সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অপারেশন ‘সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর সময় ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) এক নজিরবিহীন ভূমিকা পালন করেছে। মঙ্গলবার ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন (V Narayanan) জানান, এই অভিযানে ৪০০-এরও বেশি বিজ্ঞানী দিন-রাত একটানা কাজ করে গিয়েছেন। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে অপারেশনটি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
ভি নারায়ণন দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (All India Management Association – AIMA) ৫২তম ন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের সময় সব স্যাটেলাইট নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে। এর ফলে প্রতিটি প্রয়োজনীয়তাই পূরণ করা সম্ভব হয়। ৪০০-এরও বেশি বিজ্ঞানী ফুলটাইম কাজ করেছেন, যাতে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগ স্যাটেলাইটগুলো এক মুহূর্তের জন্যও ব্যাহত না হয়।” উল্লেখ্য, এই অভিযানের সময় ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশনস ও আকাশ তীর (Akash Teer)-এর মতো দেশীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে সামরিক অভিযানে মহাকাশ প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গগনযান প্রকল্পে ৭,৭০০ গ্রাউন্ড টেস্ট সম্পন্ন
অপারেশন সিঁদুরের পাশাপাশি ইসরো প্রধান আরও জানান, গগনযান (Gaganyaan) প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই ৭,৭০০ গ্রাউন্ড টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। সামনে আরও ২,৩০০ টেস্ট করা হবে, যার পর ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযাত্রা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে তিনটি অমানবিক মিশন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি এ বছর ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণ হওয়ার সম্ভাবনা। এরপর আরও দুটি অমানবিক মিশন হবে। এর পাশাপাশি সরকার দুটি মানব মিশনেরও অনুমোদন দিয়েছে। ভি নারায়ণনের ভাষায়, “গগনযান প্রকল্প শুধু ভারতের মহাকাশ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবে না, বরং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা কৌশলেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ইতিমধ্যেই ইসরোকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় নভোচারীর চাঁদে পদার্পণ করানোর লক্ষ্যও স্থির করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রম নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছবে।ভি নারায়ণন বলেন, “আজ মহাকাশ আর শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র নয়। এটি এখন দেশের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক কৌশলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইসরো এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।” ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, অপারেশন সিঁদুর প্রমাণ করেছে যে, ভারতের স্যাটেলাইট ও মহাকাশ প্রযুক্তি এখন আন্তর্জাতিক মানের। ২৪x৭ নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার ক্ষমতা ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রেও ভারতের জন্য বাড়তি শক্তি জোগাবে। পাশাপাশি গগনযান প্রকল্পের সফলতা ভারতকে সেই বিশেষ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন আগে থেকেই রয়েছে। উল্লেখ্য, মহাকাশ বিজ্ঞানের এই সাফল্যের ধারায় ভারতীয় বিজ্ঞানীরা যে নিরলস পরিশ্রম করছেন, অপারেশন সিঁদুর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিজ্ঞানীদের এই অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ভারতকে আগামী দশকে মহাকাশ শক্তির প্রথম সারিতে নিয়ে যেতে চলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Operation Sindoor : অপারেশন সিঁদুর: পাকিস্তানে ভারতের প্রত্যাঘাতের নেপথ্যে আকাশকন্যা ব্যোমিকা




