France born players World Cup, Mbappe team influence | বিশ্বকাপে ফরাসিরা! এমবাপের দেশের ছাপ ৯৯ ফুটবলারে, ১৩ দলে ছড়িয়ে পড়া প্রভাব ঘিরে নতুন আলোচনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : চলতি বিশ্বকাপে (World Cup) এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান ফুটবলমহলের নজর কেড়েছে। এক বা দুই দল নয়, গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ফ্রান্সে (France) জন্মানো ফুটবলারদের প্রভাব। সংখ্যাটা শুনলে অবাক হতে হয়, এই বিশ্বকাপে মোট ৯৯ জন ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে। শুধু ফরাসি দল নয়, বিভিন্ন দেশের জার্সিতেও মাঠে নামছেন তাঁরা। ফলে ফ্রান্সের জয় মানেই শুধু প্যারিসে উল্লাস নয়, উদ্‌যাপন ছড়িয়ে পড়ছে আফ্রিকা থেকে ক্যারিবিয়ান পর্যন্ত বহু দেশে। সম্প্রতি প্যারাগুয়েকে (Paraguay) হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। এই সাফল্যে আনন্দে মেতেছে শুধু ফরাসিরা নয়, আলজেরিয়া (Algeria), সেনেগাল (Senegal), কঙ্গো (Congo), আইভরি কোস্ট (Ivory Coast), হাইতি (Haiti) এমনকী মরক্কোর (Morocco) একাংশ সমর্থকরাও। কারণ, এই সব দেশের জাতীয় দলেও রয়েছেন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলাররা। ফলে একাধিক দেশের সমর্থকের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘ফরাসি সংযোগ’।

আরও পড়ুন : Harry Kane record 2026, England World Cup Kane goals | এমবাপের রেকর্ড ভেঙে মেসি-রোনাল্ডোর পাশে কেন, বিশ্বকাপে ঝড় তুলছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক

প্যারিসের (Paris) উপকণ্ঠ লা শাপেল (La Chapelle) -এর দৃশ্য এই বাস্তবকে আরও স্পষ্ট করে। বিশ্বকাপ চলাকালীন সেখানে একসঙ্গে দু’টি বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানো হচ্ছে। একদিকে ফ্রান্সের খেলা, অন্যদিকে সেনেগালের ম্যাচ, দর্শকেরা সমান আগ্রহে দেখছেন দু’টিই। কারণ, সেনেগালের দলে থাকা বহু ফুটবলারের জন্মও ফ্রান্সে। ফলে গোল হলেই উল্লাসে ফেটে পড়ছে পুরো এলাকা, তা সে দেম্বেলের (Ousmane Dembele) হোক বা পাপা গেয়ির (Pape Gueye)। এই চিত্রের পিছনে রয়েছে ফ্রান্সের অভিবাসন কাঠামো। এখানে দ্বৈত নাগরিকত্ব খুবই সাধারণ বিষয়। ফলে বহু ফুটবলার ফ্রান্সে জন্ম নিয়েও তাঁদের পারিবারিক শিকড়ের দেশকে বেছে নেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য। যেমন, সেনেগালের হয়ে খেলা পাপা গেয়ির জন্ম প্যারিসের কাছেই, আবার ইলিমান এনডিয়ায়ে (Iliman Ndiaye) জন্মেছেন নরমান্ডিতে (Normandy)। এমন উদাহরণ অজস্র।

অন্যদিকে, ফ্রান্স জাতীয় দলের তারকারাও বহু ক্ষেত্রে অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। উসমান দেম্বেলে (Ousmane Dembele), অঁরেলিয়েঁ চুয়ামেনি (Aurelien Tchouameni), ডায়ট উপামেকানো (Dayot Upamecano), মাইক মাইগনানদের (Mike Maignan) পারিবারিক সূত্র আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত। তবুও তাঁরা ফ্রান্সের জার্সিতে খেলছেন এবং দলকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, এই বিশ্বকাপে ১৩টি দেশের হয়ে খেলছেন ফ্রান্সে জন্মানো ৯৯ ফুটবলার। এর মধ্যে ফ্রান্স দলেই রয়েছেন ২৩ জন। আলজেরিয়ার দলে ১৩ জন, হাইতিতে ১২, কঙ্গোয় ১১, সেনেগালে ১০, আইভরি কোস্টে ৮, টিউনিশিয়ায় ৭, মরক্কোয় ৬ জন। এছাড়া কাবো ভার্দে (Cape Verde) ও ঘানায় (Ghana) ৩ জন করে এবং মিশর (Egypt), কাতার (Qatar), স্পেনে (Spain) রয়েছেন ১ জন করে ফুটবলার, যাঁদের জন্ম ফ্রান্সে।

এই প্রবণতার শিকড় ইতিহাসে। আফ্রিকার বহু দেশ এক সময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল। ফলে ভাষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রয়েছে। স্বাধীনতার পরেও বহু মানুষ ফ্রান্সে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মই আজকের এই ফুটবলাররা, যারা দুই সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠেছে। ফ্রান্সে ফুটবল প্রতিভা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে প্যারিস ও তার আশপাশের অঞ্চল। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ এই এলাকায় বসবাস করে। এখানকার ক্লাব ও অ্যাকাডেমিগুলিতে অল্প বয়স থেকেই ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু হয়। অনূর্ধ্ব-৬ থেকে অনূর্ধ্ব-১২ স্তরে হাজার হাজার শিশু খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফ্রান্স ফুটবল সংস্থার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হুবার্ট ফৌরনিয়ের (Hubert Fournier) এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এত ছোট একটি এলাকা থেকে এত সংখ্যক ফুটবলার উঠে আসা বিরল ঘটনা। গত এক দশকে প্যারিসে বহু ক্লাব গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিভা চিহ্নিত করে তাদের তুলে আনা হচ্ছে।’ তাঁর মতে, এই কাঠামোগত উন্নয়নই ফ্রান্সকে বিশ্ব ফুটবলে এগিয়ে রেখেছে।

এক সময় ব্রাজ়িল (Brazil), আর্জেন্টিনা (Argentina) বা স্পেন (Spain)-এর নির্দিষ্ট শহরগুলিকে ফুটবলার তৈরির কেন্দ্র বলা হত। বর্তমানে সেই তালিকায় প্যারিসও জায়গা করে নিয়েছে। এখানকার বহু ফুটবলার ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে কেউ ফ্রান্সকে বেছে নিচ্ছেন, কেউ আবার নিজেদের পারিবারিক শিকড়ের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই কারণেই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রভাব শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের বাইরে দর্শকসমাজেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। একই ম্যাচে দুই দলের জন্য উল্লাস, এই দৃশ্য ফুটবলের বৈশ্বিক চরিত্রকেই তুলে ধরে। ফ্রান্সের এই বিস্তৃত উপস্থিতি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এমবাপেদের (Kylian Mbappe) নেতৃত্বে ফরাসি দল এগোচ্ছে, আর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের জার্সিতে মাঠে নামা ফ্রান্সে জন্মানো ফুটবলাররাও নিজেদের ছাপ রেখে চলেছেন। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে তাই এখন নতুন সমীকরণ, যেখানে ফ্রান্স বহু দলের ভিতরে ছড়িয়ে রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mbappe World Cup record, Mbappe vs Messi goals | এমবাপের জোড়া গোলে রোনাল্ডোকে টপকালেন, মেসির রেকর্ডের সামনে ফ্রান্স তারকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন