পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : মুম্বইয়ে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI) -এর সদর দফতরে অবশেষে ঘোষণা করা হল এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় দলের স্কোয়াড। ১৫ জনের দলে জায়গা পেলেও নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) যৌথভাবে দল ঘোষণা করেন। সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন শুভমান গিল (Shubman Gill)।

তাঁকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যদিও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। গিল সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই। তারপর থেকে তিনি মূলত টেস্ট ফরম্যাটেই সক্রিয় ছিলেন। তবু এবার এশিয়া কাপে সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। নির্বাচক আগরকর অবশ্য সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, “গিলকে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সহ-অধিনায়ক হিসেবেই ভেবেছি। এর মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি বা বিতর্ক নেই।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। গিলের সমসাময়িক ফর্মে ছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal)। শেষবার গিলের সঙ্গেই তিনি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সত্ত্বেও তাঁকে রাখা হল কেবল স্ট্যান্ড বাই তালিকায়। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গিলকে সহ নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে যশস্বীর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আরও বিতর্ক তৈরি করেছে শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) -এর বাদ পড়া। আইপিএল, ওয়ানডে কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট, সব জায়গাতেই রানের ঝড় তুলেছেন শ্রেয়স। তবু এবার সুযোগ পাননি। এই প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক আগরকর বলেছেন, “শ্রেয়সের বাদ পড়ার পিছনে কোনও খারাপ ফর্ম দায়ী নয়। কিন্তু আমাদের মাত্র ১৫ জন খেলোয়াড়কেই বেছে নিতে হয়েছে।” তাঁর এই যুক্তি বিশেষজ্ঞদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। অনেকেই মনে করছেন, এমন ধারাবাহিক পারফর্মারকে বাদ দেওয়া দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচকদের বিশেষ ভরসা অর্জন করেছেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। আগরকর বললেন, “অভিষেক কেবল ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেটা অধিনায়ককে অনেকটা সুবিধা দেবে।” এর মানে, অভিষেককে এবার দলে দেখা যেতেই পারে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ওপেনিংয়ে খেলবেন কে? সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) সাম্প্রতিক ফর্মে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। সেখানে গিলের জায়গা কোথায় হবে? ক্রিকেট মহলের মতে, সম্ভবত তিলক বর্মাকে (Tilak Varma) বসিয়ে তিন নম্বর পজিশনে নামানো হতে পারে গিলকে। এরপর ব্যাটিং লাইন আপে থাকবেন সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya), অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel)। হার্দিক ও অক্ষর বোলিংয়েরও বাড়তি দায়িত্ব সামলাবেন। ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব পড়ছে রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) ও শিবম দুবের (Shivam Dube) কাঁধে। তবে রিঙ্কু সম্প্রতি ছন্দহীন। ফলে শেষ মুহূর্তে কাকে রাখা হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেস বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন জশপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর তিনি আবার ফিরছেন দলে। তাঁকে সাপোর্ট দেবেন অর্শদীপ সিং (Arshdeep Singh)। পাশাপাশি নজর থাকবে হর্ষিত রানার (Harshit Rana) ওপর। যদিও তিনি প্রথম একাদশে সুযোগ পাবেন কি না, সেটা নির্ভর করবে দলের কম্বিনেশনের উপর। স্পিন বিভাগে থাকছেন বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy)। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাঁর পারফরম্যান্স নজর কাড়ার মতো ছিল। তবে কুলদীপ যাদব-এর (Kuldeep Yadav) জায়গা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেকেই মনে করছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ পর্যন্ত কুলদীপকেই দলে রাখবে, কারণ তিনি বড় টুর্নামেন্টে বারবার ম্যাচ উইনার হয়ে উঠেছেন।

সবমিলিয়ে ভারতীয় দলের এই নির্বাচন নিয়ে একদিকে যেমন ভরসা রাখছেন নির্বাচকরা, অন্যদিকে ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে উঠছে প্রশ্ন। গিলকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত কি দলের ভারসাম্য নষ্ট করবে? যশস্বী ও শ্রেয়সের মতো ধারাবাহিক পারফর্মারদের বাদ দেওয়ার ফল কি এশিয়া কাপে ভুগতে হবে? উত্তর মিলবে আগামী মাসে মাঠের লড়াই শুরু হলে।
সব ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubman Gill captaincy skills, Gary Kirsten advice for Gill | শুভমনকে ধোনির মতো হতে হবে? কী বলছেন গ্যারি কার্স্টেন




