Kali Puja firecracker timings West Bengal | কালীপুজো ও ছটে বাজি ফাটানোর সময় বেঁধে দিল নবান্ন, নিয়ম ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা

SHARE:

কালীপুজো ও ছটপুজোয় বাজি পোড়ানোর সময়সীমা, সবুজ বাজি ও নিষিদ্ধ শব্দবাজি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশিকা

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কালীপুজো (Kali Puja) ও ছটপুজো (Chhath Puja) উপলক্ষ্যে বাজি পোড়ানো, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে একগুচ্ছ বিধিনিষেধের কথা জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে উৎসবের দিনগুলিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাজি ফাটানো যাবে। কালীপুজো বা দীপাবলির রাতে বাজি পোড়ানোর সময় রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। অন্য দিকে, ছটপুজোর ক্ষেত্রে বাজি ফাটানোর অনুমতি থাকছে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছে প্রশাসন। হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও বৃদ্ধাশ্রমের আশপাশে বাজি পোড়ানো, নিষিদ্ধ শব্দবাজির ব্যবহার ও অনুমতি ছাড়া ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রেও কড়াকড়ির কথা জানানো হয়েছে। নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ (Sanghamitra Ghosh) ও পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা (Ajay Nanda) উৎসব উপলক্ষে প্রশাসনের নির্দেশিকাগুলি তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা (Anuj Sharma)। তাঁদের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেও যাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নিরাপত্তার উপর বাড়তি চাপ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। বিশেষত শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের কারণে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ মানুষের যে সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা কমাতেই নির্দিষ্ট সময়সীমা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : Kolkata Chhath Puja | ছটপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কলকাতা পুরসভা: ১১১ ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতায় জোর

রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীপুজো ও দীপাবলির দিন রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যেই বাজি পোড়াতে হবে। রাতের অন্য সময়ে বাজি ফাটানোর অনুমতি থাকছে না। ছটপুজোর দিনও নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হবে। সে ক্ষেত্রে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎসবের দিন হলেও ইচ্ছেমতো যে কোনও সময়ে বাজি ফাটানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ালে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষকে সবুজ বাজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে প্রচলিত বাজির কারণে বায়ুতে ক্ষতিকর কণা ও ধোঁয়ার পরিমাণ কমানো যায়। তবে সবুজ বাজি ব্যবহার করলেও নির্ধারিত সময় ও শব্দের সীমা মেনে চলতে হবে। কেবল বাজির ধরন বদলালেই সমস্ত বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পাওয়া যাবে, এমন নয়। উৎসবের সময় পরিবেশের উপর সামগ্রিক প্রভাব কমাতে বাজি ব্যবহারের পদ্ধতি ও স্থান, দু’টি বিষয়েই সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও প্রশাসনের নির্দেশিকায় গুরুত্ব পেয়েছে। সূত্রে দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল এবং অন্যান্য বাজির জন্য ৯০ ডেসিবেলের সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম ও পরিমাপের শর্ত মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত শব্দে শুধু আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় না, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের উপরও তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পোষ্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও হঠাৎ তীব্র শব্দ আতঙ্কের কারণ হতে পারে। তাই বাজি পোড়ানোর সময় শব্দের দিকটি মাথায় রাখার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।

বহুতল আবাসনেও বাজি পোড়ানোর সময় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসনের বারান্দা, ছাদ কিংবা খোলা জায়গায় বাজি ফাটানোর ফলে ধোঁয়া দ্রুত আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন্ধ ঘরে ধোঁয়া ঢুকে গেলে শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষদের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অসতর্ক ভাবে বাজি ব্যবহার করলে আগুন লাগার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই আবাসন কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গা নির্বাচন, দাহ্য সামগ্রী থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং আগুন নেভানোর প্রাথমিক ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও বৃদ্ধাশ্রমের আশপাশে বাজি পোড়ানোর উপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলির ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিকে নীরব অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অনেকেরই বিশ্রাম প্রয়োজন হয়। অস্ত্রোপচারের পরে থাকা রোগী, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা গুরুতর অসুস্থ মানুষের কাছে উচ্চ শব্দ ও ধোঁয়া বাড়তি সমস্যা তৈরি করতে পারে। একই ভাবে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণদের ক্ষেত্রেও তীব্র শব্দ ও বায়ুদূষণ অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এই কারণেই সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে বাজি পোড়ানোর বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন : Sasraya News Utsav Issue 2024 | সাশ্রয় নিউজ উৎসব সংখ্যা ২০২৪

