা হতে পারে ভবিষ্যৎ। এই সন্ধিক্ষণেই প্রয়োজন গভীর আত্মবিশ্লেষণের। আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে ও কোন পথে এগোতে চাই!

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পরস্পর সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় বিভাজন ও রাজনৈতিক মেরুকরণ ক্রমশ বিশ্বশান্তির পথে বড় বাধা হয়ে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অস্থিরতার প্রতিধ্বনি শোনা যায় সমাজের নানা স্তরে। এই পরিস্থিতিতে বাংলা নববর্ষ হয়ে উঠতে পারে বিশ্বশান্তির আহ্বান। মানুষ এই উৎসবের ভেতর দিয়ে নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে বৃহত্তর মানবতার কথা ভাববেন, এমন আশা করাই যায়।

এই প্রেক্ষাপটে কবি, সাহিত্যিক ও লেখক সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইতিহাস সাক্ষী, সঙ্কটের সময়ে কলমই অনেক সময় পথ দেখিয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম, মহাশ্বেতা দেবী থেকে সমকালীন লেখকরা বারবার তাঁদের সৃষ্টির মাধ্যমে মানবিকতা এবং সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। বর্তমানে সেই দায়িত্ব আরও বেড়েছে। সামাজিক মাধ্যম ও দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহের যুগে লেখকদের কণ্ঠ আরও শক্তিশালী, কিন্তু সেই সঙ্গে দায়িত্বও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে সত্য, যুক্তি ও মানবিকতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার। বাংলা ক্যালেন্ডারের শেষ মাস চৈত্র বিদায় তাই শুধু সময়ের পরিবর্তন নয়। একইভাবে চৈত্রর নৈতিক আহ্বান পুরনো বিভাজন, হিংসা ও অবিশ্বাসকে পেছনে ফেলে নতুন করে শান্তির পথ নির্মাণ। নববর্ষের সূচনায় যদি আমরা ব্যক্তি ও সমাজ হিসেবে সহনশীলতা, আলোচনা এবং সহমর্মিতাকে অগ্রাধিকার দিই, তাহলেই এই পরিবর্তন অর্থবহ হবে। আসন্ন বৈশাখে উৎসবের পাশাপাশি হোক নতুন চেতনার, বিশ্বমঞ্চ পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হবে একটাই বার্তা: শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানবতার জয়।

 

🍂মহামিলনের থা
শ্রীশ্রীগুরবে নমঃ

কি রে, তোর পিপাসার শান্তি হল?
কোন্ পিপাসার কথা বলছো?
এই আমার নামমহিমা শোনবার পিপাসা।
শান্তি হওয়া তো দূরের কথা পিপাসা বেড়েই চললো। চরণে প্রার্থনা করি যতদিন দেহটা আছে যেন তোমার নাম, নামমহিমা, তোমার নামগুণ শুনতে শুনতে, বলতে বলতে,তোমার সঙ্গে কথা কইতে কইতে অতিবাহিত হয়। আর কিছু চাই না, আমি তোমার শরণাগত।

শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথ দেব

আমার ভালমন্দ বোঝবার সামর্থ্য নাই, তোমার যা অভিরুচি হয় কর, যা শোনাতে হয় শোনাও, আমি তোমার,আমি তোমার, আমি তোমার।
দেখ্, এযুগে নাম ভিন্ন অন্য কোন সহজ সরল সুগম পথ নাই,তাই আমি আমার আনন্দের দুলাল জীবগণকে নানাভাবে নানারূপে নানাশাস্ত্রে নানা সাধুগণের দ্বারা নাম করবার উপদেশ দান করেছি। নাম কর্,নির্ভয়ে নাম কর্— এ নামপ্রেমপথের ত্রিসীমানায় ভীতির সম্ভাবনা নাই,অভয় দিয়ে গড়া এ নামসঙ্কীর্ত্তনপথ, তাই ডাকছি আয় আয়, ওরে আমার আনন্দের,আমার প্রেমের, আমার শত সাধের সন্তানগণ! আয় আয়, নামকল্পতরুমূলে আশ্রয় নে, নে নে ; মা ভৈঃ, মা ভৈঃ, মা ভৈঃ, ধ্বনি অবিরত শুনতে পাবি।

🍂শ্রীশ্রীনামামৃত লহরী | শ্রীওঙ্কারনাথ রচনাবলী
(বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত)

 

 

🍁বিশেষ গদ্য 

 

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, শান্তি কী শুধুমাত্র বড় বড় নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা যায়, নাকি তা ব্যক্তিগত স্তর থেকেও শুরু হয়? বাস্তব বলছে, শান্তি একটি অভ্যাস, যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সমস্ত স্তরে গড়ে ওঠে। সহনশীলতা, সম্মান এবং সহমর্মিতা এই গুণগুলি যদি দৈনন্দিন জীবনে চর্চা করা যায়, তাহলে বৃহত্তর সমাজেও তার প্রভাব পড়ে। একইভাবে শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শান্তি, সহানুভূতি এবং মানবিক মূল্যবোধকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

 

বিশ্ব শান্তি: সংঘাতের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও মানবতার শেষ আশ্রয় কোথায়?

অদিতি গুহ রায়

বিশ্বের মানচিত্রে যতই নতুন নতুন উন্নয়নের রেখা আঁকা হোক, বাস্তবের মাটিতে এখনও শান্তি অধরা স্বপ্নই। প্রযুক্তির অগ্রগতি, অর্থনীতির বিস্তার, আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিলতা সমস্ত কিছুর মাঝেও মানুষের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা একটাই, তা হল নিরাপদ, ভয়হীন, সম্মানজনক জীবন। কিন্তু সেই চাহিদার বিপরীতে বারবার উঠে আসে সংঘাত, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্মম চিত্র। ২০২২ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে ইউক্রেনের মানবাধিকার কর্মী ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুক (Oleksandra Matvichuk) একটি হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা এই পুরস্কার পেয়েছি এমন একটি সময়ে, যখন রাশিয়া যুদ্ধ শুরু করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে গোলাবর্ষণ, নির্যাতন, নির্বাসন এই শব্দগুলো এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। কিন্তু একজন মায়ের যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ওই মা হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে হামলার পর নিজের নবজাতক সন্তানকে হারিয়েছেন। যে সন্তানকে তিনি কিছুক্ষণ আগেও বুকে আগলে রেখেছিলেন, তার নাম ধরে ডাকছিলেন, তার গন্ধ নিচ্ছিলেন, হঠাৎ এক ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিল। এখন সেই শিশুটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট কফিনে শুয়ে আছে।’

শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তথ্য এবং বয়ানের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। আধুনিক সময়ে যুদ্ধ শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়; তা মানুষের মনেও লড়া হয়। কোন ঘটনাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, কোন তথ্য সামনে আনা হচ্ছে বা গোপন রাখা হচ্ছে এসবই জনমতকে প্রভাবিত করে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, গবেষণা ও তথ্যের স্বচ্ছতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ ভুল বয়ান অনেক সময় সংঘাতকে উসকে দেয়, আর সঠিক তথ্য আলোচনার পথ খুলে দেয়।

এই একটিমাত্র বক্তব্যই সংঘাতের ভয়াবহতাকে তুলে ধরতে যথেষ্ট। পরিসংখ্যান দিয়ে সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি মাপা যায়, কিন্তু মানুষের অনুভূতির গভীরতা কখনও সংখ্যায় ধরা পড়ে না। বিশ্ব শান্তির আলোচনা যখন হয়, তখন এই মানবিক দিকটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২২ সালে দেওয়া হয়েছিল ইউক্রেনের ‘সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ’ বেলারুশের মানবাধিকার কর্মী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি (Ales Bialiatski) এবং রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন মেমোরিয়ালকে (Memorial)। এই তিনটি শক্তি একসঙ্গে একটি মেসেজই দেয় শান্তি শুধু রাষ্ট্রের চুক্তিতে না, তা গড়ে ওঠে নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে। বিশ্ব শান্তি নিয়ে ভাবতে গেলে প্রথমেই আসে যুদ্ধের প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার লড়াই, ভূখণ্ডের দখল, রাজনৈতিক আধিপত্য, এই সব কারণে অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি যুদ্ধের শেষে যা থেকে যায়, তা হল ধ্বংস, শূন্যতা এবং অগণিত মানুষের অপ্রকাশিত কান্না। আজকের বিশ্বে যুদ্ধের রূপ আরও জটিল। সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি চলছে সাইবার আক্রমণ, তথ্যযুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা মানুষের জীবনকে পরোক্ষভাবে বিপর্যস্ত করে। এই পরিস্থিতিতে শান্তির ধারণা শুধু যুদ্ধ বন্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শান্তি মানে সামাজিক ন্যায়, মানবাধিকার রক্ষা, সমান সুযোগ এবং ভয়ের মুক্ত পরিবেশ। যেখানে মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে পারে, নিজের অধিকার দাবি করতে পারে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, সেই পরিবেশই প্রকৃত শান্তির ভিত্তি গড়ে তোলে। নাগরিক সমাজের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ’ বা ‘মেমোরিয়াল’-এর মতো সংগঠনগুলি যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে, নির্যাতনের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলে। এই কাজগুলো অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু এই প্রচেষ্টাই বিশ্বকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বিশ্ব শান্তির আরেকটি বড় দিক হল শিক্ষা ও সচেতনতা। মানুষ যত বেশি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানবে, ততই সংঘাতের সম্ভাবনা কমবে। ঘৃণা, বিভাজন এবং ভুল তথ্য অনেক সময় সংঘর্ষের আগুন জ্বালায়। তার বিপরীতে সত্য, সহমর্মিতা এবং সংলাপ শান্তির পথ তৈরি করে। ধর্ম, ভাষা, জাতি এই সব বৈচিত্র্যের মধ্যেও একতা খুঁজে নেওয়া আজকের বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বহু দেশে দেখা যায়, পরিচয়ের রাজনীতি মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে। কিন্তু যদি এই বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে দেখা যায়, তাহলে তা শান্তির ভিত্তি মজবুত করতে পারে।

বিশ্ব শান্তির প্রশ্নে প্রযুক্তির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে প্রযুক্তি মানুষের মধ্যে সংযোগ বাড়িয়েছে, তথ্যের আদান-প্রদান সহজ করেছে। অন্যদিকে, একই প্রযুক্তি ভুল তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমও হয়ে উঠেছে। ফলে প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নির্ধারণ করে তার প্রভাব। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রসংঘ (United Nations) শান্তি রক্ষার জন্য নানা উদ্যোগ নেয়, শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠায়, আলোচনার মঞ্চ তৈরি করে। কিন্তু অনেক সময় রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে এই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, শান্তি কী শুধুমাত্র বড় বড় নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা যায়, নাকি তা ব্যক্তিগত স্তর থেকেও শুরু হয়? বাস্তব বলছে, শান্তি একটি অভ্যাস, যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সমস্ত স্তরে গড়ে ওঠে। সহনশীলতা, সম্মান এবং সহমর্মিতা এই গুণগুলি যদি দৈনন্দিন জীবনে চর্চা করা যায়, তাহলে বৃহত্তর সমাজেও তার প্রভাব পড়ে। একইভাবে শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শান্তি, সহানুভূতি এবং মানবিক মূল্যবোধকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ভবিষ্যতের বিশ্ব গড়ে উঠবে আজকের প্রজন্মের হাতে। তারা যদি সহিংসতার বদলে সংলাপের পথ বেছে নিতে শেখে, তাহলে আগামী পৃথিবী আরও নিরাপদ হতে পারে।

বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, শান্তি কখনও স্থায়ীভাবে অর্জিত হয় না। শান্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ তা রক্ষা করতে হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা, শরণার্থীদের দুর্দশা, নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু, এই সমস্ত ঘটনাই আমাদের বারবার সতর্ক করে দেয়। ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুকের সেই বক্তব্য, একটি ঘটনার বিবরণ একটি প্রশ্নের জন্ম দেয় যে, আমরা কী এমন একটি পৃথিবী তৈরি করতে পারব, যেখানে কোনও মায়ের সন্তান যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারাবে না? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কিন্তু চেষ্টা থামিয়ে দিলে সেই উত্তর কখনও পাওয়া যাবে না। বিশ্ব শান্তি শুধু ধারণা না, এটি একটি দায়বদ্ধতাও। সেখানে প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি সমাজ ও প্রতিটি রাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে। শান্তির পথ দীর্ঘ, জটিল এবং অনেক সময় কঠিন। তবুও সেই পথেই এগোতে হবে, কারণ বিকল্প পথের নাম ধ্বংস। এপর্যন্ত যে প্রশ্নটি এসে দাঁড়ায়, বিশ্ব শান্তি কী কেবল নৈতিক আকাঙ্ক্ষা, নাকি এটি একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রকল্প, যা সুপরিকল্পিত কাঠামোর মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব? এই জায়গাতেই আলোচনাটি আরও গভীর হয়ে ওঠে। কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু আবেগ বা সহমর্মিতার উপর নির্ভর করে না; এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর প্রতিষ্ঠান, দায়বদ্ধ শাসনব্যবস্থা এবং ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।

প্রথমত, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ন্যায়বিচারের কাঠামো শক্তিশালী না হলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। যেখানে আইনের শাসন দুর্বল, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হয় না, সেখানে ক্ষোভ জমতে থাকে এবং তা একসময় সংঘর্ষে রূপ নেয়। ফলে শান্তির ভিত্তি গড়ে ওঠে আদালত, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর। এই কারণেই মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাজ এত গুরুত্বপূর্ণ। তারা রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে ও নাগরিকের কণ্ঠকে সামনে তুলে নিয়ে আসে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তির ভারসাম্য এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার রাজনীতি শান্তিকে প্রভাবিত করে। বর্তমান বিশ্বে কোনও দেশ একা নয়; অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি সবকিছুই পরস্পর সংযুক্ত। এই আন্তঃনির্ভরতা একদিকে সংঘাত কমাতে পারে, কারণ যুদ্ধ হলে সকল পক্ষের ক্ষতি হয়। কিন্তু অন্যদিকে, এই নির্ভরতা কখনও কখনও চাপ সৃষ্টির হাতিয়ারও হয়ে ওঠে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তৃতীয়ত, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তথ্য এবং বয়ানের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। আধুনিক সময়ে যুদ্ধ শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়; তা মানুষের মনেও লড়া হয়। কোন ঘটনাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, কোন তথ্য সামনে আনা হচ্ছে বা গোপন রাখা হচ্ছে এসবই জনমতকে প্রভাবিত করে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, গবেষণা ও তথ্যের স্বচ্ছতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ ভুল বয়ান অনেক সময় সংঘাতকে উসকে দেয়, আর সঠিক তথ্য আলোচনার পথ খুলে দেয়।

চতুর্থত, অর্থনৈতিক বৈষম্যও শান্তির পথে বড় বাধা। যখন একটি বড় অংশ বঞ্চিত থাকে এবং উন্নয়নের সুফল থেকে দূরে সরে যায়, তখন অসন্তোষ তৈরি হয়। এই অসন্তোষ অনেক সময় সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সবার জন্য নিশ্চিত করা হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য অপরিহার্য। আর শান্তিকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে। এটি কোনও চূড়ান্ত অবস্থা নয়, ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রয়াস। যুদ্ধ থেমে গেলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না; যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, ন্যায়বিচার, পুনর্মিলন, এই প্রতিটি ধাপ সমান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ (Truth and Reconciliation Commission) -এর মতো উদ্যোগ দেখিয়েছে, অতীতের ক্ষত স্বীকার করে, সত্য প্রকাশ করে ও আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াই স্থায়ী শান্তির পথে সহায়ক হতে পারে। অতএব, বিশ্ব শান্তি কোনও বিমূর্ত ধারণা না। একটি জটিল, বহুস্তরীয় কাঠামো, যেখানে নীতি, প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, তথ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ একে অপরের সঙ্গে জড়িত। ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুকের কথায় যে যন্ত্রণা উঠে আসে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই কাঠামোর ব্যর্থতার মূল্য কত ভয়াবহ হতে পারে। সেই কারণেই শান্তির প্রশ্নটি আর কেবল আলোচনার বিষয় নয়; এটি আমাদের সময়ের অন্যতম জরুরি দায়িত্ব।🍁

 

 

 

🍂ফিরেপড়া | কবিতা 

 

নবনীতা দেবসেন -এর একটি কবিতা 

মনের মানুষ

মনে মনে সারাদিন দেখা, মনে মনে নিত্য সহবাস
সারাক্ষণ কাছে কাছে থাকি, সারাদিন কথাবলি :
—“বইখানা কোথায় ফেললে?”—
—“বেরুচ্ছো কি? ফিরবে কখন?”—
মনে মনে লাগিয়ে দি’ জামায় বোতাম
ভুরু থেকে সরিয়ে দি’ ঝুঁকে-পড়া কেশ
মনে মনে এগিয়ে দি’ কলম, রুমাল।
মনে মনে অহর্নিশি, মনে মনে সারাদিনরাত
খুব ঝগড়া, খুব যত্ন, মনে মনে আদর টাদর
সারাদিন সারারাত আজীবন নিখিল বিস্তার—
মনে মনে মনের মানুষ।

সত্যি সত্যি পথেঘাটে দেখা ঘটে গেলে
হাত তুলে নমস্কার। “কি খবর? সবাই ভালো তো?”
পথেঘাটে আকস্মিক দেখা হয়ে গেলে, সর্বনাশ ঘটে।
দক্ষিণ মেরুর প্রান্তে ভয়ংকর ভূমিকম্প হয়
ডুবে যায় আইসবার্গ মাটির বরফ ফেটে ফুঁসে ওঠে
লাভার দুরন্ত স্রোত,
মনে মনে ঘোর যুদ্ধ–মনে মনে
উষ্ণ রক্তপাত।
দুর্ধর্ষ ধাতব অগ্নি বহে যায় সুমেরু ও কুমেরু গলিয়ে।

 

 

🍂ধারাবাহিক উপন্যাস |
কবি ও সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্যোপান্ত একটি সাহিত্য পরিমণ্ডলে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর লেখায় আমরা দেখতে পাই, সমাজের নানান দিক উঠে আসতে, যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে, এবং লেখক পাঠকদের একটি নিজস্ব জগতে নিয়ে যান। শুধু কবিতা, গল্প বা উপন্যাস নয় সাহিত্যের অন্য সমস্ত দিকেই লেখকের চমকপ্রদ অবাধ বিচরণ। সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় অজস্র পুস্তকের প্রণেতা। যা ওঁর সাহিত্যকর্মের দলিল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেন ‘কেতকী’ নামে একটি স্বনামধন্য সাময়িকপত্র। সাশ্রয় নিউজ-এ তাঁর লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, আজকে ‘রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল’ -এ।

 

শব্দদের রাত্রি হয়


বিপ্লব ঙ্গোপাধ্যায়

স্মৃতির ভিতর দ্বিতীয় উপস্থিতি

২৫.

বাড়ি ফেরার পথটা সেদিন তিতাসের কাছে অদ্ভুত দীর্ঘ মনে হয়েছিল। একই রাস্তা, একই বাসস্টপ, একই ভিড় তবু কোথাও যেন সামান্য অসামঞ্জস্য। যেন দৃশ্যগুলো ঠিক আছে, কিন্তু তার ভিতরের দৃষ্টি বদলে গেছে। মানুষজন কথা বলছে, হকাররা ডাক দিচ্ছে, ট্রাফিক সিগন্যালের লাল-সবুজ আলোর ভেতর গাড়ির ঢেউ উঠানামা করছে সবই স্বাভাবিক। অথচ তিতাসের মনে হচ্ছিল, এই স্বাভাবিকতার আড়ালে কোনো অদৃশ্য সুর অনবরত বাজছে। বাসে বসে সে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। শীতের সন্ধ্যা নামছে ধীরে ধীরে। আলো নিভে যাচ্ছে না, কিন্তু রঙ বদলাচ্ছে। দিনের উজ্জ্বলতা সরে গিয়ে একধরনের ধূসর কোমলতা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। দোকানের সাইনবোর্ডগুলো জ্বলে উঠছে একে একে। পথের ধারের চায়ের দোকানে ভিড় জমছে। কিছু মুখে ক্লান্তি, কিছু মুখে তাড়াহুড়ো, কিছু মুখে অদ্ভুত শূন্যতা। তিতাস হঠাৎ খেয়াল করল, সে আজ কারও মুখ আলাদা করে দেখতে পারছে না। সব মুখ একাকার। সব শব্দ দূরের মতো। তার মাথার ভেতর কেবল একটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে।

একটি অদ্ভুত অপরাধবোধও কাজ করছিল ভেতরে। যেন সে অনীকের দিকে তাকিয়ে অন্য কাউকে ভাবছে। অথচ বাস্তবে দুজনের মধ্যে কোনও ভুল নেই। সম্পর্কের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই। তবু মন তো যুক্তির নিয়ম মানে না। রাত গভীর হল। ঘরের আলো নিভে গেছে। জানালার বাইরে স্থির অন্ধকার। দূরে কুকুরের ডাক। কোথাও কারও টিভির শেষ শব্দ। তিতাস উঠে বারান্দায় গেল।

