পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দুবাই: পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর থেকেই নানা মহল থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছিল। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন তারকা হরভজন সিংহ (Harbhajan Singh) প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে শুধু বাণিজ্য নয়, কোনও রকম ক্রিকেটীয় সম্পর্কও রাখা উচিত নয়। কিন্তু মাঠে নামল ভারত। আর সেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একেবারে ‘মিসম্যাচ’ হয়ে গেল এশিয়া কাপের (Asia Cup) এই লড়াই। দুবাইয়ে (Dubai) রবিবার ভারত সাত উইকেটে জিতে শুধু জয়ই পায়নি, পাকিস্তানকে একেবারে দুরমুশ করে দিল। ম্যাচ সামারি দেখলে, পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতায় তারা থামল ১২৭/৯-এ। সেই রান ভারতীয় ব্যাটাররা তুলে নিল ২৫ বল হাতে রেখেই। ম্যাচ শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীরা বলতে শুরু করলেন, ‘এটাই আসল বদলা।’
হরভজন সিংহ ম্যাচ শুরুর আগেই বলেছিলেন, ‘পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর ক্রিকেটের মতো সম্পর্ক চলা উচিত নয়। ভারতীয় দল লেজেন্ডস লিগে যেমন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামতে অস্বীকার করেছিল, তেমনই এবারও করা যেত।’ যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচ খেলল ও তার ফলাফলে দেশবাসীর খুশির সীমা রইল না।টসে জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা (Salman Agha) ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। তখনই ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) সঞ্চালকের সামনে স্পষ্ট করে দেন, ‘আমরা তো বোলিংই চাইছিলাম। টসে জিতলেও সেটাই নিতাম।’ তাঁর সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ ফুটে ওঠে গোটা ম্যাচে। শুরু থেকেই ভারতীয় বোলাররা পরিকল্পনা মতো আক্রমণ শুরু করে। প্রথম চার ওভারে পেস, মাঝের দিকে স্পিন, এই ছকে পাকিস্তানের ব্যাটাররা একেবারে দিশেহারা। সাইম আয়ুব (Saim Ayub) থেকে মহম্মদ হ্যারিস (Mohammad Haris), সলমন আঘা থেকে হাসান নওয়াজ (Hasan Nawaz), প্রায় সকলেই ভুল শট খেলে সাজঘরে ফেরেন। ধারাভাষ্যকারেরা মন্তব্য করলেন, ‘পাকিস্তান যেন পরীক্ষার হলে গিয়ে পড়াশোনা ভুলে যাওয়া ছাত্র।’
একাই ব্যাটিং টেনে নেন সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan)। কিন্তু তাঁর অতিরিক্ত রক্ষণশীল ব্যাটিং পাকিস্তানের রান রেট আরও ধীর করে দেয়। শেষদিকে শাহিন আফ্রিদি (Shaheen Afridi) কিছুটা লড়াই করেন চারটি ছক্কা মেরে। হার্দিক পাণ্ড্যকে (Hardik Pandya) মারা তাঁর একটি বিশাল ছয় প্রায় আপার টিয়ারে গিয়ে পড়ে। কিন্তু পাকিস্তানের ইনিংস বাঁচানোর জন্য সেটি যথেষ্ট হয়নি। ভারতের ব্যাটিং শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে। অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শাহিন আফ্রিদিকে প্রথম ওভারেই চাপে ফেলে দেন। দুই বলেই ১০ রান তুলে তিনি পাকিস্তানের সেরা বোলারকে মানসিকভাবে ভেঙে দেন। এরপর শাহিনকে আর দু’ওভারের বেশি বল করার সুযোগই দেওয়া হয়নি। যদিও ভারতীয় ওপেনাররা দ্রুত ফিরে যান, কিন্তু তিলক বর্মা (Tilak Varma) ও সূর্যকুমার যাদবের জুটি পাকিস্তানকে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেয়নি। প্রয়োজনীয় রান জয়ের জন্য যখন মাত্র ৩৫ বাকি, তখন ধারাভাষ্যকাররা বলেন, ‘ভারতই দেখাচ্ছে কীভাবে এই পিচে ব্যাট করতে হয়।’ সূর্যকুমার শেষে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন, যেন কেকের উপর চেরি বসিয়ে দিলেন ভারতের অধিনায়ক।
ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা ও বোলিংয়ে কৌশলগত ভুলই তাদের হারের কারণ। শাহিনের মতো বিশ্বমানের পেসারকে দিয়ে মাত্র দু’ওভার বল করানোয় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কোচ মাইক হেসন (Mike Hesson) আগে জানিয়েছিলেন, নওয়াজ (Mohammad Nawaz) বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার। কিন্তু তাঁরই ফেলে দেওয়া লোপ্পা ক্যাচ পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। ভারতের কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) ও বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা যেন জালে আটকে গিয়েছিল। সাইম আয়ুব অবশ্য বল হাতে চমক দেখিয়েছিলেন, শুভমন গিল (Shubman Gill) ও তিলক বর্মাকে আউট করেছিলেন। ধারাভাষ্যকারদের মন্তব্য, ‘পাকিস্তান প্রতিভা চিনতে ভুল করেছে। আয়ুবকে ব্যাট হাতে নয়, নিয়মিত বোলিংয়েই সুযোগ দেওয়া উচিত।’ হরভজন সিংহ ম্যাচের পর আবারও বলেন, ‘ভারতীয় দলের জয়ের জন্য আমি গর্বিত। কিন্তু আমার মত বদলায়নি। পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্কই বন্ধ হওয়া উচিত। ক্রিকেট হোক বা বাণিজ্য, পহেলগাঁওয়ের মতো ঘটনার পর এটাই একমাত্র সঠিক পথ।’ বস্তুত, ভারতের জয়ের উচ্ছ্বাসে সমর্থকেরা খুশি হলেও, হরভজনের দাবি আরও একবার স্পষ্ট করল, মাঠের লড়াই যতই একপেশে হোক না কেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটা কেবল ক্রিকেটের নয়, জাতীয় আবেগেরও।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubman Gill cricket journey | শুভমন গিলের ক্রিকেটযাত্রা: রাত তিনটেয় অনুশীলন থেকে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব




