PV Sindhu Asian Games 2026 | মাঝরাতে ম্যাচ, পরদিনই ফের কোর্টে! এশিয়ান গেমসে বিদায়ের পর সূচি নিয়ে ক্ষোভ পি ভি সিন্ধুর

SHARE:

এশিয়ান গেমস ২০২৬ (Asian Games 2026)-এ পদকের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়ে ম্যাচের সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পি ভি সিন্ধু (P V Sindhu)। চিনের চেন ইউফেইয়ের (Chen Yufei) কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ম্যাচ খেলতে হওয়ায় প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাননি তিনি। শনিবার পরপর দু’টি ম্যাচ খেলার পরে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে কোর্ট ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তার পর রবিবারই আবার কোয়ার্টার ফাইনালে নামতে হয়।

সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ কলকাতা : এশিয়ান গেমস ২০২৬ (Asian Games 2026)-এ পদকের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়ে ম্যাচের সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পি ভি সিন্ধু (P V Sindhu)। চিনের চেন ইউফেইয়ের (Chen Yufei) কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ম্যাচ খেলতে হওয়ায় প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাননি তিনি। শনিবার পরপর দু’টি ম্যাচ খেলার পরে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে কোর্ট ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তার পর রবিবারই আবার কোয়ার্টার ফাইনালে নামতে হয়। সিন্ধুর মতে, দীর্ঘ র‌্যালিনির্ভর ব্যাডমিন্টনে এমন সূচী খেলোয়াড়ের শারীরিক সক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এশিয়ান গেমসে নিজের অভিযান নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই পদকের প্রত্যাশা ছিল সিন্ধুর। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালেই চেন ইউফেইয়ের কাছে পরাজিত হয়ে সেই লক্ষ্য থেমে যায়। ম্যাচের পরে নিজের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সিন্ধু শুধু প্রতিপক্ষের খেলা নিয়ে কথা বলেননি, প্রতিযোগিতার ম্যাচ বিন্যাস নিয়েও নিজের অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবার তাঁকে দু’টি ম্যাচ খেলতে হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় রাত অনেকটাই গড়িয়ে গিয়েছিল। ঘুম ও বিশ্রামের পর পরের দিনই আবার গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে কোর্টে নামতে হয় তাঁকে।

আরও পড়ুন : Tom Cruise AI comments | এআই বদলাবে সিনেমার দুনিয়া, তবু দর্শক কেন খুঁজবেন মানুষকেই! টম ক্রুজের কথায় নতুন ইঙ্গিত

সিন্ধুর কথায়, ‘সূচী যেভাবে তৈরি হয়েছে, তা আরও ভাল হতে পারত।’ তাঁর দাবি, শনিবার রাত পর্যন্ত ম্যাচ চলার পরে পর্যাপ্ত সময় হাতে ছিল না শারীরিক ভাবে নিজেকে পরের ম্যাচের জন্য তৈরি করার। ব্যাডমিন্টনে দীর্ঘ সময় ধরে দ্রুত গতিতে চলাফেরা করতে হয়। বারবার দিক পরিবর্তন, লাফ, স্ম্যাশ, ড্রপ ও দীর্ঘ র‌্যালির মধ্যে দিয়ে পয়েন্ট জিততে হয়। তাই শুধু মানসিক প্রস্তুতি নয়, পেশির পুনরুদ্ধারও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ভারতের এই তারকা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলার প্রসঙ্গ উঠলে সিন্ধু জানান, এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যতই মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকুন, শরীর সবসময় সেই প্রস্তুতির সঙ্গে তাল রাখতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, ‘রিকভারি মানসিক প্রস্তুতির থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।’ কারণ কোর্টে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য শুধু মনোযোগ যথেষ্ট নয়, একই সঙ্গে পা ও শরীরকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো অবস্থায় থাকাও প্রয়োজন। দীর্ঘ র‌্যালির সময় একটি শট ফেরানোর জন্য খেলোয়াড়কে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে হয়। ক্লান্তি জমে গেলে সেই প্রতিক্রিয়ার গতি কমে যেতে পারে।

চেন ইউফেইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে সিন্ধু সেই শারীরিক চাপ কতটা অনুভব করেছিলেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি নিজের খেলা পুরোপুরি খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেননি। বরং তাঁর বক্তব্য, কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি ভাল খেলেছেন, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় গতি ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া সবসময় ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে লম্বা র‌্যালির সময় শরীরের ক্লান্তি সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন সিন্ধু। সিন্ধুর এই মন্তব্যের পর এশিয়ান গেমসের সূচি তৈরি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে একই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ভারতীয় খেলোয়াড় উন্নতি হুডাও (Unnati Hooda) সূচির প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অবশ্য কিছুটা সংযত। হারের কারণ হিসেবে সূচিকে পুরোপুরি দায়ী করতে চাননি তিনি। একই সঙ্গে তাঁর মত, খেলোয়াড়দের শারীরিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টি মাথায় রেখে ম্যাচের সময় নির্ধারণ করা গেলে পরিস্থিতি আরও সুবিধাজনক হতে পারে।

আরও পড়ুন : Simla Agreement : সিমলা চুক্তি বাতিল : কূটনৈতিক ঝুঁকি ও ভারতের সম্ভাব্য সুবিধা

ব্যাডমিন্টনের মতো খেলায় ম্যাচের ব্যবধান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে যখন প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়তে থাকে, তখন আগের ম্যাচ থেকে শরীরকে ফিরিয়ে আনার জন্য সময় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন খেলোয়াড়ের পেশি, স্নায়ু এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার উপর টানা ম্যাচের চাপ পড়ে। সিন্ধুর বক্তব্যের মূল জায়গাতেও রয়েছে সেই পুনরুদ্ধারের সময়। তাঁর মতে, খেলোয়াড় হয়তো মনে করতে পারেন যে তিনি ভাল অবস্থায় রয়েছেন, কিন্তু কোর্টে গিয়ে বোঝা যায় শরীর কাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। এশিয়ান গেমস থেকে সিন্ধুর বিদায়ের ঘটনায় আর একটি বিষয়ও সামনে এসেছে, লাইন কল নিয়ে বিতর্ক। চেন ইউফেইয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে কয়েকটি শাটল লাইনের ভিতরে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু যে কোর্টে সিন্ধু খেলছিলেন, সেখানে ‘হক-আই’ (Hawk-Eye) প্রযুক্তির সুবিধা ছিল না। ফলে কোনও বিতর্কিত লাইন কলের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও পাননি তিনি।

সিন্ধুর খেলা হয়েছিল চার নম্বর কোর্টে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক ও দুই নম্বর কোর্টে হক-আই প্রযুক্তি ছিল, কিন্তু তাঁর কোর্টে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, এশিয়ান গেমসের মতো বড় প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে লাইন কল যাচাই করার প্রযুক্তি থাকা প্রত্যাশিত। তাঁর মতে, কয়েকটি শট লাইনের কাছাকাছি পড়েছিল এবং সেগুলির অন্তত দু’একটি সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা গেলে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলাতে পারত। ব্যাডমিন্টনে একটি পয়েন্টের গুরুত্ব কতটা, তা ম্যাচের ফলেই বোঝা যায়। বিশেষ করে দুই খেলোয়াড় যখন কাছাকাছি লড়াই করেন, তখন একটি ভুল লাইন কল বা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। হক-আই প্রযুক্তির সাহায্যে শাটল লাইনের ভিতরে না বাইরে পড়েছে, তা পুনরায় যাচাই করা যায়। ফলে খেলোয়াড়ের চ্যালেঞ্জ করার অধিকার থাকলে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়। সিন্ধুর বক্তব্য মূলত সেই ব্যবস্থার অনুপস্থিতি নিয়েই।

সিন্ধুর বিদায়ের জন্য কেবল সূচি বা প্রযুক্তির অভাবকেই দায়ী করেছেন, এমনটা বলা ঠিক হবে না। চেন ইউফেইয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে ফল নির্ধারণ করে খেলোয়াড়ের কোর্টের পারফরম্যান্স, প্রতিপক্ষের কৌশল, পয়েন্টের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া আর ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি। সিন্ধুও নিজের বক্তব্যে তাঁর খেলার দিকটি অস্বীকার করেননি। বরং সূচি ও পুনরুদ্ধারের সময়কে নিজের পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। এশিয়ান গেমস থেকে বিদায়ের পর সিন্ধুর সামনে এখন আরও একটি প্রশ্ন যে, পরবর্তী এশিয়ান গেমসেও কী তাঁকে দেখা যাবে? এ বিষয়ে অবশ্য দরজা বন্ধ করেননি ভারতের তারকা শাটলার। তিনি জানিয়েছেন, তখনও যদি খেলার ইচ্ছা থাকে এবং শরীর চোটমুক্ত থাকে, তা হলে আবার এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার কথা ভাববেন। অর্থাৎ অবসরের কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা ধাপে ধাপে এগোনোর। সিন্ধুর কথায়, ‘প্রতিটি বছর ধরে ধরে এগোতে চাই।’ তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল চোট এড়িয়ে শরীরকে প্রতিযোগিতার উপযোগী রাখা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে একাধিক চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টিও তাঁর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ সিন্ধুর অভিযান অবশ্য প্রত্যাশামতো শেষ হয়নি। পদকের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নিতে না পারলেও তাঁর বিদায়ের পর উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সূচী তৈরি, খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধারের সময় এবং প্রযুক্তিনির্ভর আম্পায়ারিং ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। সিন্ধুর বক্তব্য সেই আলোচনাকেই সামনে এনেছে। এক দিকে টানা ম্যাচের চাপ, অন্য দিকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রযুক্তিগত পর্যালোচনার সুযোগ না থাকা, দুই বিষয়ই তাঁর বক্তব্যে জায়গা পেয়েছে। এখন সকলে অপেক্ষায় থাকবে প্রতিযোগিতার পরবর্তী ম্যাচগুলির সূচী ও ব্যবস্থাপনার দিকে। সিন্ধুর মন্তব্যের পর খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও ম্যাচের মধ্যে পর্যাপ্ত ব্যবধান রাখার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বড় মঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রযুক্তিগত সহায়তা সব কোর্টে সমান ভাবে দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। আর পি ভি সিন্ধুর ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্য আপাতত একটাই, শরীর সুস্থ রাখা, ধাপে ধাপে এগোনো এবং সুযোগ এলে আবার বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোর্টে ফেরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Asian Aquatic Championship, Snigdha Ghosh | এশিয়ান অ্যাকোয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শিবিরে বাংলার দুই সাঁতারু, ভারতের স্বপ্ন এবার দেশে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন