তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ত্বকের যত্নে তেল মাখা ভারতীয় সমাজে নতুন কিছু নয়। চুলের জন্য নারকেল তেল, শরীরচর্চার পরে বা শীতে গায়ে সর্ষের তেল এই অভ্যাস বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। অনেকেই মনে করেন, ত্বক ভাল রাখতে হলে তেল লাগানো আবশ্যক। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের যত্নে নানা নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল অলিভ অয়েল (Olive Oil)। বিশেষ করে যাঁরা সর্ষের তেল ব্যবহার করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের কাছে অলিভ অয়েল হয়ে উঠেছে বড় ভরসা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে, এই তেল কী সত্যিই ত্বকের জন্য উপকারী? আর ব্যবহারই বা করবেন কী ভাবে?
অলিভ অয়েল মূলত জলপাই গাছের ফল থেকে নিষ্কাশিত একটি প্রাকৃতিক তেল। এই তেলের সবচেয়ে বড় গুণ হল এতে থাকা ভিটামিন ই (Vitamin E), পলিফেনল (Polyphenol) এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট (Antioxidant)। এই উপাদানগুলি একত্রে ত্বকের উপর একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর তৈরি করে। ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে অলিভ অয়েল। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের রুক্ষ ভাব কমে, ত্বক হয়ে ওঠে নরম ও মসৃণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক এবং স্বাভাবিক ত্বকের জন্য এই তেল অত্যন্ত উপযোগী।অনেকেই জানেন না, অলিভ অয়েল ক্লিনজ়ার হিসেবেও দারুণ কাজ করে। মুখে মেকআপ থাকলে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল নিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করলে মেকআপের স্তর গলে যায়। তার পরে তুলো বা নরম কাপড় দিয়ে মুছলেই ত্বক পরিষ্কার হয়ে আসে। শুধু মুখ নয়, সারা শরীরেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। অলিভ অয়েল দিয়ে গা ম্যাসাজ করার পরে গরম জলে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে ত্বক পরিষ্কার হয়, আবার অতিরিক্ত তেলও থেকে যায় না। এই পদ্ধতি শীতে বিশেষ উপকারী।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা পড়া স্বাভাবিক। এর মূল কারণ হল ত্বকের নিচে থাকা কোলাজেন (Collagen) নামক প্রোটিনের মাত্রা কমে যাওয়া। ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। এই সমস্যায় অলিভ অয়েল কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। সামান্য অলিভ অয়েল হালকা গরম করে ফেসওয়াশের পর মুখে ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে। নিয়মিত ম্যাসাজ করলে ধীরে ধীরে ত্বক টানটান হতে শুরু করে এবং বলিরেখার ছাপ হালকা হয়। রাতে শোয়ার আগে এই অভ্যাস করলে ফল আরও ভাল পাওয়া যায়। আবার, রোদে পুড়ে মুখ বা শরীর কালচে হয়ে যাওয়া এখন খুব সাধারণ সমস্যা। এই কালচে ছোপ দূর করতেও অলিভ অয়েল কাজে আসে। কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন (Curcumin) একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এক টেবিল চামচ কাঁচা হলুদের সঙ্গে পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখ বা শরীরে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। সাময়িক ভাবে ত্বক হলুদ দেখালেও স্নানের সময় বডি শ্যাম্পু ব্যবহার করলে তা সহজেই উঠে যায়। সপ্তাহে এক বা দু’দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলেই ত্বকে পরিবর্তন চোখে পড়বে।
ত্বকে তাৎক্ষণিক আভা ফেরাতে বেসন ও অলিভ অয়েলের মিশ্রণও বেশ কার্যকর। এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে এক টেবিল চামচ গোলাপজল (Rose Water) এবং কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করলে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ দেখায়। পাঁচ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেললে মুখে স্বাভাবিক জেল্লা ফিরে আসে। যাঁদের ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, তাঁদের জন্য অলিভ অয়েল ও মধুর প্যাক বিশেষ উপকারী। এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে ফেসওয়াশের পরে মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। কয়েক মিনিট পরে জল দিয়ে ধুয়ে নিলে বা ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছলে ত্বকের শুষ্ক ভাব ধীরে ধীরে কমে যায়। সপ্তাহে দু’-তিন দিন এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি মসৃণ হয়। কিন্তু, সরাসরি হোক বা বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে, অলিভ অয়েল ত্বকের যত্নে বহুমুখী ভূমিকা পালন করে। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, মসৃণ এবং স্বাস্থ্যবান।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Alia Bhatt Ananya Panday like controversy, Bollywood actress rivalry | ইনস্টাগ্রাম ‘লাইক’ থেকেই কি বলিউডে ঠাণ্ডা যুদ্ধ? আলিয়াকে ‘সুযোগসন্ধানী’ মন্তব্যে অনন্যার প্রতিক্রিয়ায় জল্পনা তুঙ্গে




