পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম ভরসার নাম মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc) আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণা করলেন। মাত্র কয়েক মাস পরেই ভারতে ও শ্রীলঙ্কায় হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার ঠিক আগেই স্টার্কের হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট মহলে বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

৩৫ বছর বয়সী স্টার্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিন ফরম্যাটে দেশের জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। তবে এবার তিনি টেস্ট এবং এক দিনের ক্রিকেটেই বেশি মনোযোগ দিতে চান। নিজের অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে স্টার্ক স্পষ্ট করে জানান, ‘টেস্ট ক্রিকেট বরাবরই আমার অগ্রাধিকার ছিল এবং থাকবে। তবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যে কয়েকটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছি, তার প্রতিটিই আমার কাছে বিশেষ। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিশ্বকাপ, আমরা শুধু চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম বলেই নয়, সেই দলের সঙ্গে থাকা প্রতিটি মুহূর্তই অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টার্কের অবদানের কথা ভুলতে পারবে না অস্ট্রেলিয়া। ২০২১ সালের দুবাইয়ে তাঁর ধারালো বোলিং ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি। ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মধ্যে পাঁচটিতেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন তিনি। শুধুমাত্র চোটের কারণে ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন।

স্টার্কের পরিসংখ্যানও তাঁর গুরুত্বকে তুলে ধরে। মোট ৬৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৭৯টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তাঁর ইকনমি রেট ৭.৭৪, যা বিশ্বমানের দ্রুত বোলার হিসেবে প্রশংসনীয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। তাঁর ওপরে রয়েছেন কেবল অ্যাডাম জাম্পা (Adam Zampa)। অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্টার্ক বলেন, ‘ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ রয়েছে সামনে। তারপর অ্যাসেজ় (Ashes) এবং এক দিনের বিশ্বকাপ। আমার মনে হয়, এইসব গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের জন্য নিজেকে ফিট এবং সতেজ রাখা প্রয়োজন। তাই টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোই আমার কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত।’

তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের জন্য নতুন ভাবনার জন্ম দেবে। কারণ আসন্ন বিশ্বকাপে দলের পেস আক্রমণে এখন নতুন মুখ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্টার্ক ছিলেন দলের আক্রমণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাঁর অনুপস্থিতি পূরণ করতে হলে অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার মিশ্রণ দিয়ে নতুন সমাধান খুঁজতে হবে নির্বাচকদের। স্টার্কের অবসর ক্রিকেটবিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ‘সময়োপযোগী’ বলছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, আসন্ন বিশ্বকাপেই তাঁকে শেষবার মাঠে দেখা গেলে ভক্তদের জন্য বিশেষ মুহূর্ত হতো। তবে স্টার্ক পরিষ্কার জানিয়েছেন, শারীরিক সক্ষমতা ও কেরিয়ারের দীর্ঘস্থায়িত্বের কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ান দলের ভবিষ্যতের দিক থেকে এটি এক বড় পরিবর্তন হলেও, টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটে স্টার্ককে আরও কিছু বছর দেখা যাবে, এটাই ভক্তদের সান্ত্বনা। তাঁর গতি, সুইং এবং ধারালো ইয়র্কার এখনও বিশ্ব ক্রিকেটে যে কোনও ব্যাটসম্যানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।




