জয়ী বিশ্বাস ★ সাশ্রয় নিউজ : ২০১৮ সালের ডিসেম্বর, রাজস্থান (Rajasthan)–এর যোধপুর (Jodhpur) শহরের উমেদ ভবন প্যালেসে রাজকীয় আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) ও নিক জোনাস (Nick Jonas)। সেদিন যেন সত্যিই বাস্তবের রাজা-রানির এক প্রেমকথা রচনা হয়েছিল। আকাশছোঁয়া বাজেট, সাদা ঘোড়া, ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে পশ্চিমি গাউন প্রত্যেকটি পর্বে ছিল নজরকাড়া নান্দনিকতা। কিন্তু শুধু এই রূপকথার মতো বিবাহ নয়, প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ব্যক্তিত্ব বরাবরই সাহসী, স্পষ্টবক্তা ও প্রগতিশীল। তার সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ফের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “বিয়ের জন্য ভার্জিন (Virgin) মেয়ে খুঁজে বেড়ানো একেবারেই অনুচিত। বরং এমন একজন মানুষ খোঁজো, যার মধ্যে সভ্যতা ও সংবেদনশীলতা রয়েছে। সতীত্ব একটি রাতেই হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু চারিত্রিক গুণাবলি ও মূল্যবোধ মানুষের প্রকৃত পরিচয় দেয়।” ওঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশংসা করেছেন প্রিয়ঙ্কার এই স্পষ্ট মতাদর্শের। আবার কেউ কেউ এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁকে ‘পুরুষবিদ্বেষী’ বলেও অভিহিত করেছেন। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই প্রিয়াঙ্কা নিজেকে ‘নারীবাদী’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “নারীবাদ মানেই পুরুষদের নিচে ফেলে দেওয়া নয়। বরং নারী ও পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই এই মতবাদের মূল কথা।”
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ছবি : সংগৃহীত
এমন মন্তব্য করার সাহস হয়ত সবার থাকে না। বলিউডের (Bollywood) বহু অভিনেত্রী সম্পর্ক, বিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমনটা প্রকাশ্যে বলেন না। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার মতে, এই ধরনের চুপ করে থাকার সংস্কৃতিই লিঙ্গ-আধিপত্যকে প্রশ্রয় দেয়। একাধিক প্রেমের গুঞ্জন, এমনকী শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) সঙ্গে সম্পর্কের খবর নিয়েও তাঁকে কম কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে প্রিয়ঙ্কা বিশ্বাস রাখেন নিজের সিদ্ধান্ত ও জীবনদর্শনে। অভিনেত্রী বরাবরই বলেছেন, একজন নারী যেমন নিজের জীবনসঙ্গী নির্বাচনে স্বাধীন, তেমন একজন পুরুষও তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্তে দায়িত্ববান হোক। তিনি বলেন, “একজন পুরুষ যদি সত্যিকারের জীবনসঙ্গী খোঁজেন, তাহলে তাঁর দেখা উচিত সেই নারীর মানবিকতা, আত্মসম্মান ও মানসিক শক্তি। কেবল শরীর বা অতীত দিয়ে বিচার করা এক ধরনের সামাজিক অসুস্থতা।”
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ছবি : সংগৃহীত
নিজের বিবাহ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা বেশ ক’য়েকবার বলেছেন, বয়সে ছোট নিক জোনাসকে বিয়ে করা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাঁরা একে অপরের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। “নিক আমার পাশে থেকেছে প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে, ও আমাকে নিজের মতো করে বাঁচতে দিয়েছে। আমি গর্বিত, ওর মতো একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি,” বলেন প্রিয়াঙ্কা।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ছবি : সংগৃহীত
নিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, একটি সফল বিয়েতে শারীরিক গুণের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সমঝোতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ছবি : সংগৃহীত
প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য একদিকে যেমন রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তেমনি এটি এক সামাজিক বার্তাও। যে সমাজ এখনও নারীর সতীত্বকে তার মূল্য নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে দেখে। অভিনেত্রীর মতে, এই ধ্যানধারণা পরিবর্তন করতেই হবে। কারণ একটি সমাজ যদি নারীর স্বাধীনতাকে সম্মান না করে, তাহলে সেই সমাজ নিজের ভবিষ্যতকেও সঙ্কটের মুখে ঠেলে দেয়। এই মন্তব্য ঘিরে সমাজে বিতর্ক থাকলেও, একথা অনস্বীকার্য যে প্রিয়াঙ্কার মত ব্যক্তিত্বরা সামনে না এলে এই ধরণের আলোচনা আরও অনেকদিন গোপনেই থেকে যেত। আর সেই কারণেই তিনি আজ শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, একজন বলিষ্ঠ মতাদর্শী নারীও। এই মুহূর্তে যখন ভারতীয় সমাজ ধীরে ধীরে মূল্যবোধের পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, তখন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো কণ্ঠগুলি হয়ে উঠছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মুখপাত্র। এবং তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, “বিয়ে কেবল দু’টি মানুষের সম্পর্ক নয়, এটি দু’টি দৃষ্টিভঙ্গির মিলন। এবং সেই মিলনে চাই সততা, নয় শুচিতা।”
Priyanka Chopra | ‘সতীত্ব নয়, চরিত্র দেখো’ বিয়ে নিয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার
Sasraya News
FOLLOW US:
SHARE:
জয়ী বিশ্বাস ★ সাশ্রয় নিউজ : ২০১৮ সালের ডিসেম্বর, রাজস্থান (Rajasthan)–এর যোধপুর (Jodhpur) শহরের উমেদ ভবন প্যালেসে রাজকীয় আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) ও নিক জোনাস (Nick Jonas)। সেদিন যেন সত্যিই বাস্তবের রাজা-রানির এক প্রেমকথা রচনা হয়েছিল। আকাশছোঁয়া বাজেট, সাদা ঘোড়া, ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে পশ্চিমি গাউন প্রত্যেকটি পর্বে ছিল নজরকাড়া নান্দনিকতা। কিন্তু শুধু এই রূপকথার মতো বিবাহ নয়, প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ব্যক্তিত্ব বরাবরই সাহসী, স্পষ্টবক্তা ও প্রগতিশীল। তার সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ফের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “বিয়ের জন্য ভার্জিন (Virgin) মেয়ে খুঁজে বেড়ানো একেবারেই অনুচিত। বরং এমন একজন মানুষ খোঁজো, যার মধ্যে সভ্যতা ও সংবেদনশীলতা রয়েছে। সতীত্ব একটি রাতেই হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু চারিত্রিক গুণাবলি ও মূল্যবোধ মানুষের প্রকৃত পরিচয় দেয়।” ওঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশংসা করেছেন প্রিয়ঙ্কার এই স্পষ্ট মতাদর্শের। আবার কেউ কেউ এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁকে ‘পুরুষবিদ্বেষী’ বলেও অভিহিত করেছেন। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই প্রিয়াঙ্কা নিজেকে ‘নারীবাদী’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “নারীবাদ মানেই পুরুষদের নিচে ফেলে দেওয়া নয়। বরং নারী ও পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই এই মতবাদের মূল কথা।”
এমন মন্তব্য করার সাহস হয়ত সবার থাকে না। বলিউডের (Bollywood) বহু অভিনেত্রী সম্পর্ক, বিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমনটা প্রকাশ্যে বলেন না। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার মতে, এই ধরনের চুপ করে থাকার সংস্কৃতিই লিঙ্গ-আধিপত্যকে প্রশ্রয় দেয়। একাধিক প্রেমের গুঞ্জন, এমনকী শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) সঙ্গে সম্পর্কের খবর নিয়েও তাঁকে কম কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে প্রিয়ঙ্কা বিশ্বাস রাখেন নিজের সিদ্ধান্ত ও জীবনদর্শনে। অভিনেত্রী বরাবরই বলেছেন, একজন নারী যেমন নিজের জীবনসঙ্গী নির্বাচনে স্বাধীন, তেমন একজন পুরুষও তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্তে দায়িত্ববান হোক। তিনি বলেন, “একজন পুরুষ যদি সত্যিকারের জীবনসঙ্গী খোঁজেন, তাহলে তাঁর দেখা উচিত সেই নারীর মানবিকতা, আত্মসম্মান ও মানসিক শক্তি। কেবল শরীর বা অতীত দিয়ে বিচার করা এক ধরনের সামাজিক অসুস্থতা।”
নিজের বিবাহ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা বেশ ক’য়েকবার বলেছেন, বয়সে ছোট নিক জোনাসকে বিয়ে করা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাঁরা একে অপরের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। “নিক আমার পাশে থেকেছে প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে, ও আমাকে নিজের মতো করে বাঁচতে দিয়েছে। আমি গর্বিত, ওর মতো একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি,” বলেন প্রিয়াঙ্কা।
নিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, একটি সফল বিয়েতে শারীরিক গুণের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সমঝোতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ।
প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য একদিকে যেমন রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তেমনি এটি এক সামাজিক বার্তাও। যে সমাজ এখনও নারীর সতীত্বকে তার মূল্য নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে দেখে। অভিনেত্রীর মতে, এই ধ্যানধারণা পরিবর্তন করতেই হবে। কারণ একটি সমাজ যদি নারীর স্বাধীনতাকে সম্মান না করে, তাহলে সেই সমাজ নিজের ভবিষ্যতকেও সঙ্কটের মুখে ঠেলে দেয়। এই মন্তব্য ঘিরে সমাজে বিতর্ক থাকলেও, একথা অনস্বীকার্য যে প্রিয়াঙ্কার মত ব্যক্তিত্বরা সামনে না এলে এই ধরণের আলোচনা আরও অনেকদিন গোপনেই থেকে যেত। আর সেই কারণেই তিনি আজ শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, একজন বলিষ্ঠ মতাদর্শী নারীও। এই মুহূর্তে যখন ভারতীয় সমাজ ধীরে ধীরে মূল্যবোধের পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, তখন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো কণ্ঠগুলি হয়ে উঠছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মুখপাত্র। এবং তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, “বিয়ে কেবল দু’টি মানুষের সম্পর্ক নয়, এটি দু’টি দৃষ্টিভঙ্গির মিলন। এবং সেই মিলনে চাই সততা, নয় শুচিতা।”
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Amir Khan : কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন আমির খান
Author: Sasraya News
Ranbir Kapoor Yash | Suvendu Adhikari : রাবণ দহনের মঞ্চে রাম-রাবণ একসঙ্গে! সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রণবীর-যশের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি’
Harmanpreet Kaur, Indian Women’s Cricket | অধিনায়কত্ব হারানোর যন্ত্রণা, ব্যাট হাতে জবাব! ৪১ বলে ৯১ রান করেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন হরমনপ্রীত কৌর
Asian Para Games News, India Medal Tally | এক দিনেই ৫ সোনা, ১৮ পদক! প্যারা এশিয়ান গেমসে দুরন্ত ভারত, নাগোয়ায় রেকর্ড গড়ে নজর কাড়লেন সিমরন-প্রবীণ-সচিন
India US Trade Deal: কেন আটকে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি! কয়েক সপ্তাহেই চুক্তি, জানালেন মার্কো রুবিয়ো
Suvendu Adhikari, 64 MLAs | শুভেন্দুর ৬৪ বিধায়ক মন্তব্যে জল্পনা, ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা তৃণমূলের