বাজি বিক্রি ও মজুতের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। লোকালয়ের মধ্যে যত্রতত্র বাজির বাজার বসানোর পরিবর্তে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফাঁকা জায়গায় বিক্রির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজির দোকান কিংবা মজুতের জায়গায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজি তৈরির কারখানা ও মজুতকেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে প্রশাসন। নিষিদ্ধ বাজি যাতে বাজারে বিক্রি না হয়, সে জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই কলকাতার বড়বাজার (Burrabazar) এলাকা থেকে ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে, এই উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি ও মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত মিলেছে। উৎসবের আগে বাজারে বাজির চাহিদা বাড়ে। সেই সুযোগে নিয়মবহির্ভূত বাজি বিক্রি কিংবা অনুমতি ছাড়া মজুতের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দোকান, গুদাম এবং বাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত জায়গাগুলিতে নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। নিষিদ্ধ বাজি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ফানুস ওড়ানোর বিষয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফানুস বিক্রির উপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তা ওড়ানোর আগে দমকল ও পুলিশের অনুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। বাতাসে ভেসে যাওয়া জ্বলন্ত ফানুস কোনও বাড়ির ছাদ, গাছ, বৈদ্যুতিক তার কিংবা দাহ্য বস্তুর উপর পড়লে আগুন লাগার আশঙ্কা থাকে। জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে অনুমতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া যায়। বাজি সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ানো, নিষিদ্ধ শব্দবাজি ব্যবহার কিংবা নিয়মবহির্ভূত মজুতের মতো ঘটনা সামনে এলে সাধারণ মানুষ যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রাজ্য প্রশাসনের। তবে হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। নম্বর প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করে অভিযোগ জানাতে পারবেন নাগরিকেরা। উল্লেখ্য যে, কালীপুজো ও ছটপুজো পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এই সময় বাজার, আবাসন ও বিভিন্ন পাড়ায় আলোর সাজ, পুজো ও নানা আয়োজন দেখা যায়। কিন্তু উৎসবের আনন্দ যাতে অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, সেই ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রশাসনের ঘোষিত লক্ষ্য। বিশেষ করে গভীর রাতে বাজির শব্দ, ঘন ধোঁয়া এবং অসতর্ক ব্যবহারের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি বছরই উদ্বেগ তৈরি হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমা, নীরব অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা ও নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে অভিযান সহ এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলি কমানোর চেষ্টা করছে রাজ্য।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Dussehra Speech | ‘দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে’, দশেরার মঞ্চ থেকে বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

নিয়ম ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তাই কালীপুজো, দীপাবলি ও ছটপুজোর প্রস্তুতির সময় বাজি কেনা থেকে শুরু করে তা পোড়ানো পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নিয়ম মেনে চলা জরুরি। উৎসবের দিনে নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি না ফাটানো, হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমের কাছাকাছি বাজি ব্যবহার না করা, নিষিদ্ধ শব্দবাজি এড়িয়ে চলা ও ফানুস ওড়ানোর আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের নির্দেশিকা কার্যকর করতে পুলিশ ও দমকলের নজরদারি কতটা জোরদার হয়, এখন সে দিকেই নজর থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal UCC latest news, Suvendu Adhikari latest announcement | মাদ্রাসা থেকে ইউসিসি, গোশালা : তিন সিদ্ধান্তে নতুন দিশার ইঙ্গিত শুভেন্দু সরকারের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন