Poet Swapan Bhattacharya : স্বপন ভট্টাচার্য-এর কবিতা

SHARE:

আজকের

কবি

ও

কবিতা

__________________________________________

কবি স্বপন ভট্টাচার্য-এর জন্ম ১৯৫৫ সালে, কলকাতায়। প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর প্রথাগত পড়াশোনা।   মাইক্রোবায়োলজির গবেষক ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : ওষধিবাগান, গ্যালিয়ানোর আয়না ও অন্যান্য কবিতা, বিজনের পাঠশালা। স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন লোরকার কবিতা যা ‘ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা: কবিতা ও কবিতার নেপথ্যে’ গ্রন্থে সংকলিত।  সাশ্রয় নিউজ-এর আজকের পাতায় রইল কবির কবিতাগুচ্ছ। 

________________________________________

স্ব প ন  ভ ট্টা চা র্য

বেআদব

 

জলের নজর বড় বেআদব

জলের চোখের মণি ইতিউতি ঘোরে

জলের বিজ্ঞান কিছু নীতিহীন ঠেকে

রক্ত তার স্থির এবং শীতল

তালু নিশপিশ করে

চোখ খোঁজে সমূহ যাপন।

 

জলকে বলেছি আমি

এবার তো বহে যেতে পারো।

শীতের রোদ এরিয়া মার্ক করে

নিঃসঙ্গ ফিরে যাচ্ছে রোজ। কখনও

তুমিও তো তার সাথে চলে যেতে পারো।

যে সব কলঘর

সারাদিন উষ্ণতা খুঁজে

উলের নকশা বোনে টুপি বা জামায়

একবার গিয়ে তাদেরও তো  দেখে আসতে পারো।

 

অবিশ্বাসী

 

হাত পকেট থেকে বার করতে পারি না

কেন না নখর লম্বা হতে হতে

পকেট ফুঁড়ে মাটি ছুঁয়ে ফেলতে চাইছে

 

ঠোঁট খুলে কথা বলতে পারি না

কেন না শ্বদন্তের মত দাঁত

 মুখমণ্ডল ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসছে

 

জিভকে মোটেই বিশ্বাস করি না আমি

অগ্রভাগ আগে নিটোল ডিম্বাকৃতি ছিল

অধুনা মাঝ বরাবর নিখুঁতভাবে দ্বিখণ্ডিত

তদুপরি রমণীর সামনে দাঁড়ালে

চেরা জিভ সরাসরি বক্ষযুগলের উপরে এসে

লক লক করে- বস্তুত ভিজে যায় তারা

 

জিহ্বা-নখর-দন্ত বিযোজিত বেঁচে থাকা খুবই কঠিন

তবু আগুনের দেবতা নিছক টিঁকে থাকার জন্য

আমাকেই বেছে নিয়েছেন। আমেন।

  

ইতিহাস

 

মাটি খুঁড়লে আরও কী কী পাওয়া যেতে পারে

তার হিসেব রাখছে মুদ্দাফরাশ

প্রতিটি প্রস্তরখণ্ডের গায়ে টিকিট লাগিয়ে

ক্যাটালগ নির্মাণ করছে ঝাড়ুদার

 

ইজ্জত সওয়াল

এই যে গাঁইতির ঘায়ে মাটি ফুঁড়ে উঠে এল জল

অন্তর্লীনা ভাগীরথী আলবাৎ বহে যেত এইখানে আদিকালে

এ দাবি ওঠার পর বরেণ্য ইতিহাসবিদ

আগাগোড়া কনফিউজড্‌ এবং ঈষৎ বেসামাল

 

থিবস তাঁকে লিপি দিয়েছিল

আলেকজান্দ্রিয়া বই

জল তাঁকে কিছুই দেয় নি প্রবাহ ছাড়া

সেটা আর এক লিপি

কিন্তু তিনি তা পড়তে পারেন না

 

ব্যাধ

 

সে বুঝি ভেবেছিল আজ কিছু মিলে যাবে

ঈগলের ধারালো চঞ্চু আর নিমীলিত আকাশছায়ায়?

এই দ্বীপে শুধুমাত্র খরগোশেরাই বসবাস করে

এবং সূর্য ডুবে গেলে তারা খেয়ে যায় মুকুলিত চারা

শস্যের বন্ধ্যা ভূগোল তারা খায়।

 

সে দেখে, বাজপাখি মরে পড়ে আছে,

গর্তের মুখে নির্বিবাদ পড়ে আছে ব্যাধের পোষাক।

রাত নেমে এলে লাইটহাউসের আলোয় এমনকি

শৃগালেরও চোখে ধাঁধা লাগে।

সারাটা সকাল প্রাণহীন। সে ভাবে

সন্ধ্যা নেমে এলে প্রতি রোমকূপে ফসল ফলাবে

বাদামী খরগোশগুলির জন্য তাকে কিছু দানাশস্য নিয়ে যেতে হবে।

 

চাল

একাকী একটা লনে একাকী চেয়ারগুলি

বাক্যালাপহীন। গোলাপ পাপড়ি মেলতে চেয়ে থমকে দাঁড়ায়।

তারা কেউ আমাকে চেনে না, আর

একে অন্যকে চেনে কিনা- তা’ও অনিশ্চিত।

মধ্যরাতের একফালি মেঘ একা একা

 দাবার ছক সাজিয়ে বসেছে 

ওই চেয়ারগুলোর মধ্যে কোন একটায়।

খানিক ওপর থেকে স্পষ্ট দেখতে পাই

বাড়ানো বোড়ের চাল তার।

 

ভোর হতে এখনও ঢের দেরি,

দু’কাপ চা নিয়ে আমিও এবার নীচে নেমে আসি।

 

 

ফনা আর বিষের কবিতা

 

বালিকা মা’কে বল

খোলা জানালা দিয়ে যে আলো তোমার শয্যায়

সে তো চাঁদ, চাঁদই তো সে! 

মা’কে বল মশারি ভেদ করে

যে বাতাস ঢুকে এলো

সে কোন দস্যু নয়, বাতাস

বাতাসই তো সে! 

 

জানতে চেও না আর

রাতের শয্যায় কোন অক্ষর ওড়ে না কেন,

কেন চাদর কুঁচকে গেলে মা তোমার

ভয় পেয়ে যায়! 

মা’কে বল

শয়তান আর দানবের দল

জানালার গায়ে ঝলসে উঠতে দেখছে

আগুন আর ফনা আর বিষ।

 

ঘরের চৌহদ্দি ঘিরে বসে থাক তারা

খোলা জানালার পথে উড়ে যাও তুমি

অলঙ্করণ : সানি সরকার 

🍁 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও দিতে পারেন স্বরচিত স্থানীয় সংবাদ, ফিচার, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, উপন্যাস … ★ ই-মেল : sasrayanews@gmail.com

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন