সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করা শিশুদের পাসপোর্ট (Child Passport) সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য সাধারণ পাসপোর্টের মেয়াদ এবার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই বয়সের শিশুদের পাসপোর্ট সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তবে কোনও শিশুর ১৮ বছর বয়স যদি তার আগেই পূর্ণ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে পাসপোর্টের বৈধতা শেষ হবে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে। অর্থাৎ পাঁচ বছর অথবা ১৮ বছর বয়স—যেটি আগে আসবে, সেটিই পাসপোর্টের কার্যকর মেয়াদ হিসেবে ধরা হবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে শিশুদের পাসপোর্ট করানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জন্য বেশ কিছু বিষয় জানা জরুরি হয়ে উঠেছে। শুধু পাসপোর্টের মেয়াদ নয়, নতুন নথির পাতা এবং আবেদনের ফি নিয়েও সংশোধিত বিধি জারি করেছে বিদেশ মন্ত্রক। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘পাসপোর্ট (সংশোধনী) বিধি, ২০২৬’-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট সংক্রান্ত আগের বিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন বিধি অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ইস্যু করা সাধারণ পাসপোর্টে থাকবে ৩৬টি পাতা। এই পাসপোর্টের মেয়াদ হবে সর্বাধিক পাঁচ বছর অথবা সংশ্লিষ্ট শিশুর ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত, দুই সময়সীমার মধ্যে যেটি আগে শেষ হবে, সেই অনুযায়ী বৈধতা নির্ধারিত হবে। ফলে কোনও শিশুর বয়স যদি পাসপোর্ট তৈরির সময় ১৪ বছর হয়, তা হলে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তার বয়স ১৮ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছনোর সময় পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবে। অন্য দিকে, অপেক্ষাকৃত কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের মেয়াদ কার্যকর হতে পারে। যেমন, কোনও শিশুর বয়স যদি পাসপোর্ট আবেদনের সময় ১০ বছর হয়, তা হলে পাঁচ বছর পর তাঁর বয়স ১৫ হবে। নতুন বিধির অধীনে সেই পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে ১৮ বছর বয়সের সীমা অতিক্রম করে কোনও ভাবেই এই নির্দিষ্ট শিশুপাসপোর্টের বৈধতা চলবে না।
পাসপোর্টের মেয়াদ সংক্রান্ত এই পরিবর্তন আনা হয়েছে ১৯৮০ সালের পাসপোর্ট আইনের সংশ্লিষ্ট বিধিতে সংশোধনের মাধ্যমে। বিদেশ মন্ত্রকের প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ ও পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে আগের নিয়মের পরিবর্তে এই নতুন কাঠামোই অনুসরণ করতে হবে। ফি-এর ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ বছরের নীচে শিশুদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি অথবা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বৈধ ৩৬ পাতার সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি কিংবা পুনরায় ইস্যু করার জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৭৫০ টাকা। অর্থাৎ নতুন পাসপোর্ট তৈরির পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পুনরায় ইস্যুর আবেদন করলেও এই ফি প্রযোজ্য হবে।
তবে এখানে একটি বিষয় অভিভাবকদের মনে রাখা দরকার। নতুন নিয়মে ১৫ বছরের কম বয়সিদের পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বাধিক পাঁচ বছর হলেও ১৮ বছরের কম বয়সি আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত ফি সংক্রান্ত বিধান আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পাসপোর্টের মেয়াদ, আবেদনকারীর বয়স এবং কোন ধরনের পরিষেবার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, এই তিনটি বিষয় মিলিয়েই প্রযোজ্য নিয়ম বুঝতে হবে। শিশুদের পাসপোর্টে পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের আবেদন ফিও সাম্প্রতিক সময়ে সংশোধন করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ফি-কাঠামোয় সাধারণ পাসপোর্টের খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। ৩৬ পাতার সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি বা পুনরায় ইস্যুর জন্য প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের এখন দিতে হচ্ছে ২,৫০০ টাকা। এর আগে এই পরিষেবার জন্য ফি ছিল ১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ সাধারণ ৩৬ পাতার পাসপোর্টে আবেদনের খরচ এক ধাক্কায় ১,০০০ টাকা বেড়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য তৎকাল পরিষেবা ব্যবহার করলে খরচ আরও বেশি। ৩৬ পাতার সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে তৎকাল আবেদনের ফি বর্তমানে ৫,০০০ টাকা। ফলে সাধারণ ও তৎকাল দুই ব্যবস্থার মধ্যে আবেদনের খরচের পার্থক্যও থাকছে। আবার, ৬০ পাতার পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও ফি বাড়ানো হয়েছে। আগে সাধারণ ৬০ পাতার পাসপোর্ট তৈরি বা পুনরায় ইস্যুর জন্য ২,০০০ টাকা দিতে হত। সংশোধিত ফি-কাঠামোয় সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ৩,৫০০ টাকা। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে ১,৫০০ টাকা। তৎকাল পরিষেবায় ৬০ পাতার পাসপোর্টের জন্য আগের ৪,০০০ টাকার বদলে এখন ৬,০০০ টাকা দিতে হচ্ছে।
শিশুদের পাসপোর্টের নতুন নিয়মটি অবশ্য প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। শিশুদের বয়স দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং তাঁদের নথি, ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধানও তুলনামূলক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য আলাদা মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধিতে পাঁচ বছর বা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত, এই দুই সীমার মধ্যে আগে যে সময়সীমা শেষ হবে, সেটিকে পাসপোর্টের বৈধতার শেষ সীমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশ ভ্রমণের আগে সন্তানের পাসপোর্টের মেয়াদ দেখে নেওয়া অভিভাবকদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন রয়েছে, তা আগেই যাচাই করা প্রয়োজন। কোনও শিশুর বয়স ১৮ বছরের কাছাকাছি হলে পাঁচ বছরের মেয়াদ ধরে পরিকল্পনা করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে, কারণ নতুন বিধিতে ১৮ বছর বয়সের সীমাটি আলাদাভাবে রাখা হয়েছে।
পাসপোর্টের পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রেও নতুন ফি-সংক্রান্ত বিধান কার্যকর হবে। ফলে পুরনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা প্রয়োজনীয় কারণে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট বয়সসীমা এবং পরিষেবার ধরন যাচাই করতে হবে। আবেদন করার আগে সরকারি পাসপোর্ট পরিষেবার নিয়ম ও প্রযোজ্য ফি দেখে নেওয়া জরুরি। নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার পর শিশুদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত আবেদনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে মেয়াদের নির্দিষ্ট সীমা। আগে বয়সের সঙ্গে পাসপোর্টের বৈধতার হিসাব নিয়ে যে ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারত, নতুন বিধিতে পাঁচ বছর এবং ১৮ বছর, দু’টি সীমা নির্ধারণ করে বিষয়টি নিয়মের মধ্যে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৬ পাতার পাসপোর্টের কথা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় নথির কাঠামোও নির্ধারিত হয়েছে। অভিভাবকদের জন্য তাই নতুন নিয়মের তিনটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুর সাধারণ পাসপোর্টে থাকবে ৩৬টি পাতা, সেটি সর্বাধিক পাঁচ বছর অথবা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বৈধ থাকবে আর এই দুই সময়সীমার মধ্যে যেটি আগে শেষ হবে, সেটিই কার্যকর হবে। এই ধরনের পাসপোর্ট তৈরি বা পুনরায় ইস্যুর আবেদনে নির্ধারিত ফি ১,৭৫০ টাকা।
পাসপোর্টের নিয়মে এই পরিবর্তনের পাশাপাশি সামগ্রিক ফি-কাঠামোতেও সাম্প্রতিক সময়ে সংশোধন হয়েছে। তাই শিশু কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক, যে কারও পাসপোর্টের আবেদন করার আগে বয়স অনুযায়ী প্রযোজ্য মেয়াদ, পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, সাধারণ পরিষেবা না তৎকাল পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট আবেদন ফি ইত্যাদি সবকটি বিষয় যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার ফলে শিশুদের পাসপোর্ট নিয়ে অভিভাবকদের পরিকল্পনাতেও এবার থেকে এই বয়সভিত্তিক মেয়াদের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India New Zealand trade deal, India New Zealand FTA 2026 | নিউ জিল্যান্ডের পার্লামেন্টে ভারত-এফটিএ পাস, অক্টোবরে বদলাতে পারে বাণিজ্যের ছবি! কতটা লাভবান হবে নতুন দিল্লি?




