সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ: একের পর এক রাজ্যে ভুয়ো পরিচয়ে বিয়ে করে প্রতারণার জাল বিস্তারের অভিযোগে গ্রেফতার দুই ব্যক্তি। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সেবাতা জ্ঞান তিওয়ারি। অভিযুক্ত অনুজ ত্রিবেদী ও তাঁর পুত্র প্রখর ত্রিবেদীকে (Prakhar Trivedi) ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিধায়কের কন্যার সঙ্গে প্রখর ত্রিবেদীর বিয়ে হয়েছিল ২০২৪ সালে। বিয়ের আগে অভিযুক্ত পরিবার নিজেদের পরিচয় দিয়েছিল মুম্বইয়ের প্রভাবশালী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে। সেই পরিচয়ের ভিত্তিতেই বিয়ের প্রস্তাব এগোয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় স্তরে খোঁজখবর নেওয়া হলেও তখন কোনও সন্দেহজনক তথ্য সামনে আসেনি। বরং অভিযুক্তদের সম্পর্কে ইতিবাচক কথাই শোনা গিয়েছিল।
কিন্তু বিয়ের প্রায় দু’বছর পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বিভিন্ন সূত্র মারফত প্রখরের অতীত সম্পর্কে একের পর এক তথ্য সামনে আসতে থাকে। বিধায়ক দাবি করেন, ‘আমরা পরে জানতে পারি, ওরা ভুয়ো পরিচয়ে বহু জায়গায় একই কাজ করেছে।’ তাঁর অভিযোগ, প্রখর ত্রিবেদী দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ২৫ জন মহিলাকে বিয়ে করেছেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ঘটনার গুরুত্ব বাড়ে যখন ৬ অগস্ট সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন বিধায়ক। সেখানে তিনি তাঁর কন্যাকে পাশে বসিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনেন। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিয়োতে তিনি জানান, ‘আমার মেয়ের জীবনে যা ঘটেছে, তা শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও বড় সতর্কবার্তা।’
এই ঘটনার পর রেউসা থানায় (Reusa Police Station) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে ও অভিযুক্ত অনুজ ত্রিবেদী ও প্রখর ত্রিবেদীকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই প্রতারণার জাল ঠিক কত দূর বিস্তৃত এবং আরও কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। বিধায়কের অভিযোগে উঠে আসে, অভিযুক্তরা সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে নিজেদের পরিচয় এমনভাবে সাজাতেন, যাতে সন্দেহের কোনও জায়গা না থাকে। ভুয়ো পরিচয়, আর্থিক প্রলোভন এবং সামাজিক প্রভাবের আড়ালে তাঁরা একাধিক মহিলাকে বিয়ের ফাঁদে ফেলেছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আরও বহু প্রতারিত মহিলা সামনে আসতে পারেন।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তাঁর কন্যাকেও তিনি নিজের কাছে ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মানসিকভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’ পরিবারের উপর এই ঘটনার প্রভাব কতটা গভীর, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং একাধিক বিবাহ সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে একই ধরনের অভিযোগের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবারও সামনে এসেছে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত। সমাজমাধ্যম, অনলাইন যোগাযোগ ও দূরবর্তী সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই ধরনের অপরাধ বাড়ছে বলেই মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নজর রাখছে উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষও। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসছে। বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল এই ঘটনার দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কথাও বলা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিয়ের মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমন প্রতারণা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। বহু ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত বিশ্বাসই এই ধরনের ঘটনার সুযোগ তৈরি করছে বলে মত অনেকের। ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সতর্কতা অবলম্বনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Hooghly murder verdict, extramarital affair murder case | পরকীয়ার খবর ফাঁসের ‘মূল্য’ মৃত্যু! চুঁচুড়া আদালতের রায়ে প্রেমিক অজয়ের ফাঁসি, ৭ বছর পর ন্যায় পেল অতনু পরিবার