অনীক।
আরেকটি নাম সোমদত্তা। দু’টি নাম যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে, একটি বর্তমান, একটি অতীত। কিন্তু তাদের মধ্যে সম্পর্ক এমনভাবে গাঁথা যে, আলাদা করে ভাবা কঠিন। বাড়ির গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই পরিচিত গন্ধ। রান্নার মশলার হালকা গরম গন্ধ, পুরনো কাঠের আসবাবের নিরীহ স্থিরতা, টেলিভিশনের ক্ষীণ শব্দ। এই বাড়িতে প্রতিদিনই সন্ধ্যা নামে একই ভঙ্গিতে। মা রান্নাঘরে ব্যস্ত, বাবা খবরের কাগজে চোখ রেখে বসে, ছোট ভাই মোবাইল নিয়ে ডুবে থাকে। তিতাস জুতো খুলে ধীরে ঘরে ঢুকল।
মা জিজ্ঞেস করলেন,
—এত দেরি হলো কেন?
—কলেজে কাজ ছিল।
স্বাভাবিক উত্তর। অভ্যাসগত। তবু নিজের কণ্ঠে সে আজ অল্প অপরিচিতি অনুভব করল। যেন কথাগুলো সে বলছে, কিন্তু ভেতর থেকে নয়। ঘরে ঢুকে ব্যাগটা নামিয়ে রাখল। জানালার পাশে চেয়ারটায় বসে রইল কিছুক্ষণ। বাইরে অন্ধকার ঘনাচ্ছে। পাশের বাড়ির ছাদে আলো জ্বলেছে। দূরে কারও রেডিওতে পুরনো গান ভেসে আসছে অস্পষ্টভাবে। চুপচাপ বসে থাকতে থাকতে তার মনে পড়ল সেই প্রথম দিন। স্কুলের ক্লাসরুম। সোমা ম্যাডাম। সাদা শাড়ি, পাতলা নীল পাড়। কণ্ঠে অদ্ভুত দৃঢ় কোমলতা। তিনি কবিতা পড়াতেন এমনভাবে যেন শব্দগুলো বই থেকে নয়, জীবনের ভিতর থেকে উঠে আসছে। অন্য শিক্ষকরা যেখানে পাঠ শেষ করতে ব্যস্ত, সেখানে তিনি থেমে যেতেন। একটি লাইনের ভেতরেই দাঁড়িয়ে থাকতেন অনেকক্ষণ।
‘এই শব্দটা শুনে তোমাদের কী মনে হয়?’
ছাত্রছাত্রীরা চুপ করে থাকত। কেউ উত্তর দিত না। কারণ প্রশ্নটা ছিল না পরীক্ষার, ছিল অনুভূতির। তিতাস তখনও খুব সাধারণ ছাত্রী। ভিড়ের মধ্যে একটি মুখ। কথা বলতে সংকোচ। নিজের অনুভূতি প্রকাশে দ্বিধা। একদিন ক্লাসে সোমা ম্যাডাম বলেছিলেন,
—যে ভয় পায়, সে-ই সবচেয়ে বেশি অনুভব করে। ভয় মানে দুর্বলতা নয়। ভয় মানে সংবেদনশীলতা।
সেদিন কথাটা তার ভেতরে অদ্ভুতভাবে ঢুকে গিয়েছিল।
আরেকদিন তিনি হোমওয়ার্ক দিয়েছিলেন, ‘নিজের মনে লুকিয়ে থাকা একটি কথা লিখে আনবে।’
তিতাস সারা রাত লিখেছিল। কী লিখেছিল এখন স্পষ্ট মনে নেই, কিন্তু মনে আছে, সেই প্রথম সে নিজের ভাষার সামনে দাঁড়িয়েছিল। নিজের অস্বস্তি, লজ্জা, অজানা দুঃখ, সবকিছুকে শব্দে ধরার চেষ্টা। খাতা জমা দেওয়ার সময় তার হাত কাঁপছিল। পরদিন সোমা ম্যাডাম তাকে ডেকে বলেছিলেন,
—তুমি লেখো। মাত্র দু’টি শব্দ।
কিন্তু সেই দুটি শব্দ যেন তার জীবনভর বহন করার মতো একরকম অনুমতি।
চেয়ারটায় বসে থাকতে থাকতে তিতাসের মনে হচ্ছিল, এত বছর পর হঠাৎ সেই কণ্ঠ আবার ফিরে এসেছে। অন্য শরীরে। অন্য নামে।
অনীকের কণ্ঠ। কেন এত পরিচিত লাগে? কেন শুনলেই বুকের ভেতর অদ্ভুত কম্পন ওঠে? সে কি কেবল ভালো গায়ক বলে? নাকি অন্য কিছু?
তিতাস ধীরে উঠে বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়াল। পুরনো বইগুলো সাজানো। ক’য়েকটি খাতা, কিছু নোট, কয়েকটি পুরনো ম্যাগাজিন। এক কোণে চাপা পড়ে থাকা একটি ডায়েরি। সে ডায়েরিটা নামাল। পাতাগুলো হলদে হয়ে গিয়েছে। হাতের লেখা কাঁচা। কোথাও অতিরিক্ত আবেগ, কোথাও অপ্রস্তুত বাক্য। পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ একটি নাম চোখে পড়ল।
‘সোমা ম্যাডাম আজ বললেন…’
তিতাস থেমে গেল।
সেই সময়ের নিজেকে যেন দূর থেকে দেখতে পেল। কত সহজে সে বিশ্বাস করত। কত সহজে আবেগে ভেসে যেত। একটি প্রশংসা, একটি দৃষ্টি, একটি বাক্য —সবকিছুর মধ্যেই সে অর্থ খুঁজত।
আজ সে বড় হয়েছে। অভিজ্ঞতা বেড়েছে। সন্দেহ বেড়েছে। বাস্তবতার বোধ তৈরি হয়েছে। তবু কেন আজকের অস্থিরতা এত কাঁচা? অনীকের কথা ভাবলেই কেন মনে হয়, এই সম্পর্ক কেবল নতুন নয়, পুনরাবির্ভাব?
বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করল সে। কিন্তু চিন্তা থামল না। বরং আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। অনীকের চোখ। তার কথাবার্তার ভঙ্গি। সংখ্যা নিয়ে নির্লিপ্ততা। আনন্দের ভেতর বিষাদের স্বীকৃতি। এ সবকিছুই কেমন যেন অদ্ভুতভাবে সোমা ম্যাডামের কথা মনে করিয়ে দেয়। এ কি কেবল কাকতালীয়? মানুষ কি সত্যিই এমনভাবে মিল নিয়ে জন্মায়? নাকি আমরা নিজেরাই মিল তৈরি করি স্মৃতির ভিতর? তিতাস নিজেকে প্রশ্ন করল, সে কি অনীকের মধ্যে সোমা ম্যাডামকে খুঁজছে? নাকি সোমা ম্যাডামের স্মৃতি অনীকের কণ্ঠে নিজেকে প্রকাশ করছে?
একটি অদ্ভুত অপরাধবোধও কাজ করছিল ভেতরে। যেন সে অনীকের দিকে তাকিয়ে অন্য কাউকে ভাবছে। অথচ বাস্তবে দুজনের মধ্যে কোনও ভুল নেই। সম্পর্কের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই। তবু মন তো যুক্তির নিয়ম মানে না। রাত গভীর হল। ঘরের আলো নিভে গেছে। জানালার বাইরে স্থির অন্ধকার। দূরে কুকুরের ডাক। কোথাও কারও টিভির শেষ শব্দ। তিতাস উঠে বারান্দায় গেল। শীতের বাতাসে একধরনের শূন্য স্বচ্ছতা। আকাশে অল্প তারা। পাশের বাড়ির ছাদ নিঃশব্দ।
সে ভাবল, সোমা ম্যাডাম এখন কেমন আছেন? তিনি কি এখনও সেই একই কণ্ঠে কথা বলেন?
তিনি কি জানেন, তার একটি বাক্য কারও জীবনভর থেকে যেতে পারে?
আর তিনি কি জানেন, তার ছেলের কণ্ঠ শুনে এক প্রাক্তন ছাত্রী এমনভাবে অস্থির হতে পারে?
অনীক কী জানে, তার গলায় কেবল সুর নয়, উত্তরাধিকারও আছে? হঠাৎ তার মনে হল, আগামীকাল অনীকের সঙ্গে দেখা হলে সে কীভাবে তাকাবে? স্বাভাবিকভাবে? নাকি নতুন সচেতনতায়? এই আবিষ্কার কী তাদের দূরত্ব বদলে দেবে? নাকি আরও নীরব ঘনিষ্ঠতা তৈরি করবে? সে বুঝতে পারছিল না, এই অনুভূতিকে কী নামে ডাকা যায়। নস্টালজিয়া? আবেগ? অথবা এমন এক সংযোগ, যার ব্যাখ্যা নেই? বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তার মনে হচ্ছিল, জীবনে কিছু সম্পর্ক সময়ের সরলরেখা মানে না। তারা এক সময় থেকে অন্য সময়ে গোপনে সরে যায়। এক মানুষ থেকে অন্য মানুষের ভিতর আশ্রয় নেয়। সোমা ম্যাডাম একদিন তার ভাষার দরজা খুলেছিলেন।
আজ অনীক যেন অজান্তেই খুলে দিচ্ছে অন্য এক দরজা, স্মৃতির।
রাত আরও গভীর হল।
তিতাস ধীরে ঘরে ফিরে এল।
কিন্তু তার ভেতরে যে অদৃশ্য সুর শুরু হয়েছে, তা আর থামল না। গুনগুন করে ঘুরে বেড়াতে লাগল সারা ঘর। 🍁 (ক্রমশঃ)

 

 

🍁কবিতা

 

অশোক কুমার রায় -এর একটি কবিতা 

শকুন ও নীল আকাশ

ভাবছো শকুনেরা দেশ ছেড়ে চলে গেছে?
এবার হয়তো মৃতপ্রায় লাশ
জেগে উঠবে সুদিনের ঘ্রানে।
কিন্তু তাই কি?
শকুনেরা যে রেখে গেছে বস্তি
তোমার প্রাসাদের কোণে কোণে
সেখানে গুমড়ে গুমড়ে আগুনের ফুলশয্যা, রচে গোপনে।
ঘুমিয়ে আছো বেশ!
ঘুমিয়ে থাকো।
হঠাৎ দেখবে অনাহুত চিতার আগুনে হবে তুমি লাশ।

গন্ধ পেয়েই শকুনে শকুনে
ছেয়ে যাবে নীল আকাশ।

 

 

প্রবাল মিত্র -এর একটি কবিতা

শুনছ?

পেট ফেটে যাচ্ছে
শব্দ নেই

ইট কাঁদছে
ধুলো গিলছে রোদ

মানে দাঁত
মানে ছুরি

একটা কবর
তার ভেতরে গন্ধ
গন্ধের ভেতরে আগুন

প্রেম নেই
শুধু নখ
শুধু চামড়া ছিঁড়ে যাওয়া অন্ধকার

মানে গালি
মানে রক্ত
মানে ভাঙা দরজার আর্তনাদ

আমরা লিখি
ছিঁড়ে ফেলি
আমরা জন্ম দিই…

দিই আমাদের…

 

 

গৌতম হাজরা -এর একটি কবিতা

প্রতীক সন্মতি

যখন শরণার্থীর মতো ঢুকে পড়ি তোমার গ্রহে
তখন গর্ভে অস্থির হও, খুঁজে ফেরো শেষ পরিণতি
আমি তো নাছোড়বান্দা ভবঘুরে এক
সেজে উঠি লৌকিকতায়, ইতিউতি দিই উঁকিঝুঁকি।

চারিদিকে এতো এতো অন্ধকার কেন? এতো কোলাহল?
তবে কি ছিল কোনো কঠিন প্রস্তুতি?
যার ছবি আড়ালে রেখে বাইরে দাঁড়ালে
সংলাপ বদল করে লিখে দিলে প্রতীক সন্মতি!

 

 

পৃথা রায় চৌধুরী -এর তিনটি কবিতা 

ধূসর চিহ্ন ছুঁয়ে 

নদীর আলসেয় দাঁড়ালে দূরান্ত থেকে উড়ে আসে
মতি বাইজীর প্রাচীন মসলিন দোপাট্টা।

ঠমকে গমকে ঝিরঝিরে রাস্তাঘাটে মেলা থাকে পছন্দের মেয়েডানা
চিঠি চিঠি চিরকুটে ওড়ে খাঁচা ভাঙ্গা গান
হালকা সুতীবুনোট বিকেল ভরে থাকে দালানকোঠার
পেঁয়াজ রসুন আমিষ গন্ধে।

সারেঙ্গী থেকে একতারায় পৌঁছোবার বেলায়
রাঙা বাউল মোরাম পেরোতে
আঁকা থাকে শরীরী ভাঁজ… নিষিদ্ধ।

নির্জন ভৈরবী ঠুমরী দ্বীপের বালিকা বসে গায়
“বাবুল মোরা নৈহার ছুটহি যায়…”

 

 

আগত স্বাধীন 

আর আমি তোমাকে কিছুই দেবো না
বলে গেল উড়ন্ত সাদা ইউনিফর্ম,
তুমি বুকে জড়িয়ে হাঁটো ছেলেমানুষি দেশপ্রেম
তুমি সেলাই করতে থাকো রঙের উপর রঙ

ওই দূর থেকে ভেসে আসে বাঁজা কবিতাদের প্যারেড
বাঁজাদের ম্যাটার্নিটি লীভ দেবার আইন হোক
এই মর্মে মিছিলে নেমেছে কাতারে কাতারে অষ্টাবক্র কলম
নাকমুখচোখের বদলে এক মুখ খয়েরি বা বাদামী পোঁচ
শুধু ডাইনেবাঁয়ে ডাইনেবাঁয়ে কিছু চামড়াহীন ড্যাবড্যাবে

মিছিলের শেষে হেঁটে চলেছি,
উড়িয়ে দিয়েছি স্বাতন্ত্র্য
“জন-গণ-মন-অধিনায়ক জয় হে”

তোমাদের গণতন্ত্রে মুগ্ধ যতো শিরদাঁড়াদের পেছনে ছুটে
বার বার বলেছি ওদের শাপমুক্ত করো,
ঋজু হও অষ্টাবক্র রূপ।

স্পন্ডাইলোসিস

অ্যাক্সেন্টেড বাংলা, প্রচুর পারফিউম ফ্রম প্যারিস,
জার্মান চকো
রাম দাদার গায়ে গায়ে বসি

এখনও এই মধ্য চল্লিশে
ভেসে আসে এক্কাদোক্কা গন্ধ
আর ওদেশের বিয়ার শ্যাম্পু চুলের থেকে
পেখম মেলে দেয় তুলো তুলো মন্দিরমাঠ বিকেল

পাড়া জুড়ে কেমন ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশী পাড়া
ষাটের মায়ের হাতে ভার
স্পেশাল গেজেটস… বালাই ষাট্‌!
সব লেপটে যায় দু দশকের তিল তিল অবহেলায়

বৃদ্ধ বাবার ঘাড়ে ভার স্পেশাল ফাইবারের বালিশ
ঝলমলে ছানি চোখ হাসে,
দুই দশকের ক্রমশ ঝুঁকে যাওয়া ঘাড়ের,
ঘুমোতে ঠেকনো লাগে না।

 

তাহমিনা শিল্পী -এর একটি কবিতা

শিকড়ের জড়তা ভেঙে কথা বলে মায়াবৃক্ষ

ভোরের বৃষ্টির সুরে সুর মিলে যায়
বাতাসের ঢেউয়ের সাথে একাত্ম করে
কোন এক নদী, নিয়ে যায় পূর্বপুরুষের ভিটায়।

দৃশ্যপটে পাখির কণ্ঠ শোনা যায়
ওরা ভালোবাসার কষ্টের গান করে
কাছেই কোথাও মাদল বাজার শব্দ
প্রথম প্রেম হারিয়ে ফেলেছে যে তরুণী
যেন তার বুকের ধুকধুক স্পন্দন
হৃদয় কেঁপেকেঁপে ওঠে।

ছায়ারা জড়ো হয় দেবদারু বনে
দিঘির জলের গভীরে বোনা হয়েছে সঙ্গীত
ফিসফাস করে গাইছে,পালাও…
পালাও এখনই
এখানে মাটির গায়ে দীর্ঘশ্বাস
ডালিম গাছে ঝুলে আছে অগ্নিশিখা
তোমাদের বিস্মৃতিকে অভিশাপ দেবে।

মস্তিষ্কের ভিতরে একটি মায়াবৃক্ষ
শিকড়ের জড়তা ভেঙে কথা বলে
ফিরে যেও না
কাছে আসো,আরও কাছে।
দিনের আলোতে এক ঝাঁক পায়রা উড়ছে
ওরা এখানেই থাকে।

 

 

মলয় ঘোষ -এর একটি কবিতা

আঙুল কথা বলে

আঙুলের ছোঁয়ায় শরীর হয়ে জগতের মানচিত্র।
আমি পথ হারাই। ইচ্ছাকৃতভাবে হারাই নিজেকে।
আপনার নাভির ওপর উপুড় হয়ে
কাঁপতে থাকা স্রোতে আমার সমস্ত কামনা মিশে যায়।

এইভাবে আমি
অবিরত দোল খেতে খেতে
আমাদের প্রেমের দেহগাথা লিখি
লিখি শুধুই কম্পন, উত্তাপ, এবং নীরব বিস্ফোরণ।

আমাদের চূড়ান্ত সমর্পণ
অবিরাম ছায়াপথের গান।

 

 

শ্বেতা বসু চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

খেলা

জানি, মনে পড়বে খুব
মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে জেগে উঠবে হঠাৎ, তারপর
তোমার ভেতরে তেষ্টা পাবে
কিন্তু এই অব্দি আসার পর আমি
মহাজাগতিক একজন নিঃসঙ্গ
তারার আলোয় ছায়াপথে ভেসে চলা…

ওই সময় তুমি ডাকলেও শোনে না কেউ
আমি আর মাটি নই
আমার প্রতিটি স্পন্দন তখন
সময়ের অতল স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে

তবুও
তোমার চোখের ভেতর যদি একফোঁটা জলের ঝিলিক ওঠে
সেই তরঙ্গেই আমি আবার ফিরে আসব
মহাজাগতিক শূন্যতার ভেতর থেকে
তোমার কোলের ভেতর
নরম সকালগুলোর মতো।

মাঝে মাঝে কষ্ট পেতে হয় বাবু

 

 

দুর্গাদাস মিদ্যা -এর একটি কবিতা

ঘটন অঘটন 

সকালে রোদ উঠলে দিন ভালো যাবে তা ঠিক নয়
মেঘের আড়ালে মেঘ কোথায় লুকিয়ে থাকে কে জানে!
মানুষের চরিত্রে কত ঘটনা ঘটে এই যে ছিল সাদা ফটফটে কলঙ্কের কালিতে কালিময় হয়।
আনন্দের মাঝেও বিষাদের ছায়া ঘোরাঘুরি করে নজরে
পড়ে না। যেভাবে পাহাড়ে ধস নামে হঠাৎ তেমনই কুপোকাত হয় আনন্দ সব
আর তখন নানা কলরবে উঠোনে কোলাহল উঠে।
মুখ দিয়ে তখন কথা ফোটে না।
রোদ উঠলেই দিন ঝলমলে হবে তা সত্য নয়
কে জানে কোনখানে লুকিয়ে থাকে হঠাৎ বিপর্যয়!

 

পরাণ মাঝি -এর একটি কবিতা

সোয়েটার 

এই পয়লা ফাল্গুন দিনে জড়িয়ে ধরো না আমাকে
পুড়ে যাবে, ঘেমে যাবে শরীর…
টুপটাপ করে গড়িয়ে পড়বে অযাচিত প্রেম, ভিজে ভিজে পুড়বো আমিও!

তারপর –
হয়ত বিরক্ত হবে, ছুঁড়ে ফেলবে। ভাববে আপদ গেল।

না গো –
যত দূরেই ছুড়ে দাও না কেন আমাকে
ঘুরে ফিরে ঠিক আবার আসবো কাছে।

জেনে রেখ – দিন বদলায়, তারিখ বদলায় না; ঋতুও…

আগামী হেমন্তের শেষে পড়বে মনে আবারও
আমি শীতার্ত প্রেম তোমার; কেবল উষ্ণতা দান করি
ভীষণ ভালোবাসি তোমার সকল কাজ কারবার
আমি আর কেউ নই, সামান্য সোয়েটার তোমার!!

 

 

শীতল চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

কলম

কলমের নারী- পুরুষ তকমা নেই বলেই-
নারী-পুরুষের জীবন অস্তিত্ব
তার কাছে অনায়াস
আবৃত- অনাবৃতের রূপ বর্ননায়৷
অক্ষরের নারী- পুরুষ রূপ নেই বলেই
তাকে দিয়ে সম্মান দেওয়া বা কাড়া,
কষ্ট বা সুখের গল্প রঙ মাখানো
মানব-মানবী দেহে৷
কলম ঠোঁটে কিছুটা ইতস্তত থাকলেও
তাকে দিয়ে পোশাকহীন শব্দ
উচ্চারণ করানোয় বাধ্য করা যায় কিংবা
শব্দকে তার শালীনতায় অলঙ্কারিত করা যায়৷
শব্দের মূল্যায়নে কলম
নারী বা পুরুষ চিহ্নিত না হলেও,
কিছুটা ইঙ্গিত বাহকে
তার লিপিকণ্ঠ।

 

 

প্রিয়াংকা নিয়োগী সনি -এর একটি কবিতা 

হৃদয় কবিতা 

ছড়ার সাথে প্রথম বন্ধু, ছড়াতেই প্রকৃতি‌ গাঁথা,
ছড়াতেই ছোট্ট বেলা, ছড়াতেই মন ভর্তি,
ছড়াতেই সুখের রাজ্যে আসমানভাসি,
এই বন্ধুত্ব আত্মার, চিরদিনের হৃদয়গ্রাহী।
ছড়ার থেকে কবিতায় অন্তরগামী।

কবিতা পথ দেখায়, কবিতায় আচ্ছাদিত আগামী,
কবিতায় ভর করে এগোনোর সময়সাথী,
কবিতা হৃদয় জুড়ে মনের কথা বাহারী,
কবিতায় আগুন ঝরে, মন বৈশাখী।

 

 

🍂ধারাবাহিক উন্যাস |
সাশ্রয় নিউজ -এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ শুরু হয়েছে সাহিত্যিক মমতা রায় চৌধুরী -এর ধারাবাহিক উপন্যাস ‘হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা’। একটি বিশেষ কালকে কেন্দ্র করে নারীদের নিয়ে এই উপন্যাস এগিয়ে যায়। নারীদের লড়াইয়ের কাহিনী পড়তে চোখ রাখুন রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ।

 

হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা

মমতা রায় চৌধুরী

সুয়নাদি

১২.

তিথির আজকের দুপুরটা একলা কেটেছে হয়ত এরকম কত দুপুর একাকীত্ব শুষে নিয়েছে, বুবুন আসার পর থেকে সেই একাকীত্বটা একটু হলেও কমেছে। সঙ্গে ভাগ বসিয়েছে শ্বেতাম্বরী। ও মেঝেতে এসে কিছুক্ষণ তিথির সাথে কথা বলে ওর ভাষায় কিছু বোঝাতে চায় তারপর তিথি ওর গায়ে একটু একটু করে হাত বুলিয়ে দেয় তারপর ও আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ে। বুবুন ছুটির দিনে তিথিকে পায় ছুটির দিনটা তাই ও-অনেকটা মজায় কাটায়। আজকে কেন জানিনা ওরা দুজনই খুব তাড়াতাড়ি শুয়ে পরেছে ।দুপুরের ওই নির্জনতা তিথিকে অনেক দিন পর গ্রাস করেছে কত কিছু মাথার মধ্যে চিন্তা হামাগুড়ি দিয়েছে ইতিউতি। সুনয়নার কথাগুলো বেশি করে মনে পড়েছে মনে পড়েছে কাগজি মাসির কথা অনেকদিন খোঁজ নেওয়া হয়নি। মাঝে একবার মায়ের ফোন এসেছিল। অনেকক্ষণ কথা হলো কিন্তু কথার মধ্যে কোথায় যেন একটা অভাব বোধ তৈরি হয়েছে বোঝা গেল মনটা খারাপ হয়ে গেল। বেশি কথা বলা গেল না.শরীরটা ভালো নেই বলে।
জানলার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এসবই ভাবছিল হঠাৎ সময় জানিয়ে দিল তোমার ভাবনার এবার ইতি ঘটাও সুনয়না আসছে না কাজগুলো এবার নিজেকেই করতে হবে। শাশুড়িমাকে চা দেবার সময় হয়ে গেছে। বুবুনের ব্রণভিটা আর শ্বেতাম্বরীর দুধ বিস্কিট। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে ওদেরও যেন অ্যালার্ম বেজে উঠল যে যার মত উঠে পড়ল শ্বেতাম্বরী লেজ নাড়তে নাড়তে তিথির কাছে আসলোএবার ওর পাওনাটা বুঝিয়ে দিতে হবে।

—যাওয়ার সময় সুনয়না তোমারা মাসিমার সাথে দেখা করে আসো।
—হ্যাঁ যাব।
একবার যাও না হলে রামায়ণ মহাভারত করে ছাড়বে।
সুনয়না হাসছে।
—তুমি যাও কথা বল আমি ততক্ষণ সন্ধ্যে দিই।
—কি ব্যাপার ওপরে কিসের আওয়াজ হল হ্যাঁ? ভাল জোরে আওয়াজ হল। তিথি ছুটল উপরে।
ও বাবা গিয়ে দেখছে দু’জনেই ভয়েতে এক জায়গায়। জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে।

বুবুনকে ব্রণভিটাটা ধরিয়ে দিয়ে কেন যেন আজকে জানলাটা অনেক মায়াবী হয়েছে আবার জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখল সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিমে। চারিদিকে কেমন একটা শান্ত স্নিগ্ধ ভাব একবার বুবুন আর শ্বেতাম্বরীর দিকে তাকিয়ে দেখল দুজনে খেলা করছে। হঠাৎই কলিং বেল বেজে উঠলো হরি হরায়ে নম কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ
শাশুড়ি মাকে চা দিয়ে এসে দরজাটা খুলতে গেল দেখলো সুনয়না, ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো তিথি।
—কী ব্যাপার সুনয়না।
—এই তো বৌদি দেখা করতে আসলাম।
সুনয়নাকে দেখে মনে হল ওর শরীর খুব খারাপ।
—এসো এসো ভেতরে এসো।
ভেতরে এসে বসল, একটুতেই কেমন হাঁপাচ্ছে।
—জল খাবে?
—হ্যাঁ দাও।
—এত রোগা হয়ে গেছ কেন এই কদিনেই!
হাসছে সুনয়না।
তবে এই হাঁসির ভেতরে একটা অনাবিল আনন্দ লুকিয়ে ছিল। শরীরটা মনটা দু’টোই আজ বিষন্নতায় পরিপূর্ণ। তবু হাসিটার মধ্যে একটা কেমন পরিপূর্ণতার মায়া জড়িয়ে ছিল।
—ওদিক থেকে শাশুড়ি মা হাঁকছেন।
—কে এল? কে এল বৌমা?
—সুনায়না এসেছে।
—এসেছে আমার কাছে একবার পাঠিও।
—ঠিক আছে।
—একটু চা খাও।
—সন্ধ্যে হয়ে গেছে।
—বৌদি আমি আর কাজ করব না।
—তুমি কাজ করবে না কেন?
-বৌদি শরীরটা ভাল নেই তো এই জন্য।
—শরীর ঠিক হলে কাজ করবে তো?
—দেখি।
—তাহলে আমাকে অন্তত অন্য একটা লোক দেখে দাও।
—ঠিক আছে দেখব আমাদের পাড়াতে আছে তো।
এর মধ্যেই আবার বমি পেয়ে গেল সুনয়নার।
—বৌদি আমি একটু বাথরুমে যাচ্ছি।
—হ্যাঁ হ্যাঁ যাও যাও যাও! দাঁড়াও লাইটটা জ্বালিয়ে দিই, অন্ধকার হয়ে গেছে।
বমি করে চোখ মুখে জল দিয়ে আসল।
—কি গো বমি করছ? কিছু ভাল খবর আছে নাকি?
সুনয়না হাসছে। মিষ্টি লাগছে ওকে দেখতে। একজন পরিপূর্ণ নারী লাগছে।
—কি জানি বৌদি, তোমাদের আশীর্বাদে ভাল খবর হতেও পারে।
—হতেও পারে মানে !
—ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম ওখান থেকে তোমার এখানে আসলাম।
—বলছ কিছু নয়না হেসে তিথি বলল।
—ডাক্তার তো বললেন ভাল খবরই আশা করি রিপোর্টটা আসলে বুঝতে পারব।
—এখন তো বাড়িতেই টেস্ট করা যায় যাই হোক।
—হ্যাঁ জানি, আমার আবার কেমন ভয় ভয় লাগে এসব।
—বাবা খুব ভাল, তাহলে তো এই সময় তোমাকে রেস্টে থাকতে হবে।
—হ্যাঁ, ডাক্তারবাবু সেরকমই বলেছেন।
—তুমি একা গিয়েছিলে ডাক্তারের কাছে?
—না গো আমার বর গেছিল।
—ও মা সে কি কথা! কোথায় তাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছ, কোথায়?
—বাইরে আছে।
—ছিঃ ছিঃ ছিঃ সুনয়না এটা ঠিক করোনি।
—না গো বৌদি আমি আসতে বলেছিলাম লজ্জায় আসেনি।
—তাই বলে ওই রাস্তাতে দাঁড়িয়ে আছে?
—জানি না, ওই সামনের চায়ের দোকানটাতে।
হঠাৎই সুনয়না তিথির হাত দুটো ধরে কেঁদে ফেলে।
—কাঁদছ কেন সুনয়না?
ওর চোখ দু’টো যেন কিছু বলতে চায় ও যেন ভরসা করতে চায় তিথিকে।
—আমি জানিনা, আমার কপালে কি আছে!
—কেন এরকম কথা কেন বলছ?
—আমাদের মত মেয়েদের কোথাও জায়গা হয় না এটা আমি এখন বুঝতে পারছি। আমাদের জায়গা যেখানে ছিল সেটাই বোধহয় পাকা জায়গা। বাকি সবই ঠুনকো কাঁচের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে নাকি, এই আশঙ্কাতেই আমি সারাটা দিন রাত কাটাই।
সুনায়নার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে তিথি বলল,
—না না না সব ঠিক হবে এত বাধা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এসেছ এখন যা হবে সব ভালই হবে দেখে নিও।
—কিন্তু বৌদি এখন আমি কোথা থেকে এত টাকা ইনকাম করব বল।
—মানে? এত এত টাকা কিসের দরকার তোমার!
—আমার নয় পরিবারের দরকার আর সেটা তো আমাকেই রোজগার করতে হবে।
—হ্যাঁ তুমি তো তোমার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তো কাজ করছ?
—এরকম কাজ করে এই মাইনে নিয়ে তুলে দিলে হবে না আরও বেশি দিতে হবে?
—কি বলছ এসব? কে বলেছে তোমাকে এসব কথা? বলো…
—শাশুড়ি মা রোজ আমাকে যা গালমন্দ করেন এত শরীর খারাপের মধ্যে একটু রেস্ট নেবার উপায় নেই। সারাদিন রাত তো চলছে। গালিগালাজ।
—তোমার বর কিছু বলে না?
—হ্যাঁ ও তো বাড়ি থাকে না তবে ইদানিং ও-বুঝতে পারছে বোধহয় কিছু একটা হচ্ছে আমার সাথে। —ও-কিন্তু আমাকে যে জিজ্ঞেস করে কিন্তু আমি ওকে সত্যি কথাটা বলতে পারি না।
—প্রয়োজন হলে তো তোমাকে বলতেই হবে।
—ও আমাকে খুব ভালবাসে।
ভালবাসে বলেই তো তোমাকে বিয়ে করেছে।
—আজকেই তো বাড়িতে কত অশান্তি আমি একটু রেস্ট নেব সে উপায়ও নেই।
—বুঝতে পারছি।
—এজন্যই বৌদি, এই শরীর খারাপ অবস্থাতে আমি তোমাদের কাজটা ছেড়ে দিলাম।
—না না ঠিক আছে এরকম অবস্থাতে তোমার উচিত।
আমার ডাকছে সু সু সু…
—যাওয়ার সময় সুনয়না তোমারা মাসিমার সাথে দেখা করে আসো।
—হ্যাঁ যাব।
একবার যাও না হলে রামায়ণ মহাভারত করে ছাড়বে।
সুনয়না হাসছে।
—তুমি যাও কথা বল আমি ততক্ষণ সন্ধ্যে দিই।
—কি ব্যাপার ওপরে কিসের আওয়াজ হল হ্যাঁ? ভাল জোরে আওয়াজ হল। তিথি ছুটল উপরে।
ও বাবা গিয়ে দেখছে দু’জনেই ভয়েতে এক জায়গায়। জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে।
ওরা যে অন্যায় করেছে তা বুঝতে পেরেছে। রাগটাকে কন্ট্রোল করে নিল তিথি। তারপর বুবনকে বলল দেখো দেখি কী করছ,
ভয়ে ভয়ে বুবুন খাতাটা দেখাল,
—দেখল ওতে আঁকা আছে
একটা বড় মাঠের ছবি তাতে শ্বেতাম্বরী আর বুবুন খেলা করছে।
বুকের ভেতরটা বড্ড বাজল
ভেতরে ভেতরে কেমন শূন্যতা তৈরি হয়েছে বুঝতে পারল।
তারপর তিথি বুবুনকে জড়িয়ে ধরে বলল
—খুব সুন্দর হয়েছে।
এরমধ্যে সুনয়না ডাকছে,
—বৌদি ও বৌদি…
—হ্যাঁ যাচ্ছি গো, একটু বসো কথা
হল, শাশুড়ি মায়ের সাথে কথা…
—হ্যাঁ হল।
—এবার আমি আসি।
—ঠিক আছে, সাবধানে।
—অন্য একদিন আসব।
—হ্যাঁ অবশ্যই।
—হ্যাঁ গো কাগজি মাসির সঙ্গে দেখা হয়।
—হ্যাঁ আজই দেখা হয়েছে।
—কেমন আছে মাসি?
—শরীরটা খুব খারাপ
—ও বাবা তাই।
—ও বৌদি আসছি।
—আচ্ছা এসো।
সুনয়না চলে গেল। ওর চলে যাবার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে
তিথি। 🍁 (ক্রমশঃ)

