প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : একদা রুপোলি পর্দায় তাঁকে প্রায় নিয়মিত দেখা যেত। ঝলমলে আলো, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর নায়িকার ব্যস্ত জীবন সবই ছিল তাঁর দৈনন্দিন বাস্তবতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় থেকে সরে এসে একেবারে ভিন্ন পথে হাঁটলেন। এখন তিনি পরিচিত দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশবাবুর (Mahesh Babu) স্ত্রী হিসেবে, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, নিজস্ব সাফল্য ও সম্পত্তির জোরেই আলাদা করে নজর কেড়েছেন নম্রতা শিরোদকর (Namrata Shirodkar)। ২২ জানুয়ারি ৫৪তম জন্মদিনে ফের আলোচনায় উঠে এল তাঁর জীবন, কেরিয়ার এবং বিপুল সম্পত্তির অঙ্ক।

মডেলিং দিয়েই কর্মজীবন শুরু করেছিলেন নম্রতা। নব্বইয়ের দশকে বলিউডে পা রেখে ধীরে ধীরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়’ (Jab Pyaar Kisise Hota Hai), ‘মেরে দো অনমোল রতন’ (Mere Do Anmol Ratan) এবং ‘হিরো হিন্দুস্থানি’ (Hero Hindustani) এই তিনটি ছবির মাধ্যমেই বড় পর্দায় তাঁর আত্মপ্রকাশ।

পরবর্তী সময়ে একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন। ‘হেরা ফেরি’ (Hera Pheri), ‘দিল বিল পেয়ার বেয়ার’ (Dil Vil Pyaar Vyaar) কিংবা যুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘এলওসি: কার্গিল’ (LOC: Kargil) -এ তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছিল।

শুধু হিন্দি নয়, দক্ষিণী ছবিতেও কাজ করেছেন নম্রতা। এমনকী আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও নিজের উপস্থিতিও জানান দেন।

ইংরেজি ছবি ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ -এ (Bride and Prejudice) অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, নিজেকে ভেঙে নতুন জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালে তেলুগু ছবি ‘মেজর’ (Major) -এ তাঁকে আবার দেখা যায়, যা দর্শকের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছিল।

আরও পড়ুন : Kajol | তিন খানের তুলনায় সালমানের স্টার পাওয়ার অনন্য! অকপট স্বীকারোক্তি কাজলের
কিন্তু, অভিনয়ের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নম্রতা নেন অনেক আগেই। ২০০৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণী তারকা মহেশবাবুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নম্রতা।

সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই তাঁকে আড়ালে ঠেলে দেয়নি। বরং নতুন পরিচয়ে, নতুন ভূমিকায় তিনি আরও শক্তপোক্ত হয়ে উঠেছেন।

মহেশবাবু ও নম্রতা শিরোদকর, বিনোদনজগতে এই জুটিকে ‘পাওয়ার কাপল’ বলেই মনে করা হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবন বরাবরই অনুরাগীদের কাছে অনুপ্রেরণা। ক্যামেরার ঝলকানির বাইরে এক স্থিতিশীল পারিবারিক জীবন গড়ে তুলেছেন তাঁরা। তবে শুধু পারিবারিক দিক থেকেই নয়, আর্থিক দিক থেকেও এই দম্পতি যথেষ্ট শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে।

অভিনয় ছাড়ার পর ব্যবসার দুনিয়ায় মন দেন নম্রতা। বহুতল নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যবসা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এই সমস্ত উদ্যোগে মহেশবাবুও তাঁর পাশে রয়েছেন। অভিনয় থেকে সঞ্চিত অর্থ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিনিয়োগ মিলিয়ে নম্রতার একার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে জানা যায়।

অর্থাৎ, তিনি কেবল তারকা-স্ত্রী নন, নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী। অন্য দিকে, মহেশবাবু বর্তমানে দক্ষিণী ছবির দুনিয়ায় অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজন।

এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন পরিচালক এসএস রাজামৌলির (S. S. Rajamouli) বহুচর্চিত ছবি ‘বারাণসী’ (Baranasi) নিয়ে। এই ছবির কাজ চলছে টানা তিন বছর ধরে।

জানা যাচ্ছে, প্রতি বছরের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন মহেশবাবু। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ৩৫০ কোটি টাকা। এই হিসেবে মহেশবাবু ও নম্রতা শিরোদকরের সম্মিলিত সম্পত্তির অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সমৃদ্ধ দম্পতি হিসেবেই তাই তাঁদের নাম উঠে আসে।

সিনেমা সমালোচকরা অবশ্য মনে করছেন, অভিনয়জগৎ ছেড়ে দিলেও নম্রতা শিরোদকর এখনও আলোচনার কেন্দ্রে। কখনও মহেশবাবুর সাফল্যের ছায়ায়, কখনও আবার নিজের ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য। ৫৪ বছরে পা দিয়েও নম্রতা প্রমাণ করে চলেছেন, যদি লক্ষ্য স্থির থাকে আর পরিশ্রমে ঘাটতি না থাকে তাহলে ক্যামেরার সামনে না থাকলেও সাফল্যের ভেতরেই থাকা যায়।
সব ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rashmika Mandanna Vijay Deverakonda marriage | গোপনে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবরকোন্ডা? ভাইরাল ছবিতে তোলপাড় বিনোদন দুনিয়া




