প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : রুপোলি পর্দায় তাঁর নাচ, অভিনয় আর লড়াইয়ের দৃশ্য এক সময় দর্শকদের মাতিয়ে রাখত। ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ থেকে শুরু করে একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। কিন্তু পর্দার বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও কম নাটকীয় নয়। বিশেষ করে অভিনেত্রী যোগিতা বালি (Yogeeta Bali) -এর সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ের গল্প আজও বলিউডের আলোচিত কাহিনিগুলির একটি। প্রেমের পথে পরিবারের আপত্তি, বিয়ের সিদ্ধান্ত বারবার পিছিয়ে যাওয়া, তারপর হঠাৎ করে গোপনে বিয়ের আয়োজন—সব মিলিয়ে মিঠুন-যোগিতার বিয়ের কাহিনি যেন রুপোলি পর্দার কোনও চিত্রনাট্য।

এক সময় বলিউডে মিঠুন চক্রবর্তীর উত্থানের গল্প নিয়ে যেমন চর্চা হয়েছে, তেমনই তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহ কমেনি। একেবারে সাধারণ পরিস্থিতি থেকে উঠে এসে চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন মিঠুন। সত্তরের দশকের শেষ দিকে তাঁর সঙ্গে যোগিতা বালির ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব, তার পরে সেই সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। কিন্তু সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে গিয়ে তাঁদের সামনে একাধিক বাধা তৈরি হয়েছিল। যোগিতা বালির ব্যক্তিগত জীবনেও তখন বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৭৬ সালে তিনি গায়ক ও সুরকার কিশোর কুমারকে (Kishore Kumar) বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৮ সালে তাঁদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। এর পরেই মিঠুনের সঙ্গে যোগিতার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব পরিণত হয় প্রেমে। কিন্তু প্রেম থাকলেও বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়নি। মূল সমস্যার জায়গায় ছিল পরিবার। যোগিতার মা এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি বলে বিভিন্ন পুরনো সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। মেয়ের সঙ্গে মিঠুনের সম্পর্ক ও তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনায় তাঁর আপত্তি ছিল। ফলে বিয়ের আলোচনা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল। মিঠুন ও যোগিতা দুজনেই সম্পর্কটিকে পরিণতি দিতে চাইলেও পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছিল না।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে মিঠুন আর অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না। তখনই তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নেন, যা পরে তাঁদের বিয়ের গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। কথিত আছে, মিঠুন যোগিতাকে জানিয়ে দেন যে পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে তাঁকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশের আসল কারণ যোগিতা তখনও জানতেন না। তাঁর ধারণা ছিল না যে, মিঠুন ইতিমধ্যেই বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আয়োজন করে ফেলেছেন। পরদিন নির্দিষ্ট সময়ে যোগিতা মিঠুনের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, বাড়িতেই বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বড় কোনও অনুষ্ঠান নয়, ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ের আয়োজন। এমনকি শোনা যায়, মিঠুনের শোওয়ার ঘরেই তৈরি হয়েছিল বিবাহের আসর। সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই দ্রুত এগিয়েছিল যে, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা বিয়ের সিদ্ধান্ত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাস্তব রূপ পায়।
আরও পড়ুন : Dev and Mithun : দেব ও মিঠুন জুটি ফিরছেন ফর্দায়!
এই বিয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি মজার ঘটনা। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুরোহিতকে নাকি মিঠুন সময় নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে আচার-অনুষ্ঠান করার পরিস্থিতি ছিল না। ফলে দ্রুততার সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার জন্য পুরোহিতকে তাগাদা দিয়েছিলেন অভিনেতা। শেষ পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয় বলে বিভিন্ন পুরনো প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মিঠুনের জীবনের সেই সময়টা ছিল পেশাগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াই তখনও চলছে। একের পর এক ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ আসছিল। অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে যোগিতার সঙ্গে সম্পর্কও নতুন মোড় নিচ্ছিল। ফলে কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, দুই দিকেই একসঙ্গে বড় পরিবর্তনের সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন অভিনেতা। মিঠুন ও যোগিতার বিয়ের কাহিনির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, এটি কোনও বড় তারকা-সমারোহের আয়োজন ছিল না। পরবর্তী সময়ে দুজনেই বলিউডের পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেও তাঁদের বিয়ের শুরুটা হয়েছিল অনেকটাই ব্যক্তিগত পরিসরে। পরিবারের আপত্তির কারণে যে বিয়ে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিই আচমকা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
যোগিতা বালি নিজেও সেই সময় হিন্দি চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেত্রী। ফলে দুই চলচ্চিত্র তারকার সম্পর্ক নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বলিউডে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের সম্পর্কের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পারিবারিক সম্মতির অভাব সেই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘায়িত করেছিল। শেষ পর্যন্ত মিঠুনের উদ্যোগেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয় বলে প্রচলিত কাহিনিতে উঠে আসে। তাঁদের প্রেমের গল্পের সঙ্গে মিঠুনের শুরুর জীবনের সংগ্রামের কথাও প্রায়ই উঠে আসে। কলকাতা থেকে মুম্বইয়ে গিয়ে চলচ্চিত্র জগতে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। এক সময় জীবনে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। পরে অভিনয় দক্ষতা, নাচ আর পর্দায় নিজস্ব উপস্থিতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ‘মৃগয়া’ (Mrigayaa) ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। পরে বাণিজ্যিক ছবিতে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।
আরও পড়ুন : Aamir Khan Lalkara | ৬১-তে ২৫ বছরের যুবক আমির খান! ‘লালকারা’-র জন্য ফের বড় শারীরিক বদল
বিশেষ করে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ (Disco Dancer) ছবির সাফল্যের পর মিঠুনের পরিচিতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। নাচকে কেন্দ্র করে তৈরি চরিত্রে তাঁর অভিনয় আর পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা নিয়েও সংবাদমাধ্যম ও অনুরাগীদের আগ্রহ ছিল। যোগিতার সঙ্গে বিয়ের ঘটনাটি সেই আগ্রহের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। মিঠুন ও যোগিতার বিয়ের পর তাঁদের সংসারও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাঁদের পরিবার বড় হয়েছে। তাঁদের সন্তানদের নিয়েও পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা হয়েছে। মিঠুনের চলচ্চিত্রজীবন যেমন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত হয়েছে, তেমনই তাঁর পারিবারিক জীবনও নানা ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। তাঁদের বিয়ের শুরুর ঘটনাটি এখনও আলাদা করে আলোচনায় আসে মূলত তার নাটকীয়তার জন্য। বিয়েতে পরিবারের সম্মতি মিলছিল না, সিদ্ধান্ত বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল, তার পর আচমকা মিঠুনের তরফে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িতে আসার ডাক। আর সেখানে গিয়ে বিয়ের আয়োজন দেখতে পাওয়া। এর সঙ্গে মাত্র ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান শেষ করার ঘটনা যোগ হওয়ায় পুরো কাহিনিটি আরও চমকপ্রদ হয়ে উঠেছে।
বলিউডে তারকাদের বিয়ে সাধারণত বড় আয়োজন, অতিথি সমাগম ও দীর্ঘ প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত বলে দর্শকদের ধারণা। কিন্তু মিঠুন ও যোগিতার বিয়ের গল্প সেই চেনা ছবির থেকে একেবারেই আলাদা। তাঁদের বিয়েতে ছিল না দীর্ঘ পরিকল্পনার প্রকাশ্য আয়োজন। পারিবারিক বাধার কারণে দীর্ঘ অপেক্ষার পর হঠাৎ সিদ্ধান্ত আর দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করার ঘটনাই এই সম্পর্কের বিয়েকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। বহু বছর পরও মিঠুন চক্রবর্তী ও যোগিতা বালির প্রেম ও বিয়ের গল্প নিয়ে আলোচনা হলে উঠে আসে সেই দিনের কথা। সকাল ৯টার মধ্যে বাড়িতে পৌঁছনোর নির্দেশ, গোপনে প্রস্তুত করা বিয়ের আয়োজন, বাড়ির ঘরেই বিবাহবাসর ও পুরোহিতকে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করার তাগাদা, তাঁদের বিয়ের কাহিনি বলিউডের তারকা-জীবনের এক ব্যতিক্রমী দিক হয়ে রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan Mannat | শাহরুখ খানের ‘মান্নাত’ ঘিরে কৌতূহল! দাম, ঠিকানা, অন্দরসজ্জা : কিং খানের স্বপ্নের বাড়ি




