সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা আবারও শিহরিত। সোমবার সকাল সকাল হরিদেবপুর (Haridevpur) এলাকায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলার উপর চলে গুলি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ আচমকা এক বাইক এসে থামে কালীপদ মুখার্জী রোডে। বাইকে দু’জন যুবক ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই পিছন দিক থেকে এক যুবক পিস্তল বের করে গুলি চালায়। গুলিটি সোজা গিয়ে লাগে ৩৮ বছর বয়সি মৌসুমি হালদারের (Mousumi Haldar) পিঠে। ছটফট করতে করতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। আতঙ্কে চারপাশের মানুষজন চিৎকার করে ওঠেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে এম.আর. বাঙুর (M R Bangur) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে জানালে তাঁকে তৎক্ষণাৎ এসএসকেএম (SSKM Hospital)-এ স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌসুমি হালদার স্থানীয় বাসিন্দা এবং কয়েক বছর ধরে হরিদেবপুরের ওই এলাকাতেই থাকেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গুলি চালানো যুবকের সঙ্গে মৌসুমির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্ত, বাবলু ঘোষ (BablU Ghosh) নামে ত্রিশ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, মৌসুমির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল, কিন্তু কিছুদিন আগে থেকেই সেই সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল। পুলিশ মনে করছে, ওই সম্পর্ক ভাঙনের প্রতিশোধ নিতেই এই গুলি চালানোর ঘটনা।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা অন্য দিকও খতিয়ে দেখছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছাড়াও কোনও আর্থিক বা পারিবারিক বিবাদ এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কি না, তাও দেখা হচ্ছে। হরিদেবপুর থানার এক আধিকারিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে সম্পর্কজনিত টানাপোড়েনই সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ বলে মনে হচ্ছে। তবে আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।” ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বললেন, “সকাল সকাল হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। হঠাৎ গুলির আওয়াজ শুনে চমকে যাই। দেখি এক মহিলা রাস্তায় পড়ে আছেন। তখনই লোকজন ছুটে যান সাহায্য করতে।”
এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে শহর কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। মাত্র কয়েক দিন আগে, ২৭ অক্টোবর, যাদবপুরের (Jadavpur) বিজয়গড়ে (Bijoygarh) এক তরুণীর দিকে গুলি চালানো হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, সেই ঘটনায় জড়িত ছিলেন তরুণীর প্রাক্তন প্রেমিক। যদিও সেবার গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, এবং বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছিল। এবার হরিদেবপুরে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আরও একবার শহরবাসীকে নাড়া দিল। উল্লেখ্য, মৌসুমির পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তিনি নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হন। সোমবারও প্রতিদিনের মতো বেরিয়েছিলেন। কিন্তু কে ভেবেছিল, এমন ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে! তাঁর স্বামী জানিয়েছেন, “আমরা কোনও শত্রুতা জানি না। তবে কিছুদিন ধরে এক যুবক মৌসুমির পিছু নিচ্ছিল বলে ও জানিয়েছিল।” পুলিশ সেই সূত্রও খতিয়ে দেখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সম্পর্কজনিত অপরাধের সংখ্যা শহরে ক্রমবর্ধমান। মনোবিজ্ঞানী ডঃ অনিন্দিতা দত্ত বলছেন, “সম্পর্কের ভাঙন অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। একপাক্ষিক ভালোবাসা বা অধিকারবোধ চরমে উঠলে তা হিংসায় রূপ নিতে পারে। তাই সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।” এদিকে, শহর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাইকে করে আসা দুই যুবক হেলমেট পরিহিত ছিল। তাই মুখ দেখা যায়নি। তবে গুলি চালানো যুবকের পরিচয় নিয়ে ইতিমধ্যেই তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের।
কলকাতার ক্রমবর্ধমান এই গুলি চালানোর ঘটনাগুলি নিয়ে চিন্তিত শহরবাসী। নাগরিক নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিকৃত রূপ, দুই-ই যেন শহরকে আঘাত করছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী দিনে এই ধরণের অপরাধ রুখতে বিশেষ টহল এবং নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরিদেবপুরের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, সম্পর্কের তিক্ততা কি শহরের রাস্তায় রক্ত ঝরানোর নতুন কারণ হয়ে উঠছে? মৌসুমি হালদার এখনো এসএসকেএম হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিটি শরীরের ভেতরেই আটকে আছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি বের করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টিম। অপরাধীর শাস্তি এবং শহরজুড়ে নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠছে সর্বস্তরে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana wedding | বিশ্বজয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন ইনিংস! বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন স্মৃতি মান্ধানা, প্রেমিক পলাশ মুছলের সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন ‘উইমেন ইন ব্লু’ তারকা


