সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আনন্দপুরের গুদামে আগুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল শহরের প্রাণকেন্দ্র মল্লিকবাজার এলাকা। সোমবার সকালেই মল্লিকবাজারের একটি চারতলা আবাসিক ভবনে আচমকা আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। আতঙ্কে ঘরছাড়া হন বাসিন্দারা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পরে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।সোমবার সকাল নাগাদ মল্লিকবাজার এলাকার ওই চারতলা বিল্ডিং থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চোখে পড়তেই শুরু হয় হইচই। ঘিঞ্জি এই এলাকায় পাশাপাশি একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিল্ডিং থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দ্রুত বাড়তে থাকে। আতঙ্কে আশপাশের মানুষজন রাস্তায় নেমে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম দমকল দফতরে খবর দেন।
খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর তিনটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে সংকীর্ণ রাস্তা ও ঘিঞ্জি বসতির কারণে দমকল কর্মীদের আগুন নেভানোর কাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে আগুন যাতে পাশের ভবনগুলিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই দিকেই বেশি জোর দেওয়া হয়। কারণ, ওই এলাকায় একটি ভবন থেকে আর একটি ভবনের দূরত্ব খুবই কম। সামান্য অসতর্কতায় বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারত বলে মনে করছেন দমকল আধিকারিকদের একাংশ। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ওই চারতলা ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের কয়েকটি ভবনও আংশিক ভাবে ফাঁকা করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার সময় ভবনের ভিতরে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। তবে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। এই ঘটনায় কেউ গুরুতর ভাবে আহত হননি বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, যা প্রশাসনের কাছে কিছুটা হলেও স্বস্তির। দমকল কর্মীরা পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকে পাইপ বসিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। সংকীর্ণ রাস্তা ও জল সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দেন। কয়েক ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগে দীর্ঘক্ষণ। ঘটনাস্থলে দমকল কর্মীদের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) -এর একটি বড় দলও উপস্থিত ছিল। ভিড় সামলানো ও উদ্ধারকাজে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, ওই ভবনের বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ বেশ পুরনো ছিল। অনেক দিন ধরেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ভবনের ভিতরে প্লাস্টিক বা অন্য কোনও দাহ্য বস্তু মজুত থাকার কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই বিষয়ে দমকল দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।
ঘটনার পরে দমকল আধিকারিকেরা জানান, আগুনের উৎস এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হবে। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত পরিকাঠামো ঠিকঠাক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোনও গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আবারও শহরের পুরোনো ও ঘিঞ্জি এলাকাগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মল্লিকবাজার কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে বহু পুরোনো ভবন রয়েছে, যেগুলির অধিকাংশেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বার বার সতর্ক করা হলেও অনেক ভবনেই অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয় না। প্রশাসনের তরফে নিয়মিত নজরদারির অভাবও এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে মত অনেকের।
আনন্দপুরের গুদামে আগুন লাগার ঘটনার পরেই এই নতুন অগ্নিকাণ্ড শহরবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পর পর আগুন লাগার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ কতটা মজবুত। বিশেষ করে ঘিঞ্জি বসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে জরুরি পরিষেবা পৌঁছতে যে সমস্যার মুখে পড়ে, তা এ দিনের ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যদিও বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবু এই অগ্নিকাণ্ড মল্লিকবাজার এলাকার বাসিন্দাদের মনে গভীর আতঙ্কের ছাপ রেখে গেল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরেও দীর্ঘক্ষণ এলাকায় ধোঁয়ার রেশ ছিল। অনেক বাসিন্দা এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকম সাহায্য করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Narendra Modi Republic Day | সাধারণতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথে নতুন ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশি অতিথিদের জন্য নিজেই ধারাভাষ্যকার হয়ে উঠলেন ভারতের কণ্ঠ




