সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতায় আবারও অগ্নিকাণ্ডের (Kolkata Fire Taratala) ঘটনা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হল। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের তারাতলা এলাকায় ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (Food Corporation of India) -এর একটি গুদামের পাশেই হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এফসিআই গুদামের সংলগ্ন একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুপুরের দিকে আচমকাই ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদেরই উদ্যোগে দ্রুত দমকলকে খবর দেওয়া হয়। বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ দমকলের কাছে খবর পৌঁছতেই তৎপরতা শুরু হয়। একজন দমকল আধিকারিক জানান, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করি।’ প্রথমে আটটি ইঞ্জিন পাঠানো হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরে আরও ইঞ্জিন বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত মোট ১০টি দমকল ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজে নামে।
প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ নিশ্চিত করতে দমকলকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। এখনও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গায় আগুনের ছোট ছোট উৎস দেখা যাওয়ায় সেগুলি নিভিয়ে ফেলার কাজ চলতে থাকে। এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা হয়েছে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। গুদামের আশপাশের এলাকায় কী ধরনের সামগ্রী ছিল এবং আগুনে সেগুলির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট বা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে দমকল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এক দমকলকর্মীর কথায়, ‘আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।’
অগ্নিকাণ্ডের সময় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুদামের পাশে আগুন লাগায় পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আশপাশের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসেন। কেউ কেউ দূর থেকে আগুনের ছবি ও ভিডিও তুলতে থাকেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। গত কয়েক মাসে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে চিৎপুর এলাকায় একটি ঝুপড়িতে আগুন লেগে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। আবার ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউ অঞ্চলের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটেও আগুন লাগে। সেই সময় দমকলের তিনটি ইঞ্জিনের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর শহরের নাগরিকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত নজরদারি হচ্ছে কি না। বিশেষ করে গুদাম, পার্কিং এলাকা বা ঘনবসতিপূর্ণ জায়গাগুলিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেশি থাকায় নিয়মিত পরিদর্শন এবং সতর্কতা প্রয়োজন বলে মত অনেকের। তারাতলার এই অগ্নিকাণ্ড আবারও সেই বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও দমকলের দ্রুত পদক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে, তবুও আগুনের উৎস এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। কিন্তু, কলকাতা শহরে দ্রুত বর্ধনশীল অবকাঠামো এবং জনবসতির মধ্যে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেদিকেই এখন নজর সবার।
— প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)