 

 

🍁ভ্রণ 

 

জায়গাটি অবাক করেছিল তা হল ‘অর্জুন’স পেনান্স’ (Arjuna’s Penance)। বিশাল একটি পাথরের উপর খোদাই করা এই শিল্পকর্মে দেখা যায় দেবতা, ঋষি, প্রাণী, নাগ, গঙ্গা অবতরণ সব একসঙ্গে। এর বিশালতা আর সূক্ষ্মতা দেখে বোঝা যায়, প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্য কতখানি জটিল ও ভাবনাপ্রবণ ছিল। স্থানীয়রা এটিকে ‘গঙ্গা অবতার’ও বলেন।

মহাবলীপুরম : পাথরের গহীনে ইতিহাসের জ্যোতি

ছবি : সংগৃহীত

মিলি ঘোষ 

দি সমুদ্রের ধারে ইতিহাসের আঁচ পাওয়া যায়, তবে তা মহাবলীপুরম (Mahabalipuram) ছাড়া আর কোথাও নয়। তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম (Kanchipuram) জেলার এই ছোট্ট শহর যেন পাথরের মধ্যে প্রাণের স্পন্দনকে চিরকাল বেঁধে রেখেছে। সমুদ্রের নোনা হাওয়া আর পাথরের গায়ে কুড়ানো সূর্যের আলোয় প্রতিটি মন্দির, প্রতিটি শিলালিপি, প্রতিটি গুহা গল্প বলে প্রাচীন সভ্যতার, এক পরাক্রমী রাজবংশের, আর মানুষের শিল্পপ্রতিভার। যখন সূর্য উদিত হয় বঙ্গোপসাগরের বুকে, তখন মহাবলীপুরমের (Mahabalipuram) উপকূলীয় মন্দিরগুলোর উপরে তার আলো পড়ে এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। প্রথম দিনের ভোরে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, পৃথিবীতে এমন শৈল্পিক দৃশ্য আর কোথাও নেই। এই অনুভূতিই হয়তো সকল পর্যটককে টেনে আনে এখানে।

একজন দোকানদার বলল, “দিদি, এখানকার শিল্পীরা এখনও পল্লব যুগের কারিগরি শিখে কাজ করেন। আমাদের জীবিকা এই শিল্প।” সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ঘোরাঘুরির পর বুঝলাম, মহাবলীপুরম আসলে শুধু দর্শনীয় স্থান নয়। এটি ইতিহাসের জীবন্ত পাঠশালা।
ছবি : সংগৃহীত

পল্লব (Pallava) রাজাদের স্থাপত্যশিল্প এখানে সর্বাধিক ফুটে উঠেছে। সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দীতে গড়া এই শৈলকর্তিত মন্দিরসমূহ ও গুহা-মন্দিরগুলির ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বোঝা যায়, কেন ইউনেস্কো (UNESCO) এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দিয়েছে। ইতিহাসবিদেরা বলেন, “মহাবলীপুরম (Mahabalipuram) শুধু স্থাপত্য নয়, এটি তৎকালীন সমাজ, ধর্ম, রীতি এবং মানুষের অন্তর্লৌকিক বোধের এক জ্যান্ত দলিল।” সমুদ্রতটের একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা শোর টেম্পল (Shore Temple) যেন এক অমর গান গাইছে। শোনা যায়, একসময় এই এলাকায় সাতটি শোর মন্দির ছিল, যেগুলোকে ‘সপ্ত-পগোডা’ বলা হত, কিন্তু এখন একটিমাত্রই স্থায়ীভাবে দৃশ্যমান। শোর টেম্পলের (Shore Temple) শৈলশিল্প, শিবলিঙ্গ ও নারসিংহের মূর্তি দেখার সময় মনে হয়েছিল, পাথরের মধ্যেই ঈশ্বরকে বেঁধে ফেলা হয়েছে চিরদিনের জন্য। রথসমূহ (Rathas) বা পঞ্চ রথের (Five Rathas) কথা না বললেই নয়। এগুলোকে মোনোলিথিক মন্দির বলা হয়, কারণ সম্পূর্ণ একটি পাথর কেটে এই রথগুলোর অবয়ব গড়া হয়েছে। এখানে দ্রৌপদীর (Draupadi), অর্জুনের (Arjuna), ভীমের (Bhima), যুধিষ্ঠিরের (Yudhishthira) ও নকুল সহ সহদেবের (Nakula Sahadeva) রথ আছে। প্রতিটি রথের গায়ে খোদাই করা প্রতিমা, স্তম্ভ আর দেওয়াল যেন কথা বলছে, হাজার বছরের পুরনো গল্প। একজন স্থানীয় গাইড বলছিলেন, “

ছবি: সংগৃহীত

শুধু মন্দির নয়, এগুলি পল্লবদের (Pallavas) শক্তি, কৌশল আর শিল্পের তেজময় নিদর্শন।” আরও যে জায়গাটি অবাক করেছিল তা হল ‘অর্জুন’স পেনান্স’ (Arjuna’s Penance)। বিশাল একটি পাথরের উপর খোদাই করা এই শিল্পকর্মে দেখা যায় দেবতা, ঋষি, প্রাণী, নাগ, গঙ্গা অবতরণ সব একসঙ্গে। এর বিশালতা আর সূক্ষ্মতা দেখে বোঝা যায়, প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্য কতখানি জটিল ও ভাবনাপ্রবণ ছিল। স্থানীয়রা এটিকে ‘গঙ্গা অবতার’ও বলেন। সন্ধ্যায় যখন সূর্য ডুবে যাচ্ছিল, তখন শোর টেম্পলের (Shore Temple) পেছনে কমলা আভা ছড়িয়ে পড়েছিল। সমুদ্রের গর্জন আর বাতাসের শব্দের মধ্যে সেই দৃশ্য যেন এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। এক জার্মান পর্যটক বলছিলেন, “এটি আত্মা জাগ্রত করার স্থান।”

ছবি : সংগৃহীত

মহাবলীপুরমের (Mahabalipuram) রাস্তাগুলোও কম নয়। এখানে বিভিন্ন পাথরের ভাস্কর্য বিক্রেতা, কাঠের হাতের তৈরি সামগ্রী, মাটি আর শাঁখের গহনা পাওয়া যায়। একজন দোকানদার বলল, “দিদি, এখানকার শিল্পীরা এখনও পল্লব যুগের কারিগরি শিখে কাজ করেন। আমাদের জীবিকা এই শিল্প।” সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ঘোরাঘুরির পর বুঝলাম, মহাবলীপুরম (Mahabalipuram) আসলে শুধু দর্শনীয় স্থান নয়। এটি ইতিহাসের জীবন্ত পাঠশালা। এখানে আসা মানে সময়কে ছুঁয়ে ফেরা। প্রতিটি পাথর, প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি আলো-ছায়া, সব কিছু মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক গভীর সংযোগ, যা শুধু চোখে নয়, হৃদয়েও গেঁথে থাকে।🍁

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার | অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক

 

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com, sasrayanews@gmail.com 

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

সম্পাদকীয় ঋণ : ‘মহামিলনের কথা’ ও ‘ফিরে পড়া’ বিভাগের লেখা  আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন