Governor C V Ananda Bose, West Bengal voter | ‘বাংলার দত্তকপুত্র হতে চাই’ : রাজ্যে ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ গভীর করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C. V. Ananda Bose)। এতদিন কেরলের বাসিন্দা হিসেবে নিজের ভোটাধিকার ব্যবহার করলেও, এবার সেই অধিকার স্থানান্তর করতে চাইছেন তিনি। রাজ্যেই ভোট দিতে চান, এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে রাজ্যপাল ঘোষণা করেছেন, “আমি বাংলার দত্তকপুত্র হতে চাই।” বৃহস্পতিবার তাঁর হাতে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম-৮ তুলে দেন বুথ স্তরের আধিকারিক (BLO) এবং BLO সুপারভাইজার। এখন কাগজপত্র জমা দিলেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

কেরলের কোট্টায়াম জেলার বাসিন্দা হলেও রাজ্যপাল বোসের সঙ্গে বাংলার সংযোগ কোনও নতুন বিষয় নয়। ২০২২ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজভবনের নানা অনুষ্ঠানে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর যুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৩ সালের সরস্বতী পুজোয় রাজভবনে বাংলায় হাতেখড়ি নেওয়াও তাঁর সেই যাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রাজ্যপাল পদাধিকারবলে যে কোনও রাজ্যের প্রথম নাগরিক হিসেবে তিনি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভোটার হওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোটার হওয়ার বিষয়ে কোনও আগ্রহ দেখাননি। এসআইআর (SIR) পর্বেও কমিশন রাজভবনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে তখন জানানো হয়েছিল, তিনি কেরলেই ভোটার হিসেবে থাকতে চান। ফলে তাঁর নামে কোনও এনুমারেশন ফর্মও জারি হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার, এসআইআর-এর এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন, রাজ্যপাল মত বদল করে সেদিনই গ্রহণ করলেন ফর্ম-৮। জানালেন, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব গ্রহণই তাঁর ইচ্ছা। রাজভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আজ এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। আমিও আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব। মানসিকভাবে আমি পশ্চিমবঙ্গের জীবনযাত্রার সঙ্গে একাত্ম। অনেকদিন ধরে এখানে আছি। বাংলার মাটির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে আমার আবেগের বন্ধন তৈরি হয়েছে। বাংলার দত্তকপুত্র হতে চাই বলেই এখানে ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এরপর আবেগঘন কণ্ঠে বাংলার অতীত ও ঐতিহ্যের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Subhas Chandra Bose) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যে বাতাসে রবীন্দ্রনাথ শ্বাস নিয়েছেন, আমি তাতে শ্বাস নিতে চাই। নেতাজি যে পথে হেঁটেছেন, আমি সেই পথেই হাঁটতে চাই। বাংলায় ভোটার হওয়াটা আমার কাছে শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি আত্মিক মিলনের উপলক্ষ।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ভোটার হওয়ার আবেদন জমা দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, ভোটগ্রহণের দশ দিন আগে পর্যন্ত। তবে রাজ্যপাল বা গভর্নর পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়। তাঁরা চাইলে যে কোনও সময় সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভোটার হতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar) রাজ্যের ভোটার হয়েছিলেন এবং ভোটও দিয়েছিলেন। যদিও বোস এতদিন এতে আগ্রহ দেখাননি, তাঁদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছিল।

দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই রাজ্যপালের আচরণে বাংলার প্রতি এক ধরনের আবেগী সংযোগ লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলা সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর আগ্রহ একাধিকবার প্রকাশ পেয়েছে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে তিনি নিজের “নায়ক” বলে বর্ণনা করেন। বৃহস্পতিবার, এনুমারেশন প্রক্রিয়ার শেষ দিনে ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি সেই আবেগকেই বাস্তব রূপ দিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; এটি বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রয়াস। একই সঙ্গে, রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সঙ্গে আত্মিক সেতুবন্ধন আরও শক্তিশালী করার বার্তাও বটে। এখন রাজ্যপালের কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং পরবর্তী যাচাই শেষ হলেই তাঁর নাম যুক্ত হবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায়। তখন তিনি শুধু প্রশাসনিকভাবে নয়, সাংবিধানিকভাবে এ রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হয়ে উঠবেন।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi and PM Benjamin Netanyahu discuss strategic partnership | ভারত-ইসরায়েল কূটনীতিতে নতুন গতি: নরেন্দ্র মোদী–নেতানিয়াহুর আলোচনায় জোর সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও শান্তিপ্রক্রিয়ায় সমর্থন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন