India Australia strategic partnership, Modi Albanese meeting | ৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন গতি : মোদী-অ্যালবানিজ বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি ও বাণিজ্য জোরদার করার বার্তা

SHARE:

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ (Anthony Albanese) বৈঠকের পর জানান, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক এখন 'অভূতপূর্ব উচ্চতায়' পৌঁছে গিয়েছে এবং এই সম্পর্ক শুধু দুই দেশের নয়, গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতাতেও গুরুত্ব রাখে। দুই সরকারের এই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই ভবিষ্যতের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের (Anthony Albanese) সঙ্গে বৈঠকের পর যে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি করেছেন। তাতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের যে রূপরেখা উঠে এসেছে, তা ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে ৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারিত্বের সময়ে যেভাবে বহুমাত্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে, মোদীর কথাতে সেই সফলতার প্রতিফলনই স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “Had a very good meeting with PM Albanese of Australia. This year, the strategic partnership between our nations completes 5 years and these years have witnessed transformative outcomes that have deepened our cooperation.” তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, এই পাঁচ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক শুধুই আনুষ্ঠানিক পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু, শিক্ষা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।

মোদীর পোস্টে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তিনটি ক্ষেত্র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, পারমাণবিক শক্তি এবং বাণিজ্য। তিনি জানিয়েছেন, “During our talks today, emphasised three key sectors, defence and security, nuclear energy and trade, where there is immense potential for ties to grow further.” অর্থাৎ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হবে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইতিমধ্যেই ‘2+2 Dialogue’ এবং যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। কোয়াড (QUAD) কাঠামোর মাধ্যমেও ভারত–অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা সমীকরণ আরও নিবিড় হয়েছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার সিকিউরিটি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আরও গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে বলেই কূটনৈতিক সূত্রের খবর। মোদীর পোস্ট এই আলোচনার গুরুত্ব আরও জোরালো করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার উন্নত সামুদ্রিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং ভারতের সামরিক দক্ষতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি খাতে সহযোগিতার প্রসঙ্গ দুই দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি কৌশলকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও নবায়নযোগ্য শক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে নিরাপদ পারমাণবিক শক্তিকে উভয় দেশই ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়াম রপ্তানিকারক দেশ, অন্যদিকে ভারত তার নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। ফলে এই আলোচনার গুরুত্ব অনেকটাই কৌশলগত।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। ইকনোমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ECTA) কার্যকর হওয়ার পর ভারত-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এবার লক্ষ্য আরও বিস্তৃত ও টেকসই বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করা। মোদী স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাণিজ্যের ক্ষেত্রটি দুই দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষত শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কৃষি, খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ইকোনমি এই সহযোগিতার মূল স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে। মোদীর পোস্টে আরও উঠে এসেছে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রসঙ্গ। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ছাত্রবিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১,২০,০০০ -এর বেশি ভারতীয় ছাত্র পড়াশোনা করছেন। এই সংখ্যা দুই দেশের সম্পর্কের মানবিক ও সামাজিক ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ভারতীয় কমিউনিটি অস্ট্রেলিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এই খাত আরও প্রসারিত হলে দুই দেশের নরম শক্তি বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ (Anthony Albanese) বৈঠকের পর জানান, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক এখন ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছে গিয়েছে এবং এই সম্পর্ক শুধু দুই দেশের নয়, গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতাতেও গুরুত্ব রাখে। দুই সরকারের এই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই ভবিষ্যতের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা কৌশলগত যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবাহ এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়ার প্রেক্ষিতে বর্তমানে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী-অ্যালবানিজ বৈঠকের বার্তা ভবিষ্যৎ দশকে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মোদীর পোস্টে যে আত্মবিশ্বাস দেখা গেছে, তা থেকে স্পষ্ট- আগামী দিনে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া শুধু সহযোগিতাকেই নয়, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক কাঠামোতে রূপ দিতে প্রস্তুত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Japan Visit | মোদীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন