Dilip Ghosh felicitates Samik Bhattacharya | দিলীপের ‘ঘরওয়াপসি’! শমীককে পদ্মফুলের ছবি উপহার, বললেন ‘উনিশে হাফ, ছাব্বিশে সাফ’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার ঝড় তুলল দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)-এর মঙ্গলবারের উপস্থিতি। ক্ষোভ, বিতর্ক ও অভিমান সরিয়ে রেখে রাজ্য বিজেপি দফতরে হাজির হয়ে তিনি নতুন রাজ্য সভাপতি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)-কে শুভেচ্ছা জানালেন। তিন মাসের মধ্যে তিনটি বড় সিদ্ধান্তের পর বিয়ে, দীঘা সফর ও এবার দলের দফতরে ফেরা দিলীপের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহল দেখছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টে ২০ নাগাদ বিজেপির বিধাননগর সেক্টর ফাইভ দফতরে পৌঁছন দিলীপ। নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক তখনই সেখানে ছিলেন। নির্দিষ্ট কক্ষে গিয়ে দিলীপ গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দেন শমীককে, হাতে তুলে দেন ফ্রেমবন্দি পদ্মফুলের প্রতীকের ছবি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন, “আমাদের একটাই নেতা, পদ্মফুল। তাই নতুন সভাপতিকে পদ্মফুলের ছবিই দিলাম।” পাশাপাশি ঘোষণা করেন, “উনিশে হাফ, ছাব্বিশে সাফ।” বিজেপি নেতাদের মতে, এই স্লোগানেই এখন তৃণমূল বিরোধী লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে saffron শিবির।দলীয় কর্মীরা জানাচ্ছেন, সোমবার রাত থেকেই দিলীপ অনুগামীরা খবর ছড়িয়েছিলেন যে, এদিন তিনি দফতরে আসছেন। ফলে অনেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁর সংবর্ধনার দৃশ্য দেখতে। উত্তরীয় পরিয়ে, পদ্মফুলের ছবি উপহার দিয়ে দিলীপ কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এখনও বিজেপির ‘অন্দরের মানুষ’।

দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির রাজনীতিতে থাকা শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪২ বছর। আরএসএস (RSS) থেকে উঠে আসা দিলীপের বিজেপি যাত্রা তুলনায় অনেকটাই নবীন। ২০১৫ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ২০১৬ সালে রাজ্য সভাপতি হয়েছিলেন দিলীপ। পরে বিধায়ক, সাংসদ এবং সর্বভারতীয় সহ-সভাপতিও হয়েছেন। তবে শমীক ৩ জুলাই থেকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে। বয়স এবং অভিজ্ঞতা, দুই দিক থেকেই শমীক প্রবীণ। মঙ্গলবার দিলীপ স্পষ্টভাবেই বলেন, “শমীকের নেতৃত্বেই আমরা কাজ করব।” তবে দিলীপের সাম্প্রতিক অতীত ছিল বিতর্কে ঘেরা। গত ১৮ এপ্রিল তিনি বিয়ে করেন বিজেপি কর্মী রিঙ্কু মজুমদারকে (Rinku Majumdar)। আবার ৩০ এপ্রিল দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে গিয়েছিলেন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে। সেই ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং তৎকালীন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) কটাক্ষ করেছিলেন তাঁকে। পরদিন কোলাঘাটে তাঁর চা-চক্রও কর্মীদের বিক্ষোভে বাতিল হয়। এরপর থেকে দলের সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বাড়তে থাকে দিলীপের। এমনকী শমীকের সভাপতি নির্বাচনের দিনও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটে বর্ধমান-দুর্গাপুরে পরাজয়ের পর দিলীপের ক্ষোভ চরমে ওঠে। দল তাঁকে মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। ফল প্রকাশের দিনই বলেছিলেন, “আমাকে কাঠি করা হয়েছে।” এমন আবহেই মঙ্গলবারের এই ঘরওয়াপসি বিজেপি শিবিরে নতুন জল্পনা তৈরি করছে।

দলীয় দফতরে প্রায় ৫০ মিনিট ছিলেন দিলীপ। শমীকের সঙ্গে দুই দফায় প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠকও করেন। পরে শমীক দফতরের গাড়িবারান্দায় নেমে কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “দিলীপ ঘোষ বিজেপিতে ছিলেন, বিজেপিতেই আছেন, বিজেপিতেই থাকবেন।” একই সঙ্গে আদি-নব্য বিজেপি দ্বন্দ্বে ইতি টেনে শমীক বলেন, “যাঁরা বিজেপির পতাকা ধরেছেন, তাঁদের কাউকে অন্য দলের লোক বলে দাগাবেন না। তৃণমূল বা সিপিএমের যে সমর্থকরা দুর্নীতিতে যুক্ত নন, তাঁদেরও বিজেপিতে টানতে হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপের এই উপস্থিতি একদিকে শমীকের নেতৃত্বকে মান্যতা দেওয়া, অন্যদিকে নিজের শক্তি ও প্রভাব বজায় রাখার কৌশল। বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে বিজেপি শিবিরে এই ঐক্যের বার্তা কতদূর প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে।

ছবি: সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya| শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়ে ঐক্যের সুর বিজেপিতে, তবু দিলীপ ঘোষকে এড়িয়ে গেলেন শুভেন্দু

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন