বিনীত শর্মা ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি : মঙ্গলবার নয়া দিল্লির আকাশে ভেসেছে এক নতুন পরীক্ষার ছাপ, কিন্তু সেই চিহ্ন থেকে বৃষ্টির স্পর্শ আসতে বাধা দিয়েছে। IIT Kanpur-র (Indian Institute of Technology Kanpur) তত্ত্বাবধানে দুইটি ক্লাউড সিডিং-প্রচেষ্টা চালানো হলেও, শহরের আকাশে বৃষ্টির কোনো আলোর রেখা দেখা যায়নি। তবে, সরকার দাবি করেছে পার্শ্ববর্তী নয়ডা এলাকায় ০.১ মিলিমিটার এবং গ্রেটার নয়ডায় ০.২ মিলিমিটার নগণ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, তথ্য এসেছে বেসরকারি অ্যাপ Windy-র মধ্য দিয়ে। এই পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা পরিবেশমন্ত্রী Manjinder Singh Sirsa বলেছিলেন, “বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেঘের আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বীজ বপনের পর বৃষ্টিপাত হতে পারে।” তবে আজ পর্যন্ত শহরের কোন অংশে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রথম বিমানটি দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে কানপুর থেকে ওড়েছিল এবং দুপুর ২টা ৩০-এ মীরাটে অবতরণ করে। সেখানে বীজ সংগ্রহের স্থান হিসেবে ছিল খেকরা, বুরারি, উত্তর কারোলবাগ, ময়ূরবিহার, সাদকপুর ও ভোজপুর। দ্বিতীয় বিমান বিকাল ৩টা ৪৫ থেকে শুরু হয়ে খেকরায় সিডিং করা হয় ও ফিরে আসে বিকাল ৪টা ৪৫। প্রতি অভিযানে ছিল আটটি অগ্নিশিখার ব্যবহার, প্রত্যেকটির ওজন প্রায় ০.৫ কেজি করে। উল্লেখ্য, আইআইটি কানপুরের তথ্যে দেখা যায়, বীজ বপনের পর কিছুটা হলেও বায়ু দূষণ ও ক্ষুদ্র কণার (PM2.5, PM10) মাত্রায় হ্রাস হয়েছে। ময়ূরবিহার, কারোলবাগ ও বুরারিতে PM2.5 যথাক্রমে ২২১, ২৩০ ও ২২৯ থেকে নামেছে ২০৭, ২০৬ ও ২০৩। PM10 হিসাবেও একই রকম হ্রাস ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং প্রকল্পের বিবৃতিতে বলা হয়েছে অপারেশনের সময় আর্দ্রতা মাত্র ১০-১৫ শতাংশ কম ছিল, যা বীজ সঠিকভাবে কাজ করার জন্য আদর্শ নয়।
এই উদ্যোগ আসলে প্রথমবারের মতো রাজধানী এলাকায় ক্লাউড সিডিং প্রয়োগের উদ্যোগ। দিল্লি সরকারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এই প্রকল্পে প্রায় ৩.২১ কোটি রুপির বাজেট দিয়ে, যাতে পাঁচটি পরীক্ষার মাধ্যমে বৃষ্টিপাত সৃষ্টির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রয়াস নিয়ে দু’মুখো ভাব প্রকাশ করেছেন। একদিকে এটি সাফল্য পেতে পারে বলে আশাবাদী, অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, “বীজ বপনের আগে মেঘে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও অবস্থার উপস্থিতি অত্যাবশ্যক; তা ছাড়া এই পদ্ধতি উপশম ছাড়া সমস্যা মুল কারণ দূর করতে সক্ষম নয়।”
পরিস্থিতি স্পষ্ট যে, বৃষ্টির জন্য শুধু বিমানের সিডিং-চালানাই যথেষ্ট নয়। মেঘের ঘনত্ব, আর্দ্রতা, বাতাসের প্রবাহ ও লোকেশন-প্রিবন্ধক সবই গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির আবহাওয়া এখন এমন পর্যায়ে নেই যে স্বভাবসিদ্ধভাবে বৃষ্টির সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে। তবে দিল্লি সরকারের জন্য এটি এক নতুন ঘটনা। পরিবেশমন্ত্রী সিরসা বলেন, “এটি শহরের বায়ু গুণমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নেওয়া অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রী Rekha Gupta-এর নির্দেশনায় আমরা কার্যকর ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গায় এগিয়ে যাচ্ছি।” প্রত্যক্ষায়ী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রয়াস মানুষকে নানাভাবে চমকে দিচ্ছে, বৃষ্টিপাত সাপেক্ষে স্বল্পমেয়াদি সৃষ্টিকে বায়ু দূষণ কমানোর পরিবর্তে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও জৈব বা রসায়নিক পার্শ্বপ্রভাব নিয়ে এখনো তথ্য কম। আবার পরিবেশ-উপদেষ্টা জানিয়েছেন, “এই ক্লাউড সিডিং প্রয়াস যদিও নজর কাড়বে, কিন্তু এটি প্রয়োজনীয়ভাবে যানজট, গ্যাস নিকাশি বা শিল্প ধোঁয়ার মতো দূষণের উৎস সরাতে পারছে না। তাই এটি একটি ‘সংযোজনিক মাপকাঠি’, বড় ধরনের সমাধান নয়।”
সরকার বলছে, আগামী দুই-তিন দিন আরও দুইটি ট্রায়াল করা হবে। যদি আকাশের সার্বিক অবস্থা সঙ্গত হয় এবং বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে শহরে অল্প হলেও বায়ু পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিজ্ঞান বলে, এটি একযোগে একাধিক পরীক্ষণের মধ্যেই সফল হতে পারে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্প শুধু বৃষ্টিপাত সৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি রাজধানীর বায়ু গুণমান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গবেষণা-উন্মুখ পদক্ষেপ। দিল্লির বাসিন্দাদের জন্য আজকের দিনটা মূলত শিক্ষা ও প্রত্যাশার পার্থক্যের দিন।
ছবি : সংগৃহীত




