সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ‘দিশা’ কর্মসূচির মঞ্চে উন্মোচিত হল ‘ন্যায় সেতু’ (Nyaya Setu) এআই চ্যাটবট এবং তার অফিসিয়াল ম্যাসকট ‘দিশিকা’ (Dishika)। নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন (C. P. Radhakrishnan) এবং আইন ও ন্যায় মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) শ্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal)। ‘ন্যায় সেতু’ মূলত একটি ভয়েস-ফার্স্ট, মাল্টিমোডাল এবং বহুভাষিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর আইনি সহায়ক ব্যবস্থা, যা সাধারণ নাগরিকদের আইনি অধিকার, প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সহজ ভাষায় ধারণা দিতে তৈরি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ভাষায় ভয়েস ও টেক্সটের মাধ্যমে এই পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে, ফলে বিচার সংক্রান্ত তথ্য আর কেবল নির্দিষ্ট ভাষাভাষীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এই প্রকল্পটি ডেভেলপ করেছে ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী বিভাগ (Digital India BHASHINI Division বা DIBD), যা ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) অধীন একটি উদ্যোগ। ‘ন্যায় সেতু’ প্ল্যাটফর্মটি সম্পূর্ণ একটি এন্ড-টু-এন্ড ভয়েস স্ট্যাকের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে অটোমেটিক স্পিচ রিকগনিশন (ASR), মাল্টিলিঙ্গুয়াল এনএলপি (NLP) এবং কথোপকথনভিত্তিক এআই প্রযুক্তি একত্রে কাজ করে। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ভাষায় কথা বলেই আইনি তথ্য পেতে পারেন। এই উদ্যোগ সম্পর্কে ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী বিভাগের সিইও অমিতাভ নাগ (Amitabh Nag) বলেন, ‘ন্যায় সেতু এমন এক প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ, যা বিচারপ্রাপ্তির পথকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে, যেখানে ভাষা আর বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই ধরনের প্রযুক্তি সাধারণ মানুষকে নিজের ভাষায় সরকারি পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে।
‘দিশিকা’ ম্যাসকটটি এই প্ল্যাটফর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ডিজিটাল চরিত্র, যা ব্যবহারকারীদের আইনি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। বিশেষত যারা প্রথমবার বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, তাদের জন্য এই ম্যাসকটটি পথপ্রদর্শকের কাজ করবে। এতে ব্যবহারকারীর আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভাষিণীর ‘শ্রুতলেখ’ (Shrutlekh) সিস্টেমের প্রদর্শন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উপরাষ্ট্রপতির ভাষণসহ বিভিন্ন সেশন রিয়েল-টাইমে ট্রান্সক্রিপশন এবং বহুভাষিক অনুবাদের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের অংশগ্রহণ আরও সহজ হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে ‘ভাষিণী’ ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভাষা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এটি ন্যাশনাল হাব ফর ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজি (National Hub for Language Technology বা NHLT) -এর মাধ্যমে একাধিক ভাষায় এআই পরিষেবা প্রদান করছে। ৩৬টি টেক্সট ভাষা এবং ২৩টি ভয়েস ভাষায় পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি জটিল উপজাতীয় ভাষার ক্ষেত্রেও সমর্থন রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাষিণী বর্তমানে ৫০০ -এর বেশি সরকারি ওয়েবসাইটকে সমর্থন করছে এবং প্রতিদিন ১৫ মিলিয়নেরও বেশি ইনফারেন্স প্রসেস করছে। এই বিপুল পরিসরের ব্যবস্থাপনা প্রমাণ করে, কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জনসাধারণের পরিষেবা আরও দ্রুত ও সহজ করা সম্ভব। প্রসঙ্গত, ‘ন্যায় সেতু’ প্রকল্পটি একটি টার্নকি এআই সলিউশন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা দেখায় কীভাবে একটি সম্পূর্ণ ভয়েস-নির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিষেবা পেতে পারেন। এতে আইনি কাঠামোর সুরক্ষা বজায় রেখে তথ্য প্রদান করা হয়, যাতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের সম্ভাবনা কম থাকে। এই ধরনের উদ্যোগ বিশেষ করে সেই সব মানুষের জন্য কার্যকর, যারা ভাষাগত বা প্রক্রিয়াগত কারণে বিচার ব্যবস্থার বাইরে থেকে যান। এখন নিজের মাতৃভাষায় সহজে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সমাজের বৃহত্তর অংশ উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন আধিকারিক বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম বিচার ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসার একটি কার্যকর উদ্যোগ।’ এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিক পরিষেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। দেশে ডিজিটাল পরিকাঠামোর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের এআই-নির্ভর উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ‘ন্যায় সেতু’ সেই দিকেই একটি বড় পদক্ষেপ, যা বিচার ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সহজ, দ্রুত এবং মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi : জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে বড় বার্তা মোদীর




