শুভ্রাংশু রায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Joy Banerjee) আর নেই। সোমবার সকালে কলকাতার (Kolkata) একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্ট-জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এই অভিনেতা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু শেষপর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
১৯৬৩ সালের ২৩ মে জন্ম হয় জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ছোট থেকেই সিনেমার প্রতি টান তাঁকে টেনে আনে অভিনয়ের জগতে। তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ‘অপরূপা’ (Aparupa) ছবি দিয়ে, যেখানে দেবশ্রী রায় (Debashree Roy)-এর সঙ্গে তিনি জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন। প্রথম ছবি থেকেই নজর কাড়েন সুপুরুষ এই অভিনেতা। তবে সত্যিকারের প্রশংসা ও ইন্ডাস্ট্রির স্বীকৃতি আসে পরিচালক নবেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের (Nabendu Chatterjee) ‘চপার’ (Chopper) ছবির মাধ্যমে। সেই অভিনয় তাঁকে শিল্পী হিসেবে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল।
অভিনেতার সিনেমা জগতের কেরিয়ারের বাঁকবদল ঘটে ৯০-এর দশকে। পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর (Anjan Chowdhury) সুপারহিট ছবি ‘হীরক জয়ন্তী’ (Hirak Jayanti) বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য এনে দেয় তাঁকে। এই ছবির মাধ্যমে চুমকি চৌধুরী (Chumki Chowdhury)-র সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাঁদের জুটিকে ঘিরে টলিউডে নানা গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। ‘নাগমোতি’ (Nagmotir), ‘মিলন তিথি’ (Milon Tithi), ‘আমরা’ (Amra)-র মতো ছবিতেও অভিনয় করেছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি সিনেমা থেকে অনেকটাই দূরে সরে আসেন। এবং রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিজেপি (BJP)-র রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবে একসময় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন জয়। ২০১৪ সালে বীরভূম (Birbhum) লোকসভা কেন্দ্র ও ২০১৯ সালে উলুবেড়িয়া (Uluberia) লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন। যদিও প্রতিবারই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় তাঁকে।
শেষপর্যন্ত ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, আর বিজেপির (Bharatiya Janata Party) প্রতিনিধিত্ব করবেন না। এরপর থেকে রাজনীতি থেকেও ধীরে ধীরে তিনি দূরে সরে যান। অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তাঁর সম্পর্ক। তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় (Ananya Banerjee)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।
অভিনেতার প্রয়াণে টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চলচ্চিত্র জগতের একাংশ মনে করছে, বাংলা সিনেমার এক বিশেষ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। বহু সহকর্মী, পরিচালক ও রাজনৈতিক সহকর্মী ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন। একজন সহকর্মী অভিনেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “জয়দা ছিলেন খুবই বন্ধুবৎসল মানুষ। পর্দায় যেমন সুপুরুষ নায়ক ছিলেন, বাস্তব জীবনেও তিনি সকলকে সহজেই আপন করে নিতে পারতেন।” অন্যদিকে, বিজেপির এক প্রাক্তন সহকর্মীর কথায়, “জয় বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু অভিনেতা নন, তিনি একজন লড়াকু মানুষ ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছেন।”
টলিউডের তরুণ প্রজন্মের অভিনেতারাও তাঁকে স্মরণ করছেন তাঁদের প্রেরণার জায়গা হিসেবে। অভিনেতা হিসেবে তাঁর সাফল্য, ব্যর্থতা, ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক যাত্রা সব মিলিয়ে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন যেন ছিল বহুমাত্রিক। জীবনের মঞ্চ থেকে চিরবিদায় নিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্র, সিনেমার সংলাপ আর স্মৃতিগুলো বাঙালি দর্শকের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Akshay Kumar, Twinkle Khanna : Bollywood marriage news | টুইঙ্কলকে বিয়ের আগে অক্ষয়ের ওপর কড়া শর্ত চাপিয়েছিলেন ডিম্পল কাপাডিয়া! জানলে অবাক সবাই হবেন




