Nitin Nabin Bengal visit, BJP organisational meeting Bengal | বিধায়ক-সংগঠনের দূরত্ব ঘোচাতে তৎপর বিজেপি, সরকার চালাতেও চাই দলীয় সমন্বয় : রাজ্যে নিতিন নবীনের বৈঠকে কী আলোচনা

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠন এবং সরকারের কাজের মধ্যে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করার দিকে নজর দিচ্ছে বিজেপি। একই সঙ্গে বিধায়ক, সাংসদ ও দলীয় সাংগঠনিক পদাধিকারীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে রাজ্য বিজেপির নেতাদের নিয়ে বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin) এই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠন এবং সরকারের কাজের মধ্যে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করার দিকে নজর দিচ্ছে বিজেপি। একই সঙ্গে বিধায়ক, সাংসদ ও দলীয় সাংগঠনিক পদাধিকারীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে রাজ্য বিজেপির নেতাদের নিয়ে বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin) এই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি গঠনের পরে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর প্রথম সাংগঠনিক সফরেই দলের বিভিন্ন স্তরের কাজের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজ্য বিজেপিতে সম্প্রতি সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল হয়েছে। সেই পরিবর্তনের পর নতুন কাঠামোয় সংগঠন কী ভাবে কাজ করবে, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাংগঠনিক নেতৃত্বের সম্পর্ক কী রকম থাকবে এবং সরকারের কাজের সঙ্গে দলীয় সংগঠনের যোগাযোগ কী ভাবে আরও কার্যকর করা যায়, রবিবারের বৈঠকে সেই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে রাজ্য পদাধিকারী, বিভিন্ন বিভাগের আহ্বায়ক, মোর্চার রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা স্তরের পদাধিকারী ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশ উপস্থিত ছিলেন। নিতিন নবীনের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলও (Sunil Bansal) বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya on NCPI, NCPI MPs BJP joining | এনসিপিআই নিয়ে বড় দাবি, রচনা-সায়নীদের বিজেপিতে যোগ নিয়ে কড়া অবস্থান শমীক ভট্টাচার্যের

বিজেপির অন্দরের আলোচনায় দীর্ঘ দিন ধরেই সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের প্রশ্নটি উঠে এসেছে। কোনও বিধায়ক বা সাংসদ নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে দলীয় কর্মসূচিতে গেলে স্থানীয় সাংগঠনিক নেতৃত্বকে কতটা সঙ্গে রাখা হবে, জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগ কীভাবে বজায় থাকবে কিংবা কোনও কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় স্তরে কে দায়িত্ব নেবেন, এই ধরনের প্রশ্ন একাধিক ক্ষেত্রে আলোচনার কারণ হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। সেই জায়গা থেকেই সাংগঠনিক কাঠামোর পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি হুগলি জেলার একটি ঘটনাও দলের অভ্যন্তরে এই আলোচনাকে সামনে এনেছিল। চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ (Subir Nag) ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে সপ্তগ্রাম বিধানসভা এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ওই কর্মসূচীতে যাওয়ার আগে স্থানীয় বিধায়ক বা সাংগঠনিক নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে দলের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। হুগলি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় (Gautam Chattopadhyay) প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বকে আগে জানালে ভাল হত। ঘটনাটি বড় কোনও সাংগঠনিক সংঘাতের প্রমাণ কি না, তা নিয়ে আলাদা মত থাকলেও দলীয় স্তরে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা যে রয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকের বিষয়বস্তুতেও উঠে এসেছে।

শুধু হুগলি নয়, কলকাতা ও শহরতলির কয়েকটি এলাকা-সহ আরও কিছু জেলায় জনপ্রতিনিধি আর সাংগঠনিক নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। আগে থেকেই বিভিন্ন জেলায় কোর কমিটি তৈরি করে একাধিক স্তরের নেতৃত্বকে একই পরিসরে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও কোথাও কোথাও জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনের পৃথক ভাবে কর্মসূচি চালানোর প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে এমন কাজকে ‘সমান্তরাল গতিবিধি’ হিসাবেও বর্ণনা করা হয়েছে। নিতিন নবীনের রবিবারের বৈঠকে তাই সংগঠনের বিভিন্ন স্তরকে একই সুরে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। শুক্রবারই রাজ্য সংগঠনে একাধিক পরিবর্তন করা হয়। তার পরেই নিতিন নবীনের বঙ্গ সফর। ফলে নতুন কমিটি ও নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাংগঠনিক কাজের গতিপথ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে দিল বলে দলীয় সূত্রের বক্তব্য। নিতিন নবীনের এই সফরকে শুধু নিয়মিত সাংগঠনিক সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে না; রাজ্যের দলীয় কাঠামোকে আরও সংহত করার একটি পর্ব হিসাবেও দেখা হচ্ছে।

রবিবারের বৈঠকে দল ও সরকারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকারের কাজ ও সংগঠনের কার্যকলাপ যেন পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে না চলে, সেই দিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংগঠনের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়েও নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক স্তরে সরকারের কাজ যেমন চলবে, তেমনই দলের সাংগঠনিক কাঠামোকেও সেই কাজ সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে। উল্লেখ্য যে, সরকারের কাজের প্রচারের ক্ষেত্রেও সংগঠনকে সক্রিয় হওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। গত কয়েক মাসে রাজ্য সরকার যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা কাজ করেছে, সেগুলি নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের মানুষের কাছে পৌঁছতে বলা হয়েছে। তবে সরকারের কাজের মূল্যায়ন রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন হতে পারে। তাই দলীয় নেতৃত্বের এই নির্দেশ মূলত সংগঠনের প্রচার ও জনসংযোগের কৌশলের অংশ বলেই দেখা হচ্ছে। প্রকাশিত রিপোর্টেও দলের কাজ এবং সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার উপর নিতিন নবীনের জোর দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন : Nitin Gadkari on Sugar Price India | চিনির দামে সরকারের হাত কতটা? ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে বড় কথা বললেন নিতিন গডকরি

নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরের কর্মসূচী শুধুমাত্র রবিবারের সাংগঠনিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলে উল্লেখ। দুই দিনের সফরে তিনি রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করছেন। দলের কোর গ্রুপের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনকে নিচুতলায় আরও সক্রিয় করা, নির্বাচিত প্রতিনিধি ও দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতৃত্বের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া, এই বিষয়গুলি সফরের আলোচনায় রয়েছে বলে রাজ্য বিজেপির সূত্রে উল্লেখ। এর আগে নিতিন নবীন দিল্লিতে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই আলোচনাতেও রাজ্য সরকারের কাজের সঙ্গে দলীয় সংগঠনের যোগাযোগ এবং সংগঠন পরিচালনার বিষয়টি উঠে এসেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়। ফলে কলকাতার বৈঠককে সেই ধারাবাহিক আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসাবেও দেখা হচ্ছে।

রাজ্য বিজেপির সামনে এখন আর একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হল নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বের মধ্যে কাজের বিভাজন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ঠিক রাখা। জেলা থেকে রাজ্য, মোর্চা থেকে মূল সংগঠন, বিধায়ক থেকে মন্ত্রী, বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনও বাড়ছে। রবিবারের বৈঠকে নিতিন নবীনের বক্তব্যের অন্যতম দিক ছিল সেই যোগাযোগকে কার্যকর রাখা। দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হলে শুধু পৃথক ভাবে কর্মসূচি করলেই হবে না, বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হবে, এমনই অবস্থান উঠে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।

রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কাছে এই সাংগঠনিক বার্তা কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নিচুতলায় তার বাস্তব প্রয়োগের উপর। জেলা নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারের মধ্যে যোগাযোগ নিয়মিত হয় কি না, স্থানীয় সমস্যার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে রাখা হয় কি না এবং সরকারের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংগঠন কতটা সক্রিয় হয়, আগামী দিনে তার উপরেই নজর থাকবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠক শেষ হলেও তাই আলোচনার আসল পর্ব এখন রাজ্য ও জেলা স্তরে। কিন্তু, নিতিন নবীনের রবিবারের বৈঠনকে ঘিরে বিজেপির সাংগঠনিক পরিসরে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তা হল বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিত কাঠামোয় কাজ করা। জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দল ও সরকারের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। নতুন রাজ্য কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সভাপতির এই সফরে তাই সংগঠন পরিচালনা, সরকারের কাজের প্রচার এবং বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ, তিনটি বিষয়ই সামনে এসেছে। আগামী দিনে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এই নির্দেশ কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেদিকেই লক্ষ্য রাজনৈতিক মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya | দুর্নীতির প্রমাণ মিললেই ব্যবস্থা! কর্মীদের কড়া নির্দেশ শমীক ভট্টাচার্যের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন