relationship age gap | প্রেমে বয়সের ফারাক কতটা ঠিক? বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

SHARE:

শ্রেয়সী মজুমদার ★ সাশ্রয় নিউজ : প্রেমে বয়সের ফারাক নিয়ে বিতর্ক চিরন্তন। কখনও কেউ ৫-৬ বছরের বড় প্রেমিক বা প্রেমিকাকে মেনে নেয়, কখনও আবার ১৫-২০ বছরের ব্যবধান দেখলে ঠোঁট বাঁকায় সমাজ। কিন্তু সত্যিই কি বয়সের ফারাক সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে? একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সমাজমনস্তত্ত্ববিদদের (Sociologists) মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা যাক, সম্পর্কের জন্য ‘সেরা বয়স ফারাক’ কতটা হওয়া উচিত।

সবচেয়ে প্রচলিত যুক্তি, ‘হাফ-এজ-প্লাস-সেভেন’ নিয়ম। অর্থাৎ আপনার বয়সের অর্ধেকের সঙ্গে ৭ যোগ করলে যে বয়স পাওয়া যাবে, তার চেয়ে ছোট সঙ্গী নির্বাচন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন, ৩০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য বয়স ২২ (৩০ ভাগ ২, অর্থাৎ ১৫, তার সঙ্গে ৭)। এই সূত্রের উৎস রহস্যময়। কেউ বলেন প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকরা (Greek philosophers) প্রচার করেছিলেন, কেউ বলেন আধুনিক পাশ্চাত্য সমাজেই (Western society) এই ধারণার জন্ম। কিন্তু বাস্তবে? ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাটলান্টার (University of Atlanta) একটি বিশদ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব দম্পতির বয়সের ফারাক ১ বছরের কম, তাঁদের বিচ্ছেদের (Divorce) সম্ভাবনা সবচেয়ে কম, মাত্র ৩%। বয়সের ফারাক ৫ বছর হলে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বেড়ে যায় ১৮%-এ। ফারাক ১০ বছর হলে তা ৩৯%। আর বয়সের ব্যবধান ২০ বছর ছাড়ালেই বিচ্ছেদের সম্ভাবনা দাঁড়ায় প্রায় ৯৫%। এই পরিসংখ্যান দেখিয়ে দেয়, বয়স যত বাড়ে ফারাক তত বড় হয় ঠিকই, তবে সম্পর্কের স্থায়িত্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এর পিছনে কারণ কী? সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমবয়সি বা কাছাকাছি বয়সের মানুষদের (Peers) মধ্যে মানসিক, শারীরিক ও জীবনের লক্ষ্য ও স্বপ্নের মিল বেশি থাকে। একই প্রজন্মের (Generation) মানুষদের বেড়ে ওঠা, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিস্থিতি একরকম। ফলে বোঝাপড়া সহজ হয়। কিন্তু বয়সের ফারাক বাড়লে অভিজ্ঞতা, রুচি, জীবনদর্শনে ফারাক আসে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয় দ্বিগুণ পরিশ্রম।অন্যদিকে, বয়সের ফারাক থাকা সম্পর্কগুলিরও ইতিবাচক দিক আছে। যেমন, University of Colorado-র (University of Colorado) একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অনেকেই বড় সঙ্গীর অভিজ্ঞতা, স্থিতিশীলতা ও দায়িত্ববোধের জন্য আকৃষ্ট হন। আবার অনেকেই ছোট সঙ্গীর তারুণ্য, উদ্দীপনা এবং নতুনত্ব উপভোগ করেন। সাইকোলজিস্ট লরা কার্পম্যান (Laura Karpman) জানিয়েছেন, ‘যেখানে বোঝাপড়া, সম্মান, ভালবাসা থাকে, সেখানে বয়স সংখ্যা মাত্র। সম্পর্কের সাফল্য নির্ভর করে মানসিক পরিপক্বতার (Emotional maturity) উপর।’ কিন্তু বয়সের ফারাক বাড়লে কিছু সামাজিক ও পারিবারিক চ্যালেঞ্জ আসে। যেমন, বন্ধুদের মধ্যে মন্তব্য, পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা, সন্তান জন্ম ও লালন-পালনের পরিকল্পনা, এমনকী সঙ্গীর মৃত্যুজনিত শোক। বিশেষ করে বেশি বয়সের সঙ্গীর ক্ষেত্রে জীবদ্দশার ফারাক (Life expectancy gap) থেকেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও একাকীত্বের ভয় তৈরি হয়।

এই প্রসঙ্গে ‘হাফ-এজ-প্লাস-সেভেন’ সূত্রকে বিশেষজ্ঞরা শুধুমাত্র সামাজিক মাপকাঠি হিসেবে দেখলেও, এটিকে সম্পর্কের সাফল্যের নিয়ামক নয় বলেই মত দেন। তাঁদের পরামর্শ, বয়সের ফারাক থাকলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া, সমান দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ জীবনের স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকলে সম্পর্ক সফল হয়। ভারতীয় সমাজে (Indian society) এখনও বয়সের ফারাক নিয়ে নানা রকম ধারণা প্রচলিত। পুরুষ বড় হলে সহজে মেনে নেওয়া হয়, কিন্তু নারী বড় হলে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। এই লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিও (Gender bias) ক্রমে বদলাচ্ছে। বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) ও নিক জোনাসের (Nick Jonas) দাম্পত্য জীবন, মালাইকা অরোরা (Malaika Arora) ও অর্জুন কাপুরের (Arjun Kapoor) সম্পর্ক তার উদাহরণ। দেখতে হবে যে, বয়স ফারাক নিয়ে কোনও চূড়ান্ত ফর্মুলা নেই। সম্পর্ক গড়ে ওঠে ভালবাসা, প্রেম, বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা আর একসঙ্গে জীবনের পথ চলার ইচ্ছায়। বয়স, সামাজিক নিয়ম, মাপে মাপে বিচার এগুলি একদিন হয়ত অতীত হবে, যদি সম্পর্কের গভীরতা থাকে নিঃশর্ত।

ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Fake relationships | নতুন মানুষের খোঁজে, কেন কাছের মানুষও হয়ে ওঠে প্রতারক?

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন