তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : নতুন তারকার আবির্ভাব। ভারতের তরুণ মডেল ও প্রতিভাবান প্রতিযোগী অ্যাবেল বিজু (Abel Biju) মিস্টার ইন্ডিয়া সুপ্রান্যাশনাল খেতাব জিতে শুধু গর্বিত করেননি নিজের পরিবারকে, একইসঙ্গে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আগামী বছরে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিস্টার সুপ্রান্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে অংশ নেবেন তিনি। বিজুর কথায়, ‘আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের দেশের পতাকা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পারব।’
কৌতূহলজনকভাবে, অ্যাবেল প্রথমে প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছিলেন একজন বন্ধুর উৎসাহে। তবে তাঁর বন্ধুরা কেউই শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। অথচ অ্যাবেল নিজে সেই মঞ্চে গিয়েই জয়ী হয়েছেন। সেখান থেকেই শুরু হল তাঁর নতুন পথচলা। নিজের জয়ের পর তিনি এখন চান, তাঁর অঞ্চলের আরও তরুণেরা এই ধরনের পেজেন্টে আসুক। ‘আমি কেরালা (Kerala) থেকে এসেছি। সেখান থেকে খুব কম মানুষই এই ধরনের প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। আমি চাই এই খেতাবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে। আমি দেখাতে চাই, স্বপ্ন থাকলে যে কেউ এই মঞ্চে আসতে পারে। নিখুঁত হতে হবে না, শুধু আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজেকে বিশ্বাস করতে হবে,’ আবেগঘন স্বরে বললেন অ্যাবেল। জীবনের বিশেষ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে অ্যাবেল জানালেন এক অন্য গল্প। কলেজ শেষ করার পর তিনিই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই দিন তাঁর মনে হয়েছিল, বাবা-মাকে গর্বিত করেছেন। আজ, জাতীয় স্তরের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আবারও একই অনুভূতি ফিরে পেয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এখন আমার মনে হচ্ছে আমি পুরো দেশকেই গর্বিত করতে চলেছি।’
আগামী বছরের জন্য তিনি যে বিশেষভাবে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট তাঁর কথাতেই। পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য তাঁর রয়েছে ভিন্নতর প্রস্তুতি। নিজের বিশেষত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে অ্যাবেল জানালেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় গুণ হলো অভিযোজনক্ষমতা। মিস্টার ইন্ডিয়ার ১২ জন ফাইনালিস্টের মধ্যে আমিই একমাত্র ছিলাম যিনি হিন্দি বলতে পারিনি। তবুও সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পেরেছিলাম। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অন্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গেও সহজেই সংযোগ তৈরি করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’
এখানেই থেমে থাকতে চান না অ্যাবেল বিজু। ভবিষ্যতে তিনি অভিনয়ের জগতে আসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে বলিউডে নয়, প্রথমে দক্ষিণী ছবির জগতে তিনি প্রবেশ করতে চান। নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবে অভিনেতা নই। তাই আগে অভিনয়ের মৌলিক বিষয়গুলো শিখতে চাই। অভিনয় স্কুলে গিয়ে শিক্ষা নেব, তারপর ধীরে ধীরে এগোতে চাই।’ প্রসঙ্গত, অ্যাবেলের চোখে তাঁর খেতাব শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, সামাজিক দায়িত্বও। তিনি চান ভারতের যুবসমাজকে সুযোগ সৃষ্টি করার পথে এগিয়ে দিতে। তাঁর মতে, আজকের দিনে তাঁর অনেক সহপাঠীই বিদেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কারণ দেশে যথেষ্ট সুযোগ নেই। এই প্রসঙ্গে অ্যাবেলের বক্তব্য, ‘আমি চাই মানুষ বুঝুক যে সুযোগ সবসময় খুঁজে পাওয়া যায় না, বরং সুযোগ তৈরি করতে হয়। আমি সেই আলো ফেলতে চাই যেখানে তরুণেরা নিজেদের দেশে থেকে নিজের প্রতিভা কাজে লাগাতে পারবেন।”
এটিও পড়ুন : lifestyle change for fatherhood | বাবা হতে চান? এই অভ্যাসগুলি বদলালেই দ্রুত সুসংবাদ পাবেন
অন্যদিকে, ভারতের তরুণদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছেন অ্যাবেল বিজু। তাঁর যাত্রা দেখাচ্ছে, আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নের শক্তি থাকলে কোথাও পৌঁছানো অসম্ভব নয়। ব্যাংকের চাকরি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে ওঠার এই পথচলা ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক প্রেরণাদায়ী গল্প হয়ে থাকবে। এখন সকলের নজর পোল্যান্ডের দিকে, যেখানে ভারতীয় পতাকা হাতে অ্যাবেল বিজু হাঁটবেন বিশ্বমঞ্চে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indrani Rahman, Miss India 1952, First Miss Universe India | মিস ইউনিভার্সে প্রথম ভারতীয় সুন্দরী ইন্দ্রাণী রহমান




