সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ২২ নভেম্বর: বহুকাল ধরে মহানগরের স্বপ্ন ছিল দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং স্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা। সেই স্বপ্নকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে এসেছিল মেট্রো রেল। কিন্তু কলকাতার বহু যাত্রী আজ আবারও হতাশা, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। কারণ, পুরো প্রকল্প প্রায় শেষ হলেও মাত্র ৩৬৬ মিটার পথ আটকে আছে অনুমতির জটিলতায়। আর সেখানেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া তার পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, শহরের মানুষ আজ একই প্রশ্ন করছে, “আমাদের দোষ কী? কেন আমাদের যাতায়াতের স্বপ্ন রাজনৈতিক স্বার্থে আটকে থাকবে?” এই এক বাক্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে হাজারও মানুষের প্রতিদিনের ভোগান্তি, স্কুল-কলেজ-অফিসে দেরি, চিঙড়িঘাটা মোড়ের অকারণ যানজট, এবং পূর্ব কলকাতার অচল পরিস্থিতি। তিনি দাবি করেন, মোদী সরকারের আগে মেট্রো মানেই ছিল অপেক্ষা, বিলম্ব। ফাইলে কাজ এগোলেও বাস্তবে তেমন কিছুই দেখা যেত না। কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে ২০১৪-এর পর। শমীক ভট্টাচার্য -এর কথায়, “মোদী সরকার আসার পর এক এক করে মেট্রোর লাইন জীবন্ত হতে শুরু করল- জোকা–তারাতলা পরিষেবা চালু হয়েছে, ইস্ট-ওয়েস্ট টানেলের কাজ এগিয়েছে, নিউ গড়িয়া-রুবির বড় অংশ শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে উন্নয়ন এমনই গতি পায়।”

এই বক্তব্যের পরই তিনি স্পষ্ট প্রশ্ন তোলেন, আজকের সংকটের জন্য দায় কে নেবে? প্রকল্পের কাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৩৬৬ মিটার পথের অনুমতি আটকে থাকায় কেন যাত্রীদের এভাবে কষ্ট পেতে হচ্ছে? তার ভাষায়, “কখনও অনুষ্ঠান, কখনও ম্যারাথন, কখনও ‘এখন নয়’ এভাবে অজুহাত দেখিয়ে বারবার প্রকল্প আটকে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের সুবিধার চাইতে রাজনীতির হিসেবকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” উল্লেখ্য, প্রতিদিন অফিসগামীদের গন্তব্যে পৌঁছতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় চিঙড়িঘাটার যানজটে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসাবে মেট্রো পরিষেবা শুরু হলেই এই চাপ কমে যেত, তা শহরবাসী ভালভাবেই জানেন। তাই তাদের ক্ষোভও স্বাভাবিক। এক অফিসযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেট্রো খুলে গেলে ১৫-২০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যেত অফিসে। এখন প্রতিদিন প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে যায়। আমরা কাদের জন্য ভুগছি?” বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্য সভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও ঠিক সেই একই অনুভূতির প্রতিধ্বনি তুলে বলেছেন, “মানুষ বুঝে গেছে, মোদী সরকার উন্নয়ন সম্পূর্ণ করেছে, কিন্তু রাজ্যের অসহযোগিতার কারণেই প্রকল্প আটকে যাচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, শহরের গতিশীলতা বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার ফাঁদে বন্দী’।
শমীক ভট্টাচার্য -এর ওই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নড়ে বসেছে বলে উল্লেখ। বিজেপির দাবি, মানুষের সাধারণ যাতায়াতকে মূল্য না দিয়ে রাজনৈতিক অভিসন্ধিতে এমন কাজ করা হচ্ছে। অপরদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে রাজ্য প্রশাসনের একটি অংশের বক্তব্য, চিঙড়িঘাটা ফ্লাইওভার সংলগ্ন অঞ্চল অত্যন্ত সেনসিটিভ, তাই সড়ক নিরাপত্তার মূল্যায়ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও সেই প্রক্রিয়া কেন এত দীর্ঘ হচ্ছে, তার স্পষ্ট উত্তর কেউ দিচ্ছেন না।এদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ চড়ছে। সময়ের দাবি, দ্রুত সমাধান। শহরের বাসিন্দারা বারবার একই কথা বলছেন, ‘শেষের কয়েকশো মিটারের জন্য আমরা আর কত বছর অপেক্ষা করব?’ উল্লেখ্য, যারা প্রতিদিনের ভোগান্তিতে ক্লান্ত, তারা মনে করছেন, উন্নয়ন আর রাজনৈতিক টানাপড়েন একসঙ্গে চলতে পারে না। মানুষের দাবি পরিষ্কার, মেট্রো খুলুক, স্বাভাবিক হোক যাতায়াত, স্বস্তি ফিরে আসুক শহরের রাস্তায়। আর সেই দাবির সঙ্গেই শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “উন্নয়নকে আটকানোর রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষের আওয়াজ আরও জোরালো হবে।” কলকাতার লাখো মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি, যানবাহনের চাপ, এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই সমস্যায় রাজনৈতিক বিতর্ক যতই চলুক, সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া, মেট্রো চালু হোক। এখন চোখ সবার একটাই, চিঙড়িঘাটার ৩৬৬ মিটার পথের অনুমতি কতদিনের মধ্যে মিলবে!
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Australia strategic partnership, Modi Albanese meeting | ৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন গতি : মোদী-অ্যালবানিজ বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি ও বাণিজ্য জোরদার করার বার্তা




