সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) চালু করেছিলেন “প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি” (PM Kisan Samman Nidhi Yojana) প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি কৃষক প্রতিবছর নির্দিষ্ট আর্থিক সাহায্য পান। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বছরে তিন কিস্তিতে ৬,০০০ টাকা জমা হয়ে যায়। প্রতি কিস্তিতে আসে ২,০০০ টাকা করে। ছোট বা প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে বৈধ জমির কাগজপত্র থাকা কৃষকেরা এর সুবিধা পেয়ে আসছেন। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের আওতায় কৃষকের পরিবারও উপকৃত হচ্ছে।
Follow us : https://www.facebook.com/profile.php?id=100093921601287
আরও পড়ুন : Muri Shinai De | মুরি শিনাই দে: কর্মব্যস্ত জীবনে জাপানি শান্তির মন্ত্র, কীভাবে বদলাবে আপনার দিন?
সম্প্রতি এই প্রকল্পের ২০তম কিস্তির অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৯.৭ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০,৫০০ কোটি টাকা পৌঁছে গেছে। খুব শিগগিরই ২১তম কিস্তির অর্থও সরাসরি ট্রান্সফার হবে। যারা এখনও আবেদন করেননি, তারাও সহজেই এই প্রকল্পে যুক্ত হয়ে বছরে ৬,০০০ টাকার সুবিধা নিতে পারবেন। শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে এই ভাতার পরিমাণ ১২,০০০ টাকায় উন্নীত করার কথাও চিন্তাভাবনা চলছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ বছরের বেশি। সমগ্র ভারতীয় নাগরিক তথা পশ্চিমবঙ্গসহ প্রত্যেক রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এর আওতায় আসতে পারেন। শর্ত হল, আবেদনকারীর নামে বৈধ জমির নথি থাকতে হবে ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই আধার কার্ডের (Aadhaar Card) সঙ্গে লিঙ্ক থাকতে হবে। এছাড়াও NPCI-এর মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকলেই টাকা ট্রান্সফারের সুবিধা পাওয়া যায়।
অনলাইনে সহজ আবেদন
এখন আর এই প্রকল্পের জন্য সরকারি অফিসে ঘুরতে হয় না। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজে আবেদন করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়া হল:
১. প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট pmkisan.gov.in-এ যান।
২. “New Farmer Registration” অপশনে ক্লিক করুন।
৩. আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং রাজ্যের নাম দিয়ে OTP ভেরিফাই করুন।
৪. এরপর অনলাইনে ফর্ম পূরণ করুন। নাম, ঠিকানা, জমির বিবরণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রভৃতি তথ্য দিতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে। যেমন জমির কাগজপত্র, আয়ের শংসাপত্র, আধার কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস।
৬. জেলা বা রাজ্য প্রশাসন দপ্তর থেকে নথি যাচাইয়ের পর যদি সব কিছু সঠিক থাকে, নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে।
আবেদনকারীরা চাইলে ওয়েবসাইটে গিয়ে আধার নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিয়ে তাদের আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাসও চেক করতে পারবেন।
কেন অনেক কৃষক টাকা পাচ্ছেন না?
অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না। এর মূল কারণ ক’য়েকটি:
১. অনেকেই এখনও e-KYC সম্পূর্ণ করেননি।
২. আধার ও NPCI লিঙ্কিং-এর সমস্যার কারণে টাকা আটকে যাচ্ছে।
৩. জমা দেওয়া নথি যাচাইয়ের সময় ত্রুটি থাকলেও কিস্তি থেমে যেতে পারে।
সরকারি বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব কৃষক এখনও e-KYC করেননি, তারা অবিলম্বে এটি সম্পূর্ণ করুন। এতে তাদের অ্যাকাউন্টে আবার টাকা জমা শুরু হবে।
আরও পড়ুন : breakup meaning in life | সম্পর্কে বিচ্ছেদ: শেষ নাকি নতুন জীবনের শুরু?
প্রকল্পের গুরুত্ব
বছরে ৬,০০০ টাকা হয়ত খুব বড় অঙ্ক নয়, কিন্তু ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। কৃষিকাজের মৌসুমি খরচ মেটাতে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই অর্থ কার্যকর ভূমিকা রাখে। প্রকল্পটি শুধুমাত্র কৃষকদের নয়, গোটা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে। কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই গ্রামীণ জীবনে আশার আলো হয়ে উঠেছে। আবার, আগামী দিনে যদি অর্থের পরিমাণ ১২,০০০ টাকায় বাড়ানো হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে কৃষকদের জন্য আরও বড় সহায়তা হবে। সেই সঙ্গে সরকারের কৃষি-নির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনাও আরও শক্তিশালী হবে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত মজবুত করতেই এই ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প বর্তমানে দেশের কোটি কোটি কৃষকের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। কৃষকরা যাতে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা পান এবং কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেন, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের পথচলা। যারা এখনও আবেদন করেননি, তারা দ্রুত অনলাইনে আবেদন করুন। আর যাদের e-KYC বাকি আছে, তারা অবিলম্বে তা সম্পূর্ণ করুন। কারণ আপনার একটিমাত্র উদ্যোগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে সরাসরি সরকারের পাঠানো কিস্তির টাকা।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Foreign Job Search : বিদেশে চাকরির খোঁজে: ভারতের বেকার তরুণ-তরুণীরা কোন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি কাজ কীভাবে খুঁজে পায়?




