সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : হাওড়া জুড়ে আলোড়ন তোলা ‘পর্ন ভিডিও চক্র’ (Howrah porn racket) ও সোদপুরের তরুণী নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্ত শ্বেতা খান (Sweta Khan) ধরা পড়লেন পুলিশের জালে। বুধবার রাতে কলকাতার (Kolkata) আলিপুর (Alipore) এলাকার ভবানী ভবনের কাছে একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে হাওড়া সিটি পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। এর আগে দুপুরে গল্ফ গ্রিন (Golf Green) এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁর ছেলে আরিয়ান খান (Aryan Khan)-কে।
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শ্বেতা দীর্ঘ দিন ধরেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে একাধিক জায়গা বদলে আত্মগোপন করেছিলেন। নিজের মোবাইল ব্যবহারের পরিবর্তে অন্যের মোবাইল থেকে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছিলেন। সেই সূত্র ধরেই পুলিশের প্রযুক্তি বিভাগ তাঁর গতিবিধির হদিস পেয়ে যায়। ধরা পড়েন আলিপুরে।
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই শ্বেতার তেরো বছর বয়সি নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধার করেছে কলকাতার একটি পরিচিতের বাড়ি থেকে। শ্বেতা তাঁকে নিরাপদ রাখতেই সেখানে রেখেছিলেন বলে অনুমান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে শ্বেতার মাকেও। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, শ্বেতা ও তাঁর ছেলে আরিয়ান যৌথভাবে একটি প্রোডাকশন হাউস খুলে পর্ন ভিডিও নির্মাণ ও প্রচারের ব্যবসা করতেন। ওই হাউস থেকেই একাধিক ভিডিও শ্যুট করে আপলোড করা হত বলে অভিযোগ। সূত্রের দাবি, আরিয়ানই সোদপুরের (Sodepur) এক তরুণীকে চাকরির টোপ দিয়ে হাওড়ার বাঁকড়া (Bankra) এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ডেকে এনে দিনের পর দিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছিল। ওই তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে আনা হলেও, পরে পানশালায় কাজ করাতে বাধ্য করা হয়। এরপর চাপ দেওয়া হয় পর্ন ভিডিওতে অভিনয়ের জন্য। তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার চালানো হয় বলে অভিযোগ। গত শুক্রবার সেই তরুণী কোনওভাবে পালিয়ে পুলিশের কাছে পৌঁছলে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল আরিয়ান ও তাঁর মা শ্বেতা। অবশেষে পাঁচ দিনের অভিযানের পরে পুলিশের জালে ধরা পড়েন দু’জনেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
এদিকে, নির্যাতিতা তরুণী বর্তমানে সাগর দত্ত (Sagar Dutta) মেডিক্যাল কলেজের আইসিসিইউ-তে ভর্তি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন (National Commission for Women)। রাজ্যের ডিজিপি (DGP) রাজীব কুমারকে (Rajeev Kumar) চিঠি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে তদন্তে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, আরিয়ানের আইনজীবী পাল্টা দাবি করেছেন, ওই তরুণী বিবাহিতা। তাঁর স্বামীর সঙ্গে সমস্যা চলছিল ও তিনি নিজেই আরিয়ানকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এমনকী তাঁরা একসঙ্গে শিমলা (Shimla), মানালি (Manali) এবং দিল্লি (Delhi) ভ্রমণেও গিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, তরুণীর মুখে যে আঘাতের দাগ দেখা গিয়েছে, তা স্বামীর সঙ্গে বিবাদে হয়েছে বলেই ধারণা।তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবি খারিজ করে বলা হয়েছে, সমস্ত তথ্য এবং ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে। ইতিমধ্যে আদালতের অনুমতি নিয়ে শ্বেতাদের বাঁকড়ার ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। ওই ফ্ল্যাটের গ্যারাজেও তালা ঝুলিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও চক্র ও নির্যাতনের ছক চলত। এদিকে, পর্নযোগ অস্বীকার করে আরিয়ান জানিয়েছেন, “আমি কোনও পর্ন তৈরি করিনি। ইউটিউব চ্যানেলের জন্য সাধারণ ভিডিও বানাতাম। ভবিষ্যতে ভাল কনটেন্ট তৈরি করে আয়ের পরিকল্পনা ছিল।” তবে পুলিশ জানিয়েছে, এসব বক্তব্য এখনই বিশ্বাসযোগ্য নয়। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে না আসা পর্যন্ত তদন্ত চলবে।
এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মা-ছেলেকে দ্রুত আদালতে তোলা হবে এবং প্রয়োজনে হেফাজতের আবেদন জানাবে পুলিশ। সমাজের এক অন্ধকার দিক ফের উন্মোচিত হল এই ঘটনার মাধ্যমে, যেখানে চাকরির লোভ দেখিয়ে তরুণীদের ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়!
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sutapa Chowdhury Murder case : সুতপার খুনি প্রেমিকের ফাঁসি রদ, হাই কোর্টের রায়ে ৪০ বছরের কারাবাস




