Pharmacy Exam | সময় মতো পৌঁছেও পরীক্ষায় বসতে পারলেন না শতাধিক পরীক্ষার্থী, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক পরীক্ষার্থীরা

SHARE:

আমিনা তাবাসসুম, সাশ্রয় নিউজ ★ বহরমপুর : মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর এম.আই.টি. কলেজ (MIT College, Berhampore) ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়াল। নির্ধারিত সময়ের ভেতরে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেও পরীক্ষায় বসতে পারলেন না শতাধিক পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ এবং উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

More News : https://youtube.com/shorts/IYJgXohNBDg?si=m2GKV2ovOnDGUEnK

সূত্রের খবর, এদিন বহরমপুর এম.আই.টি. কলেজে ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষার সময় স্পষ্ট করে লেখা ছিল দুপুর ১২টা। নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থাৎ সকাল ১১টার মধ্যেই পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা সেন্টারে পৌঁছে যান। কিন্তু গিয়ে দেখেন, গেট বন্ধ। মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি মালদা (Malda), মেদিনীপুর (Medinipur), হাওড়ার উলুবেড়িয়া (Uluberia), এমনকী অসম (Assam) থেকেও পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে আসেন। অভিযোগ, এতদূর থেকে এসেও তাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের প্রবেশদ্বারে কেউ ছিলেন না। গেট বন্ধ ছিল। সূত্রের খবর, বহরমপুর MIT-এর তরফে জানানো হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত না হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ছাত্রীদের ক্ষোভ, কোনও কারণ না দেখিয়ে তাঁদের আটকে দেন। ফলে নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা তাঁরা দিতে পারেননি। এর ফলে শতাধিক শিক্ষার্থী এদিন পরীক্ষায়। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সময়ের অনেক আগেই এসে পৌঁছেছি। অথচ কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হল না। আমাদের এক বছরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।”

ঘটনায় অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সময়ের অনেক আগেই এসে পৌঁছেছি। অথচ কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হল না। আমাদের এক বছরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।”
MIT-এর বাইরে হতাশ পরীক্ষার্থীরা।

এই ঘটনার পর কলেজ চত্বরেই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকেও প্রবল ক্ষোভের সুর শোনা যায়। অনেক অভিভাবক দাবি করেছেন, এর পিছনে কলেজ কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীন মনোভাবই দায়ী। তাঁদের কথায়, “শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে একযোগে পরীক্ষার বাইরে রেখে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি কর্তৃপক্ষের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।” প্রসঙ্গত, এদিন মুর্শিদাবাদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন এআরপিপি (ARPP), তারিকা মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মেসি (Tarika Memorial Institute of Pharmacy), চোঁয়ার লয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মেসি (Loyal Institute of Pharmacy) সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককেই প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে উল্লেখ। ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হলে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বহরমপুর থানার পুলিশ।

অন্যদিকে, ঘটনায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। অনেকেই সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে যদি কোনও পরিবর্তন বা বিশেষ নির্দেশিকা থাকে, তা আমাদের জানানো হল না কেন? কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে আমরা আজ পরীক্ষায় বসতে পারলাম না। এতে পুরো এক বছরের পড়াশোনা ও সময় নষ্ট হয়ে গেল।” তবে এ বিষয়ে এম.আই.টি. কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল তা জানানো হোক এবং পরীক্ষার পুনর্ব্যবস্থা করা হোক। নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও শোনা গেছে শিক্ষার্থীদের মুখে। অন্যদিকে, শিক্ষাক্ষেত্রে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, “এত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে হঠাৎ করেই পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা শিক্ষাব্যবস্থার গাফিলতি ও উদাসীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ। যদি কর্তৃপক্ষ সময়মতো কোনও স্পষ্ট নির্দেশনা দিত, তাহলে আজ এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হত না।”

এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের একাংশ মনে করছেন, পুনরায় পরীক্ষা না হলে পুরো বছরটাই নষ্ট হয়ে যাবে। অভিভাবকরা ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, এতবড় সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে একযোগে পরীক্ষার বাইরে রাখা হলে আইনি পদক্ষেপেরও সম্ভাবনা রয়েছে। মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাটি এখন রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আবার, মানুষের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে।

আরও পড়ুন : Pune liver transplant death | স্বামীকে লিভার দান করে প্রাণ হারালেন স্ত্রীও, পুণের মর্মান্তিক ঘটনায় নড়েচড়ে বসল মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দফতর

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন