Nabanna Darbar West Bengal, Public Grievance Hearing | সপ্তাহে দু’দিন ‘জনতার দরবার’! অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আধিকারিকের কাছে অভিযোগ, নবান্নের নতুন নির্দেশিকা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে নতুন নিয়ম চালু করল নবান্ন (Nabanna)। এ বার থেকে সপ্তাহে দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে দফতরে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হবে প্রশাসনের একাধিক স্তরের আধিকারিককে। অভিযোগ জানাতে কোনও আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হবে না। প্রতি মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। শুধু অভিযোগ গ্রহণ করাই নয়, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করা হল, সেই তথ্যও নথিভুক্ত করে রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরকে। রাজ্য প্রশাসনের এই নতুন ব্যবস্থার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যসচিব। নির্দেশিকায় মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দিষ্ট দু’দিন নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। ওই সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করা ও তাঁদের সমস্যার কথা শোনাই হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অন্যতম দায়িত্ব। ফলে কোনও বৈঠক, সরকারি সফর, পরিদর্শন কিংবা অন্য কোনও কর্মসূচির কারণে ওই সময় যেন আধিকারিকেরা অফিসের বাইরে না থাকেন, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : Nepal Flash Flood | ভূমিকম্প নয়, হিমবাহধস থেকেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান! মৃত ২৮৯, নিখোঁজ বহু, আতঙ্ক ভারত-তিব্বত সীমান্তেও

নতুন ব্যবস্থার আওতায় পড়ছেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক। জেলাশাসক (District Magistrate), অতিরিক্ত জেলাশাসক (Additional District Magistrate), মহকুমাশাসক (Sub-Divisional Officer) ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (Block Development Officer) -এর মতো পদাধিকারীদের নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধ থাকতে হবে। পুর প্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। পুর কমিশনারদেরও মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিযোগ শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু অসামরিক প্রশাসন নয়, পুলিশ প্রশাসনকেও এই ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার (Police Commissioner), ডেপুটি কমিশনার (Deputy Commissioner) ও পুলিশ সুপার (Superintendent of Police) -সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদেরও নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতে হবে। ফলে জমি, সরকারি পরিষেবা, স্থানীয় প্রশাসন, পুর পরিষেবা কিংবা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন : Rajnath Singh DRDO missile technology transfer | রাজনাথের বড় সিদ্ধান্ত, ভারতীয় সংস্থার হাতে DRDO-র ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি

এত দিন প্রশাসনের কোনও আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে অনেক ক্ষেত্রেই আগে থেকে যোগাযোগ বা সময় নেওয়ার প্রয়োজন হত। বিভিন্ন সরকারি দফতরে অভিযোগ জানাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে একাধিক স্তর পেরোতে হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। নতুন নির্দেশিকায় সেই প্রক্রিয়াকে কিছুটা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট দু’দিনে সরাসরি অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে নিজের সমস্যার কথা জানানো যাবে। কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই দেখা করার এই সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নবান্নের নির্দেশিকায় শুধু অভিযোগ শোনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কোনও ব্যক্তি কী অভিযোগ জানালেন, সেই অভিযোগ নিয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করল ও সেটি নিষ্পত্তির দিকে কতটা এগোল, তার নথি রাখতে হবে। অর্থাৎ, অভিযোগ গ্রহণের পর বিষয়টি যাতে ফাইলের মধ্যে আটকে না থাকে, তার জন্য একটি নজরদারি ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হলে তার বিবরণও রেকর্ডে রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অভিযোগের নিষ্পত্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও ব্যক্তি সমস্যার কথা জানালেন, কিন্তু পরে সেটি নিয়ে কী কাজ হয়েছে, তা জানতে না পারলে অভিযোগ জানানোর উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। নতুন ব্যবস্থায় অভিযোগের পরবর্তী গতিপথ নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ থাকায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়বদ্ধতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্দেশিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর বা অফিসে আধিকারিকের সরকারি ই-মেল ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। এর ফলে অফিসে এসে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মানুষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবারের সময়সূচিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্য আধিকারিকদের সময় বরাদ্দ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে অফিসিয়াল বৈঠক, সরকারি সফর, পরিদর্শন বা অন্য কোনও কর্মসূচি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, জনসাধারণের অভিযোগ শোনার জন্য সপ্তাহে অন্তত দু’টি নির্দিষ্ট সময় প্রশাসনিক ক্যালেন্ডারে আলাদা করে রাখা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার ফলে জেলা থেকে ব্লক ও মহকুমা থেকে পুরসভা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আধিকারিকদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়তে পারে। কোনও সরকারি পরিষেবা পেতে গিয়ে সমস্যা হলে, স্থানীয় স্তরে কোনও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে কিংবা কোনও অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে সরাসরি বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে বিডিও ও মহকুমাশাসকের দফতরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বাস্তবতা। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া, জমি সংক্রান্ত সমস্যা, শংসাপত্র, স্থানীয় উন্নয়ন, রাস্তা, পানীয় জল, আবাসন, ভাতা কিংবা অন্যান্য সরকারি পরিষেবা নিয়ে মানুষকে নানা সময়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট দিনে আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকায় সেই যোগাযোগের একটি নিয়মিত কাঠামো তৈরি হতে পারে।

জেলা প্রশাসনের ক্ষেত্রেও জেলাশাসকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অভিযোগ স্থানীয় স্তরে সমাধান না হলে উচ্চতর প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। একই ভাবে অতিরিক্ত জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকদের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ থাকায় অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তা সংশ্লিষ্ট স্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে। পুর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পুর কমিশনারের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহরাঞ্চলে নিকাশি, পানীয় জল, রাস্তা, বর্জ্য অপসারণ, পুর পরিষেবা কিংবা নাগরিক পরিকাঠামো নিয়ে সমস্যা হলে মানুষ সংশ্লিষ্ট পুর কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। নির্দিষ্ট দিনে পুর কমিশনারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ব্যবস্থা থাকলে অভিযোগ জানানোর একটি নির্দিষ্ট পথ তৈরি হবে।

পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার এবং পুলিশ সুপার পর্যায়ের আধিকারিকদের নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের অভিযোগ শুনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় বিবাদ, পুলিশি পরিষেবা কিংবা অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি সরকারি মোবাইল নম্বর ও ই-মেল ঠিকানা প্রকাশ্যে থাকার কারণে লিখিত বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমেও যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। নবান্নের এই নির্দেশিকার পিছনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে বহু ধরনের সমস্যা তৈরি হয়, যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য নিয়মিত শোনা গেলে প্রশাসনের কাছে স্থানীয় সমস্যার প্রকৃতি সম্পর্কে আরও দ্রুত তথ্য পৌঁছতে পারে।

কিন্তু, নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে তা কতটা নিয়ম মেনে বাস্তবায়িত হচ্ছে তার উপর। নির্দিষ্ট সময়ে আধিকারিকদের অফিসে উপস্থিত থাকা, অভিযোগ নথিভুক্ত করা, অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের তথ্য সংরক্ষণ, প্রতিটি স্তরেই নজর রাখতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট দু’দিন অফিসে বসা নয়, অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সরকারি দফতরের বাইরে আধিকারিকের সরকারি ই-মেল এবং মোবাইল নম্বর টাঙানোর নির্দেশও সাধারণ মানুষের যোগাযোগের সুযোগ বাড়াবে। তবে সেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও প্রক্রিয়া বজায় রেখেই অভিযোগ গ্রহণ এবং নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রশাসনের সঙ্গে নাগরিকের যোগাযোগের পথ যত সহজ হবে, ততই স্থানীয় স্তরে সমস্যার দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনাও বাড়বে। নবান্নের নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর আগামী দিনে এর বাস্তব ফল কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অ্যাপয়েন্টমেন্টের বাধ্যবাধকতা থাকছে না। পাশাপাশি অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপের নথি রাখার নির্দেশ থাকায় শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, তার নিষ্পত্তির দিকেও নজর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম তাই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Uzbekistan Uranium Deal, PM Narendra Modi Tashkent | তাসখন্দে বড় চুক্তি মোদীর, উজবেকিস্তান থেকে দীর্ঘস্থায়ী ইউরেনিয়াম আনবে ভারত! সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন