তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : ভারতের ক্রিকেট ও নবাব পরিবারের ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল নাম মনসুর আলি খান পতৌদি (Mansoor Ali Khan Pataudi)। বাইশগজের মাঠে যেমন তাঁর ব্যাটিং দক্ষতা চমকে দিয়েছিল ভক্তদের, ঠিক তেমনই মাঠের বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল সমান আলোচিত। বলিউড অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore)-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবন ছিল সুখের ও সম্মানের, কিন্তু এটাই ছিল না তাঁর জীবনের প্রথম বা একমাত্র প্রেম।

মনসুরের জীবনে একাধিকবার প্রেম এসেছে। সেসবের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল অভিনেত্রী সিমি গারেওয়াল (Simi Garewal)-এর সঙ্গে সম্পর্ক। তবে এই সম্পর্কের মাঝেই শর্মিলার প্রতি মনসুরের বিশেষ অনুরাগ জন্ম নেয়। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি এই অনুভূতি গোপন করেননি, তা সরাসরি তাঁর তৎকালীন প্রেমিকার কাছেই স্বীকার করেছিলেন বিষয়টি। এবং সেই ঘটনাই আজও রয়ে গিয়েছে বলিউড-ক্রিকেট জগতের অন্যতম কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনি হিসেবে।

তৎকালীন একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ব্যস্ত মুম্বইয়ের এক গভীর রাতে। হঠাৎ করেই মনসুর হাজির হন সিমি গারেওয়ালের ফ্ল্যাটের সামনে। অপ্রস্তুত সিমি দরজা খোলামাত্রই মনসুর স্পষ্ট ভাষায় বলে বসেন, “ক্ষমা করে দিও, শুধু একটাই কথা বলার ছিল, অন্য কাউকে ভাল লেগেছে।” মুহূর্তের মধ্যে সম্পর্কের ধারা বদলে দিল এই সরল অথচ তীক্ষ্ণ স্বীকারোক্তি।

আশ্চর্যের বিষয়, সেদিন সিমি কোনও ঝগড়া বা তর্কে জড়াননি। তিনি গভীর নীরবতায় মনসুরের কথা শুনে গিয়েছিলেন। তারপর শান্তভাবে তাঁকে লিফট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। মনসুর বারবার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তিনি দরজা পর্যন্তই থাকেন, কিন্তু সিমি রাজি হননি। হয়ত নিজের ভালবাসার শেষ মুহূর্তটিকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু লিফটের সামনে পৌঁছেই ঘটল নাটকীয় মোড়। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন শর্মিলা ঠাকুর।

মুহূর্তেই তৈরি হয় একটি অদ্ভুত নীরবতা, যা শব্দের চেয়েও বেশি কিছু বলে দিয়েছিল। কারও মুখে কোনও কথা ছিল না, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনজনই বুঝে গিয়েছিলেন, একটি সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটছে, আরেকটি নতুন সম্পর্কের সূচনা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর মনসুর আর কখনও সিমির দিকে ফিরে তাকাননি। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি শর্মিলা ঠাকুরকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবন মৃত্যুর আগে পর্যন্ত অটুট ছিল। অন্যদিকে ১৯৭০ সালে সিমি গারেওয়াল বিয়ে করেন রবি মোহন (Ravi Mohan)-কে। তবে সেই বিবাহ বেশিদিন টেকেনি; অল্প সময়ের মধ্যেই বিচ্ছেদ ঘটে।উল্লেখ্য যে, মনসুর আলি খান পতৌদি শুধু ক্রিকেট মাঠের অধিনায়কই নন, ছিলেন ব্যক্তিত্বে দৃঢ়, সিদ্ধান্তে স্পষ্ট এক মানুষ। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় প্রমাণ করে, তিনি নিজের হৃদয়ের কথা বলতে দ্বিধা করতেন না, যদিও সেই স্বীকারোক্তি হয়তো কারও জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াত।

শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুরের দাম্পত্য ছিল বলিউড ও ক্রিকেটের মিলিত এক সুন্দর কাহিনি। সেখানে ভালবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এ একসঙ্গে জীবনের প্রতিটি অধ্যায় কাটিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ছিল। আজও তাঁদের প্রেমের গল্প ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sara Ali Khan birthday, Kareena Kapoor message to Sara | ৩০-এ পা দিলেন সারা আলি খান, জন্মদিনে আবেগঘন বার্তা করিনা কপূরের




