ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন না ইরানের ফুটবলাররা
সাশ্রয় নিউজ ★ কাতার : ইরান সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের আঁচ পড়ল এবার কাতারে। এবার ইরানী ফুটবলাররা সারা দুনিয়ায় সামনে তাঁদের প্রতিবাদ ছড়িয়ে দিলেন ফূটবল মাঠ থেকে। কাতারে ইরানের ফুটবলাররা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে খেলার মাঠে জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন না। ইরানের অধিনায়ক আলিরেজা জাহানবকশ আগেই জানিয়েছিলেন, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে কী না তা দলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ যে, দলের বেশির ভাগ ফুটবলারই জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। মাঠে নেমে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় চুপ করে থাকলেন। এমনকী, বেশিরভাগ ইরানী দর্শক চুপ করে থাকেন।

ইতিমধ্যে ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। মাহশা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর যে প্রতিবাদ আন্দোলন ইরানের নারীরা শুরু করেন। সেই আন্দোলনে কেবল নারীই না পুরুষরাও সমানভাবে অংশ নিয়েছেন।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগে ইরানের একজন জনপ্রিয় শেফ মেহরশাদ শাহিদি’কে দেশের রেভলিউশনারি গার্ড ফোর্স পুলিশি হেফাজতে অমানবিক অত্যাচার করে খুন করেছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। ডাঃ নিনা আনসারি সোশাল মিডিয়ায় তাঁর স্বতন্ত্র মন্তব্য প্রকাশ করেন, ‘মেহরশাদ শাহিদি ‘বুট রেস্তরাঁ’-র জনপ্রিয় শেফ ছিলেন। ইরানে তাঁকে মর্মান্তিকভাবে খুন করা হয়েছে। ঠিক পরের দিন তাঁর ২০ তম জন্মদিন ছিল। আমরা কখনও ভুলব না। কখনও ক্ষমা করব না।’
মেহরশাদ-এর এই মৃত্যু হিজাব বিরোধী আন্দোলনে অন্যমাত্রা যোগ করেছে। তাঁর পরিবার সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁদের জোর করছে, মেহরশাদ শাহিদি-এর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলতে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই আন্দোলনে প্রাণ গিয়েছে মেহরশাদ-এর। তিনি ইরানে ‘জেমি অলিভার’ নামে খ্যাত ছিলেন।

এছাড়াও ইরানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারানেহ আলিদুস্তি সরকার বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানান, ইন্সটাগ্রাম-এ হিজাব ছাড়া এলোমেলো চুলের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ মাহশা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে যে মানুষ যে শেকল ভাঙার আন্দোলন শুরু করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অযুত মানুষ সমর্থন জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ। আজ কাতারে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে জাতীয় সঙ্গীত না গেয়ে বলা ভালো প্রত্যাখ্যান করে সারা বিশ্বের সামনে দেশের সরকার ও আইন ব্যবস্থার প্রতি তীব্র প্রতিবাদের বড় চিহ্ন রাখলেন। এপর্যন্ত দেশটিতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ গিয়েছে শতাধিক আন্দোলনকারীর।



