সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) কোনাসীমা জেলার মোরামপুদি (Morampudi) শহরে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর র্যাগিংয়ের ঘটনা। অভিযোগ, হস্টেলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে গরম ইস্ত্রির ছেঁকা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ছাত্রের হাতে, ঊরুতে ও পেটে গভীর ক্ষতের দাগ দেখা গিয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার অভিযুক্তরা আর কেউ নন, তারই দুই সহপাঠী। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের খবর, গত ১৬ আগস্ট হস্টেল থেকে একটি সিসি ক্যামেরা চুরি যায়। পরে সেই চুরি হওয়া ক্যামেরাটি পাওয়া যায় আক্রান্ত ছাত্রের ব্যাগ থেকে। ছাত্রের দাবি, আসলে অন্য দুই পড়ুয়াই ওই ক্যামেরাটি চুরি করে তার ব্যাগে রেখে দিয়েছিল। সে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার পরেই ১৮ আগস্ট রাতে হস্টেলের ঘরে অভিযুক্ত দুই ছাত্র আক্রান্ত পড়ুয়ার উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, সেখানেই তাকে গরম ইস্ত্রির ছেঁকা দেওয়া হয়। আক্রান্ত ছাত্রের শরীরে গুরুতর দগদগে ক্ষত থাকা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু আক্রান্ত ছাত্রের মা হস্টেলে ছেলেকে দেখতে গেলে সত্যিটা প্রকাশ্যে আসে। ছেলের শরীরে ক্ষতচিহ্ন দেখে তিনি প্রশ্ন করলে ছাত্রটি পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
এরপরেই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে। স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনার তদন্তে নেমেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।কোনাসীমার জেলা শিক্ষা আধিকারিক বাসুদেরা রাও (Basudera Rao) সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে জানিয়েছেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই রিপোর্ট জমা পড়বে।’ তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় অভিভাবক মহল ও সমাজকর্মীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ যদি প্রথম থেকেই পদক্ষেপ নিতেন তবে এতটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাদের দাবি, শুধু অভিযুক্ত ছাত্রদের নয়, হস্টেল প্রশাসনকেও জবাবদিহি করতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে আক্রান্ত ছাত্রটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে ও সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।
এই ঘটনার পর অন্ধ্রপ্রদেশের স্কুল হস্টেলগুলির নিরাপত্তা ও ছাত্রদের উপর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কড়া নজরদারি, সচেতনতা কার্যক্রম ও র্যাগিং বিরোধী কড়া আইন কার্যকর করা জরুরি। প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে বারবার র্যাগিংয়ের ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে আসছে। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনার নির্মমতা আবারও মনে করিয়ে দিল, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি হয়ে উঠেছে।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rohit Sharma Test retirement, Rohit Sharma cricket news | টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে হঠাৎ মুখ খুললেন রোহিত শর্মা




