PMAY-G Scheme India, Rural Housing India 2026 | গ্রামীণ ভারতে পাকা ঘর : পিএমএওয়াই-জি প্রকল্পে ২.৯৯ কোটি বাড়ি সম্পূর্ণ, ২০২৯-এর লক্ষ্যে দ্রুত এগোচ্ছে কেন্দ্র

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের গ্রামীণ পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (Pradhan Mantri Awaas Yojana Gramin বা PMAY-G)। ‘সবার জন্য বাসস্থান’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই প্রকল্প গত এক দশকে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নতুন দিশা তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক কল্যাণ প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিএমএওয়াই-জি-র প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ৪.১৫ কোটি বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩.৯০ কোটি বাড়ি অনুমোদিত হয়েছে এবং ২.৯৯ কোটি বাড়ির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৪.৯৫ কোটি গ্রামীণ বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের গ্রামীণ আবাসনের ক্ষেত্রে এক বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার পরিমাণও নজরকাড়া। এখন পর্যন্ত মোট ৪,০৩,৮৮৬.১২ কোটি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (Direct Benefit Transfer বা DBT) পদ্ধতির মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে যাওয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে।

PMAY-G (পিএমএওয়াই-জি) প্রকল্পে ২.৯৯ কোটি বাড়ি সম্পূর্ণ, ২০২৯-এর লক্ষ্যে দ্রুত এগোচ্ছে কেন্দ্র। ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Mountain Radar India IAF, MoD BEL Contract | আত্মনির্ভর ভারতের বড় পদক্ষেপ: ১,৯৫০ কোটি টাকার ‘মাউন্টেন রাডার’ চুক্তিতে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বৃদ্ধি

আরও পড়ুন : Primary teacher recruitment WB, interview postponed TET | প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ধাক্কা: ইন্টারভিউ স্থগিত, ‘এপ্রিল ফুল’ বলছেন চাকরিপ্রার্থীরা

পিএমএওয়াই-জি (PMAY-G) -এর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, এটি সম্পূর্ণভাবে উপভোক্তা-নির্ভর প্রকল্প। অর্থাৎ, উপভোক্তারা নিজেরাই নিজেদের বাড়ি নির্মাণ করেন, যার ফলে তাদের মধ্যে মালিকানার অনুভূতি তৈরি হয়। প্রতিটি বাড়ির ন্যূনতম আয়তন ২৫ বর্গমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে স্বাস্থ্যসম্মত রান্নার জন্য আলাদা জায়গাও থাকে। এই প্রকল্প শুধু বাড়ি নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামীণ জীবনের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে এর সংযুক্তি ঘটানো হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশন-গ্রামীণ (Swachh Bharat Mission-Gramin), জল জীবন মিশন (Jal Jeevan Mission), প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PM Ujjwala Yojana) এবং পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিদ্যুৎ যোজনা (PM Surya Ghar: Muft Bijli Yojana)-র সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে গ্রামাঞ্চলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। অসমের (Assam) যোরহাট (Jorhat) জেলার তিতাবর (Titabor) এলাকার বাসিন্দা তাইদ (Taid)-এর জীবন এই প্রকল্পের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। বহু বছর ধরে বন্যাপ্রবণ এলাকায় অস্থায়ী ঘরে বসবাস করতেন তিনি। ২০১৬-১৭ সালে পিএমএওয়াই-জি -এর সাহায্যে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করতে সক্ষম হন। তাঁর কথায়, ‘এই ঘর শুধু আশ্রয় নয়, আমাদের নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের ভরসা।’ এখন তাঁর পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও অনেকটাই সুরক্ষিত। প্রযুক্তির ব্যবহার এই প্রকল্পকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। প্রতিটি বাড়ির নির্মাণ পর্যায়ে জিও-ট্যাগিং (Geo-tagging) করা হয়, যাতে সময় ও তারিখসহ ছবি আপলোড করা থাকে। এর ফলে রিয়েল-টাইমে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) ও মেশিন লার্নিং (Machine Learning)-এর সাহায্যে জালিয়াতি রোধ এবং তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। অ্যাডভান্সড প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে অ্যানোমালি ডিটেকশন (Anomaly Detection), আধার-ভিত্তিক ফেস অথেনটিকেশন (Aadhaar Face Authentication) এবং লাইভনেস ডিটেকশন (Liveliness Detection)। এই সমস্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই সুবিধা পৌঁছচ্ছে। এছাড়াও ‘আবাসসফট’ (AwaasSoft) নামক একটি ওয়েব-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরো প্রকল্পের ডেটা সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপভোক্তা নির্বাচন থেকে শুরু করে অর্থ বরাদ্দ এবং নির্মাণের প্রতিটি ধাপ এই প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত থাকে।

গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) -এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার ফলে নির্মাণ কাজে ৯০ থেকে ৯৫ দিন পর্যন্ত শ্রমের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ মেসন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা হচ্ছে। ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (National Skill Development Corporation বা NSDC)-এর সহায়তায় লক্ষাধিক মানুষ এই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও পিএমএওয়াই-জি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকানা মহিলাদের নামে বা যৌথভাবে দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

একজন সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা এবং সরাসরি অর্থপ্রদানের মাধ্যমে এই প্রকল্প গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।’ তাঁর মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রকল্প দেশের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের কাছে পাকা বাড়ির সুবিধা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। গ্রামীণ ভারতে উন্নয়নের এই যাত্রা এখনও চলমান। নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে কেন্দ্রীয় সরকার ধাপে ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পিএমএওয়াই-জি শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানবিক মর্যাদার এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi : জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে বড় বার্তা মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন